আন্তর্জাতিক

বাবার কোলে থাকা অবস্থায় ৩ বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যা করলো ইসরায়েল

গাজার মধ্যাঞ্চলে বাবার কোলে থাকা অবস্থায় তিন বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশুকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সোমবার (১৫ জুন) এই অভিযোগ করে নিহত শিশুটির পরিবার।

Advertisement

শিশুটির নাম রায়ান আবু আল-আজিন। রোববার (১৪ জুন) বিকেলে দেইর আল-বালাহ গভর্নরেটের ওয়াদি আল-সালকা এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয় সে। 

পরিবারের সদস্যরা জানান, রায়ানের বাবা বাহা আবু আল-আজিনও হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তার পায়ে গুলি লাগে ও বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পরিবারের দাবি, ঘটনার সময় বাহা তার ছেলে রায়ানকে কোলে নিয়ে পরিবারের কৃষিখামারের দিকে যাচ্ছিলেন। তারা এমন একটি এলাকায় অবস্থান করছিলেন, যা তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’র বাইরে ও সরাসরি ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।

Advertisement

রায়ানের দাদা জাবের আবু আল-আজিন জানান, তিনি বাড়িতে ছিলেন, যা তাদের খামারের পাশেই অবস্থিত। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে তিনি বাইরে বের হন। পরে জানতে পারেন, তার ছেলে বাহা ও তার সঙ্গে থাকা আরেক আত্মীয়কে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। এরপরই তিনি জানতে পারেন যে তার নাতি রায়ান নিহত হয়েছে।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাবের বলেন, আমার নাতি রায়ান মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। গুলিটি তার মাথা ভেদ করে চোখ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। তার মা এই ঘটনায় সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন।

তিনি আরও বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার ছেলে বাহাকে ইসরায়েলি সেনা নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছিল। প্রায় সাত ঘণ্টা রক্তক্ষরণের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়।

জাবের বলেন, আমরা এখনো বাহার অবস্থা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দীর্ঘ সময় রক্তক্ষরণ হওয়ার কারণে তার অবস্থা স্থিতিশীল নয়। তার পায়ের আঘাতও অত্যন্ত গুরুতর।

Advertisement

এ ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে প্রায় এক হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া যুদ্ধের পর এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনেক হত্যাকাণ্ডই ঘটেছে তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’র আশপাশে। যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সীমাবদ্ধতার কথা থাকলেও ইসরায়েল এই এলাকা সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জাবের আবু আল-আজিন বলেন, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছে এবং ‘হলুদ রেখা’র নিকটবর্তী হওয়ায় সবসময় শঙ্কার মধ্যে থাকতে হয়।

তিনি বলেন, আমরা সাধারণ কৃষক। কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করি। আমাদের সব জমিই তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’র বাইরে অবস্থিত। তবু আমরা নিরাপদ নই।

সূত্র: আল-জাজিরা

এসএএইচ