তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতায় সিটিজেন জার্নালিজম এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে এটিকে অস্বীকার করা যেমন সম্ভব নয়, তেমনি চাইলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই এই নতুন বাস্তবতাকে কাঠামোবদ্ধ করার বিষয়ে চিন্তা করতে হবে।
Advertisement
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশে সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘নিয়মিত গণমাধ্যম, মূলধারার গণমাধ্যম এবং সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের বাইরেও এখন সিটিজেন জার্নালিজম একটি শক্তিশালী বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে এ বিষয়ে আইন পাস হয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও এ বিষয়ে খসড়া আইন করেছে।’
Advertisement
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রিন্ট মিডিয়া, টেরিস্ট্রিয়াল মিডিয়া, ডিজিটাল মিডিয়া, স্যাটেলাইট মিডিয়া, ওয়েব পোর্টালসহ নানা ধরনের গণমাধ্যমের সঙ্গে মানুষ যুক্ত। ইন্টারনেট-পূর্ব পৃথিবী এবং ইন্টারনেট-পরবর্তী পৃথিবীর মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), যা গণমাধ্যমের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের নীতিনির্ধারক, কর্মী এবং সাংবাদিকদের এসব বিষয় মাথায় রেখে ভবিষ্যতের জন্য সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।’
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সিটিজেন জার্নালিজমের ভালো-মন্দ নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। তবে কোনো গণমাধ্যম যদি নিজেকে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করে, তাহলে তাকে অবশ্যই বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরিচালিত হতে হবে। সেই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত হচ্ছে কি না, তা দেখার দায়িত্ব সরকারের।
তিনি বলেন, সব শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেবল মুনাফার জন্য পরিচালিত হয় না। গণমাধ্যমের মতো কিছু শিল্প জনকল্যাণের উদ্দেশ্যেও পরিচালিত হয়। তাই সৎ গণমাধ্যম উদ্যোক্তারা যাতে এগিয়ে আসতে পারেন, সেজন্য রাষ্ট্র তাদের প্রতি সহযোগিতামূলক মনোভাব পোষণ করবে এবং প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
Advertisement
মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদ্ভাবনী ও সৃষ্টিশীল শিল্প রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া বিকশিত হতে পারে না। সৃষ্টিশীলতা ও প্রতিভা বিকাশের জন্য রাষ্ট্র ও সমাজের সহযোগিতা প্রয়োজন, অন্যথায় সভ্যতা নতুন পথ খুঁজে পায় না।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সবকিছু সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করে যদি একটি গণমাধ্যম কমিশন এবং কোয়াসি-জুডিশিয়াল ক্ষমতাসম্পন্ন একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করা সম্ভব হয়, তাহলে তা ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী বাংলাদেশের নতুন যাত্রায় অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
ডিইউজের সভাপতি মো. শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, বাংলা ভিশনের প্রধান সম্পাদক আব্দুল হাই সিদ্দিক প্রমুখ।
আব্দুল্লাহ আল কাউছার/এমএমএআর