কান্নাকে সাধারণত দুঃখ বা মানসিক দুর্বলতার প্রকাশ হিসেবে দেখা হলেও, এটি আসলে মানসিক চাপ মোকাবিলায় শরীর ও মনের জন্য একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করতে পারে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, চোখের পানি শুধু আবেগ প্রকাশই নয়, বরং এটি কিছু শারীরিক প্রতিক্রিয়াও সক্রিয় করে যা মানসিক স্বস্তি দিতে সাহায্য করে।
Advertisement
গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী, আবেগজনিত কান্না (যেমন দুঃখ বা মানসিক চাপের কারণে কান্না) সাধারণ শারীরিক কারণে হওয়া চোখের পানির থেকে আলাদা। এই ধরনের কান্নার মাধ্যমে শরীর কিছু স্ট্রেস-সম্পর্কিত হরমোন ও রাসায়নিক পদার্থ বের করে দিতে পারে, যা মানসিক চাপের সময় শরীরে জমা হয়। ফলে কিছুটা হালকা লাগার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন মানসিক স্বাস্থ্যে সহানুভূতিই হোক সবচেয়ে বড় শক্তিএছাড়া কান্নার সময় শরীরে অক্সিটোসিন এবং এন্ডোরফিনের মতো হরমোন নিঃসৃত হতে পারে, যা ব্যথা কমাতে এবং মন ভালো করতে ভূমিকা রাখে।
কান্নার শারীরিক প্রভাবকান্না শুধু আবেগের প্রতিক্রিয়াই নয়, এটি শরীরের স্নায়ুতন্ত্রেও পরিবর্তন আনে। কান্না শুরু হলে শরীর ধীরে ধীরে ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ (চাপ বা বিপদের প্রতিক্রিয়া) অবস্থা থেকে বের হয়ে আসে। কান্না চলতে থাকলে প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় হয়, যার ফলে-
Advertisement
অন্যদিকে কান্না চেপে রাখলে অনেক সময় ভেতরের চাপ দীর্ঘ সময় ধরে থেকে যেতে পারে। তাই স্বাভাবিকভাবে কান্না প্রকাশ করতে পারলে শরীর তুলনামূলকভাবে দ্রুত শান্ত হয়।
সব কান্নাই কি উপকারী?তবে কান্না সবসময় শুধুই ইতিবাচক লক্ষণ নয়। যদি কেউ প্রায়ই অকারণে বা অতিরিক্ত মাত্রায় কাঁদে কিংবা এটি দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করতে শুরু করে, তাহলে এটি বিষণ্ণতা বা অন্য কোনো মানসিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
মানসিক স্বাস্থ্যে কান্নার ভূমিকাঅনেক গবেষণা ও স্বাস্থ্য সংস্থার মত অনুযায়ী, কান্না একটি প্রাকৃতিক ‘সেফটি ভালভ’ হিসেবে কাজ করে, যা আবেগের চাপ কমাতে সাহায্য করে। ভেতরের কষ্ট প্রকাশ না করলে তা দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুন ছুটি শেষে কাজে মন বসছে না? মানুন এই নিয়মকিছু গবেষণায় দেখা গেছে, আবেগ চেপে রাখলে তা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
Advertisement
এছাড়া কান্না অনেক সময় মানুষের মধ্যে সহানুভূতি ও আবেগীয় সংযোগ বাড়ায়, যা পরিবার ও সামাজিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন, ওয়েব এমডি
জেএস/