নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের সেই ডুপ্লেক্স বাড়ির কেয়ারটেকার রতন মিয়া মানবেতর জীবন যাপন করছেন। দুই বছর ধরে বেতন না পেয়ে পরিবার নিয়ে অভাবে দিন কাটছে।
Advertisement
আদালত কর্তৃক বাড়িটি জব্দ থাকলেও ৬ মাস ধরে সরকার পক্ষের কোনো নিরাপত্তা কর্মী নেই। ভয়ে ছাড়তেও পারছেন না দায়িত্ব। এককালীন পারিশ্রমিক পাওয়ার স্বপ্ন নিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
রতন মিয়া ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার হরিরামপুর গ্রামের খাইরুল বাশারের ছেলে। তার পরিবার পার্শ্ববর্তী গুতিয়াব এলাকায় বসবাস করেন।
জানা গেছে, প্রায় দেড় যুগ আগে কাজের সন্ধানে রূপগঞ্জে চলে আসেন তিনি। দীর্ঘদিন বিভিন্ন স্থানে দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রায় চার বছর আগে এই ডুপ্লেক্স বাড়িটি নির্মাণকাল থেকে এখানে কাজে যোগ দেন। তিনি ১৫ হাজার টাকা বেতনে কেয়ারটেকারের দায়িত্ব পান। এরই মধ্যে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের হিসাব গোপন ও অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা হয়।
Advertisement
২৬ মে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ১১৯টি জমির দলিল, ২৩টি কোম্পানির শেয়ার ও গুলশানে চারটি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দেন আদালত। সবমিলিয়ে ৬২৭ বিঘা জমি ক্রোক করা হয়েছে। এর ভেতর এ বাড়িটিও ছিল। ২০২৪ সালে আদালত কর্তৃক বাড়িটি ক্রোক হওয়ার পরে পুরোপুরি রাষ্ট্রের অধীনে চলে যায়। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক বাড়িটির সার্বিক দেখাশোনার দায়িত্ব নেন। তারপর থেকে কিছুদিন কেয়ারটেকার রতনের সঙ্গে সরকারিভাবে বাড়িটি দেখভালের জন্য একজন নিরাপত্তাকর্মী দেওয়া হয়। এভাবে কিছুদিন চললেও চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে রিসিভার কর্তৃক প্রদত্ত নিরাপত্তা কর্মী দেওয়া বন্ধ রয়েছে। তবে বিশাল আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়িটি সরকারি হেফাজতেই রয়েছে।
কেয়ারটেকার রতন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘২০২২ সালের দিকে তিনি ১৫ হাজার টাকা বেতনে কেয়ারটেকারের দায়িত্ব পান। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের পর থেকে তার বেতন আটকে যায়। এরই মধ্যে ২৬ মে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামের সবমিলিয়ে ৬২৭ বিঘা জমি আদালত ক্রোক করা করে। এর ভেতর এ বাড়িটিও ছিল। সেই থেকে কিছুদিন আমার সঙ্গে একজন সরকার পক্ষের নিরাপত্তা কর্মী ছিল। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে সরকারি ভাবে নিরাপত্তা কর্মী দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এখন আমি একাই এ বাড়িটি দেখভাল করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুই বছরের বেশি হলো আমি বেতন পাই না। আমাদের তিনজনের সংসার। ছেলেটা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। আমার স্ত্রী বাড়িতে কুটির শিল্পের কাজ করে। সেই আয় দিয়েই সংসার কোন মতো চলে। পরিবার নিয়ে কষ্ট করে চললেও ভয়ে এ বাড়িটি ছাড়তে পারছি না। কারণ মালিকের সম্পদ নিয়ে ঝামেলা হওয়ার পর এই বাড়িতে দুদকের লোকজন এসেছেন, আমার ছবি ও আইডি কার্ড নিয়েছেন। আমি চলে গেলে এ বাড়িতে যদি কোনো ক্ষয়-ক্ষতি হয় সেই ভয় থেকে ছেড়ে যাচ্ছি না।’
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজ কে বলেন, ‘বাংলো বাড়িটিতে আদালত থেকে রিসিভার নিয়োগ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে এটি দেখাশোনা করছি। কোর্ট তো আর টাকা দেয়নি, কোর্ট বলেছে ম্যানেজমেন্ট করেন। গ্রাম পুলিশ সদস্যরা এখানে দেখাশোনা করছে। তাদের জন্য তো আমরা এক্সট্রা কোনো ফেসিলিটি কিংবা স্যালারি দিতে পারছি না। কোর্ট যেভাবে বলেছে সেভাবে কাজ করছি।
Advertisement
নাজমুল হুদা/এএইচ/এএসএম