দেশজুড়ে

খাতা-কলমে ফ্রি, টেস্টের টাকা জমা হয় টেকনোলজিস্টের পকেটে

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের ইনচার্জ ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মিজবাহ উদ্দীন নিজুমের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ‘ফ্রি মেডিকেল টেস্টের’ সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে রোগীদের থেকে অর্থ নেওয়া এবং সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Advertisement

ভুক্তভোগীদের থেকে জানা গেছে, হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী প্যাথলজি বিভাগের কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা ‘ফ্রি’ বা বিনামূল্যে করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু টেকনোলজিস্ট নিজুম এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের আয়ের উৎস বানিয়েছেন। তিনি রোগীদের ফ্রি টেস্টের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেন। কিন্তু রশিদবিহীন নেওয়া সেই টাকা সরকারি হিসাবভুক্ত হয় না।

অভিযোগের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার না করে প্যাথলজি ইনচার্জ মিজবাহ উদ্দীন নিজুম জাগো নিউজকে বলেন, মানবিক কারণে কিছু রোগীর জন্য আমি এ ধরনের ব্যবস্থা করেছি। হাসপাতালের পরিচালকের থেকে কয়েকটি ফ্রি টেস্টের অনুমোদনও করিয়ে নিয়েছি। বাকি টেস্টগুলোর অনুমোদনও পরবর্তীতে করিয়ে নেওয়া হবে।

এদিকে আর্থিক অনিয়ম ছাড়া মিজবাহ উদ্দীনের বিরুদ্ধে রয়েছে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ।

Advertisement

হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিজুম স্থানীয় এলাকার প্রভাব খাটিয়ে সহকর্মীদের ওপর সবসময় কর্তৃত্ব বিস্তার করে চলেন। এছাড়া তিনি নিয়মিত ও সময়মতো অফিসে উপস্থিত হন না।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. নাছিরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, কিছুদিন আগে একজন আমাকে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তখন আমি তাকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত উপপরিচালক বলতে পারবেন।

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মচারী ফ্রি পরীক্ষা-নিরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন না। এছাড়া যদি ফ্রি পরীক্ষার নামে অর্থ আদায় করা হয়ে থাকে এবং সেই অর্থ সরকারি রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত না করা হয়ে থাকে, তাহলে সেটিও গুরুতর অনিয়ম। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ডা. মো. নাজমুল করিম বলেন, হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এ ধরনের ফ্রি পরীক্ষা-নিরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন না। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের উপপরিচালকের সঙ্গে কথা বললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

এসকে রাসেল/এনএইচআর/এএসএম