গণমাধ্যম

গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল জায়গায় দাঁড় করাতে সঠিক নীতিমালা প্রয়োজন

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল জায়গায় দাঁড় করানোর জন্য সঠিক নীতিমালা প্রয়োজন। গণমাধ্যম সঠিক ভূমিকা পালন করলে রাষ্ট্র ও ক্ষমতা সবসময় জবাবদিহিতার মুখে থাকবে। ফলে দেশের মানুষ এর সুফল পাবে। এই নীতিগত বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়কে গাইড করার জন্য সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম থাকা প্রয়োজন।

Advertisement

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ডিইউজের সভাপতি মো. শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, বাংলা ভিশনের প্রধান সম্পাদক আব্দুল হাই সিদ্দিক প্রমুখ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৪ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় শাসন কায়েম করে গণমাধ্যমকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছিল। ৫১ বছর পর আজ সংবাদপত্রের সেই কালো দিবসের সালতামামি করতে গিয়ে আমাদের বুঝতে হবে। এখনকার সংকট আর তখনকার সংকট এক নয়। তৎকালীন রাষ্ট্র চোখ রাঙিয়ে কথা বলত, কিন্তু বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার গণমাধ্যমের সমস্যা সমাধানে অংশীদার হিসেবে কাজ করতে চায়।

Advertisement

বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এখনকার তথ্যপ্রযুক্তির যুগে প্রতিনিয়ত অসত্য ও বিকৃত তথ্য উৎপাদিত হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে শতকোটি মানুষের কাছে তা মুহূর্তেই পৌঁছে যাচ্ছে। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের নামে বিকৃত চিত্র ও তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। তাই শুধু অতীতের সমস্যার আলাপে আটকে না থেকে, সংকটের এই নতুন চেহারাকে অনুভব করে সমাধানের পথ তৈরি করতে হবে।

গণমাধ্যমকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনার ওপর জোর দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার যতই স্বাধীনতা দিক, মালিকপক্ষ যদি সাংবাদিকদের স্বাধীনতা, সঠিক বেতন ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ না দেয়, তবে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন। একটি নির্বাচিত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র শুধু তাকিয়ে দেখতে পারে না। তাই সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও জানান, গণমাধ্যমের সামগ্রিক সমস্যা সমাধানের জন্য একটি ‘ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান’ (জাতীয় কর্মপরিকল্পনা)-এর খসড়া তৈরি করতে আগামী ১৮ জুন অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এডিটরস কাউন্সিল, অ্যাটকো এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে এরই মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং শিগগিরই বিএফইউজে, ডিইউজে ও প্রেসক্লাবের সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান যুগের গণমাধ্যমের সংকট ও চ্যালেঞ্জ অতীতের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রযুক্তির উৎকর্ষ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) এই যুগে গণমাধ্যমের সামনে যে নতুন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা গভীরভাব উপলব্ধি করে উদ্ভাবনী উপায়ে তার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

Advertisement

ডিজিটাল যুগে ‘সিটিজেন জার্নালিজম’ বা নাগরিক সাংবাদিকতার বাস্তবতাকে অস্বীকার করার উপায় নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ( যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন) এ সংক্রান্ত আইন ও খসড়া তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশেও প্রিন্ট, টেরিস্ট্রিয়াল, ডিজিটাল ও স্যাটেলাইট মিডিয়াসহ সমস্ত মাধ্যমকে সুশৃঙ্খল করতে হবে। গণমাধ্যমকে যারা শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করবেন, তাদের প্রচলিত আইন মেনে কর্মীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, সৎ ও সৃজনশীল শিল্প উদ্যোক্তাদের রাষ্ট্র ইনসেনটিভ বা বিশেষ সহযোগিতা দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।

তথ্যমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জুডিশিয়াল ক্ষমতাসহ একটি শক্তিশালী ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন করা সম্ভব হলে, এটি হবে ফ্যাসিবাদ-উত্তর বাংলাদেশের নতুন যাত্রার সবচেয়ে শক্তিশালী ও যুগান্তকারী প্রতিষ্ঠান।

আরএএস/এমএমএআর