দেশজুড়ে

গাইবান্ধায় নদীভাঙন রক্ষা কাজে অনিয়মের অভিযোগ

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের ঘাঘট নদীভাঙন রক্ষা প্রকল্প কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের ফেব্রিক্সের জিওব্যাগ ও ভাঙন স্থানে মেশিন বসিয়ে নদী থেকেই বালু উত্তোলন করায় ফের ভাঙনের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

Advertisement

সরেজমিনে দেখা যায়, সাদুল্লাপুরের দামোদরপুর ইউনিয়নের সিট জামুডাঙ্গার মুন্সীপাড়া ও পাটনীপাড়া নামক স্থানে নদীভাঙন রক্ষা প্রকল্প কাজের ওইসব অনিয়মের দৃশ্য দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘাঘট নদীর তীব্র ভাঙনে নদী তীরের মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। ভাঙন ঝুঁকিতে ভুগছেন আরও কিছু পরিবার। ভুক্তভোগীদের দীর্ঘ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শুরু হয় ভাঙন রক্ষা প্রকল্পের কাজ। এ কাজের বালু জোগান দেওয়ার দায়িত্ব পান স্থানীয় হাসেন আলী হাসান। তিনি জিও ব্যাগের জন্য বালু অন্যত্র থেকে না এনে নদীর ভাঙন স্থানেই বসিয়েছেন শ্যালো মেশিন। এখানে রাতভর মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় আবারও দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। একইসঙ্গে মিশনের বিকট শব্দে নির্ঘুম রাত কাটছে নদীপারের মানুষদের।

স্থানীয় ভুক্তভোগী মিম ও দুলালী বেগম বলেন, ‘কথিত হাসেন আলী হাসান দীর্ঘ দিন ধরে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বাণিজ্য করে আসছেন। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কতিপয় ব্যক্তির সঙ্গে আতাঁত করে নদীভাঙন রক্ষা কাজের দায়িত্ব পান হাসেন আলী। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভাঙন রক্ষা স্থানে নদীতে মেশিন বসিয়ে বালু সরবরাহ করছেন তিনি। এতে করে সাময়িক ভাঙন রোধ হলেও তা টেকসই হচ্ছে না। কিছুদিন পরে আবারও জিওব্যাগ ফেটে ও ধসে পড়ে ভাঙন সৃষ্টি হচ্ছে।’

Advertisement

অভিযুক্ত হাসেন আলী হাসান বলেন, ‘ইতোপূর্বেও ভাঙন স্থানের নদী থেকেই বালু তুলে ভাঙন রক্ষার কাজ করা হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় মুন্সীপাড়া ও পাটনীপাড়ায় ভাঙন রক্ষায় নদী থেকেই বালু তোলা হচ্ছে।’

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ভাঙন রক্ষায় নদীতে মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব আমার না। এ বিষয়ে ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’

সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেন। তারপরও খতিয়ে দেখার চেষ্টা করব।’

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বারো-তেরো লাখ টাকার কাজেও আপনারা যান। এটা জরুরি ফান্ডের কাজ। প্রতিবেদককে নিউজ না করারও অনুরোধ করেন।’

Advertisement

আনোয়ার আল শামীম/এএইচ/এএসএম