আমি আপনাদের এমন একটি সহজতম ইবাদতের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, যা একই সাথে আবার সবচেয়ে কঠিনও বটে। এটি সহজ কারণ এতে কোনো শারীরিক পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় না, কিন্তু এটি কঠিন কারণ এর অবস্থান মানুষের মনে ও চিন্তায়। আর সেই ইবাদতটি হলো—আল্লাহ তাআলার প্রতি ‘হুসনে জান্ন’ বা উত্তম ধারণা পোষণ করা।
Advertisement
ইবাদতের অন্যতম সর্বোচ্চ স্তর হলো আমাদের বাস্তব পরিস্থিতিগুলোকে সর্বদা আল্লাহর প্রতি ইতিবাচক ও উত্তম ধারণার সাথে জুড়ে দেওয়া। আপনি যখন আর্থিক অনটনে ভুগছেন, যখন কোনো পারিবারিক বা দাম্পত্য কলহের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, কিংবা আপনার সন্তানরা যখন কোনো সমস্যায় পড়েছে—তখন সেই কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজের ভেতরের কষ্ট ও সংগ্রামকে আল্লাহর প্রতি উত্তম ধারণার সাথে যুক্ত রাখা অত্যন্ত কঠিন কাজ; অথচ এটিই ইবাদতের সর্বোচ্চ স্তরগুলোর একটি।
আপনি যদি আপনার মনকে পরিষ্কার রাখতে পারেন, নিজের চিন্তাভাবনাকে পরিচ্ছন্ন করতে পারেন, তবে আপনি এমন এক উপায়ে আল্লাহর ইবাদত করছেন যা অন্যান্য শারীরিক ইবাদতের চেয়েও কঠিন এবং কেবল এই ইতিবাচক চিন্তার জন্যই আপনি অনেক বেশি সওয়াব বা পুরস্কার লাভ করবেন। প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহর প্রতি উত্তম ধারণা পোষণ করা আল্লাহর প্রতি ইমানেরই একটি অংশ।
কোরআন বলছে, আল্লাহর প্রতি মন্দ বা নেতিবাচক ধারণা পোষণ করা মুনাফিক এবং কাফেরদের কাজ। আপনারা কোরআন পড়লেই দেখতে পাবেন, তারা আল্লাহর প্রতি কুধারণা পোষণ করত। এই ধরনের চিন্তাভাবনা আসে মূলত নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ করার মানসিকতা থেকে। তারা নিজেদের ভাগ্যকে দোষ দেয় এবং বলে, 'আমাদের তো কিছু করার নেই, আল্লাহ আমাদের জন্য এটাই নির্ধারণ করে রেখেছেন।' আল্লাহ তাআলা বলেন, এই ধরনের চিন্তাভাবনা এমন মন থেকে আসে যা ইসলামের অংশ হওয়া উচিত নয়।
Advertisement
আল্লাহর প্রতি উত্তম ধারণা বা 'হুসনে জান্ন' বলতে আসলে কী বোঝায়? আল্লাহর প্রতি উত্তম ধারণা রাখার মানে এই নয় যে, আপনার সাথে খারাপ কিছু ঘটলে আপনাকে জোর করে খুশি হতে হবে। আল্লাহর প্রতি উত্তম ধারণার প্রথম অর্থ হলো, আপনি মনে-প্রাণে এটি মেনে নেবেন যে, যা কিছু ঘটছে তা একটি ঐশী বা খোদায়ী পরিকল্পনার (Divine Plan) অংশ হিসেবেই ঘটছে। কোরআনে যখন মুনাফিকদের কথা বলা হয়েছে, তারা ওহুদের যুদ্ধের পর বলেছিল, 'তোমরা যদি আমাদের কথা শুনতে, তবে তোমাদের আজ প্রাণ হারাতে হতো না; আমাদের কথা শুনলে এমনটা ঘটত না।' এর অর্থ হলো, তারা আসলে আল্লাহর তাকদির বা ফয়সালার ওপর প্রকৃত বিশ্বাস রাখেনি। আল্লাহ তাআলা আমাদের ‘মাওলা’ বা অভিভাবক। আল্লাহ আমাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তা ছাড়া অন্য কোনো কিছুই আমাদের ওপর আপতিত হবে না।
আরও পড়ুন ড. ইয়াসির ক্বাদি / ফুটবল বিশ্বকাপ: মুসলমান হিসেবে আমাদের করণীয়সুতরাং জীবন যখন কঠিন হয়ে পড়ে, তার মানে হলো এর পেছনে আল্লাহর কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এর মানে এই নয় যে আপনাকে আনন্দিত হতে হবে। চাকরি হারালে কেউ খুশি হয় না, দাম্পত্য জীবনে সমস্যা চললে কেউ আনন্দ পায় না, কিংবা সন্তানরা অবাধ্য হলে কোনো বাবা-মা খুশি হন না। কিন্তু আপনি নিজের মনে এই চিন্তা রাখবেন যে, এর পেছনে অবশ্যই কোনো হিকমত বা প্রজ্ঞা লুকিয়ে আছে এবং সেই প্রজ্ঞা বা কল্যাণটুকু পাওয়ার জন্য আমাকে আমার ভালো কাজগুলোকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। আপনি কীভাবে আপনার ভালো কাজগুলোকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাবেন? আপনি মনে এই প্রবল আশা ও ধারণা রাখবেন যে, এই কঠিন অভিজ্ঞতার শেষ পরিণতিতে মন্দের চেয়ে কল্যাণের পরিমাণই অনেক বেশি হবে।
উত্তম ধারণা রাখার অর্থ এই নয় যে আপনি আপনার চারপাশের খারাপ পরিস্থিতিকে অবহেলা বা অগ্রাহ্য করবেন, কিংবা কষ্ট পাবেন না। খারাপ কিছু ঘটলে আমরা সবাই কম-বেশি কষ্ট পাই। তাহলে আল্লাহর প্রতি 'হুসনে জান্ন' আসলে কী? তা হলো এই বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ তাআলা এই দুনিয়াতেও আমাকে যা দান করবেন, তা আমার হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া জিনিসের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান হবে। আপনার মনে দুঃখ আসবে, দুশ্চিন্তা আসবে, আপনি শোকাহত হবেন; কিন্তু ভেতরের দিক থেকে আল্লাহর প্রতি আপনার চিন্তাটা সবসময় ইতিবাচক থাকবে।
আর এই বিশ্বাসের একটি বড় বহিঃপ্রকাশ ঘটবে আপনার কথা-কাজ ও আচার-আচরণে। আপনি একজন মুনাফিকের মতো অনবরত অভিযোগ করতে থাকবেন না যে, 'কেন আমার সাথেই এমন হচ্ছে? এটা অবিচার! হে আল্লাহ, তুমিই আমার সাথে এটা করলে।' এটি আল্লাহর প্রতি উত্তম ধারণা নয়।
Advertisement
নবী করীম (সা.) তাঁর শিশুপুত্র ইব্রাহিমের ইন্তেকালে অত্যন্ত দুঃখিত হয়েছিলেন, তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল; কিন্তু তিনি বলেছিলেন, 'আমরা কেবল তা-ই বলব যা আমাদের রব পছন্দ করেন। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই দিকে ফিরে যাব।'
তায়েফের সেই নির্মম ঘটনার পর নবীজি (সা.) বলেছিলেন, 'হে আল্লাহ, আমি জানি না কেন এমনটা ঘটছে, তবে তুমি যদি আমার ওপর অসন্তুষ্ট না হও, তাহলে এতেই আমি সন্তুষ্ট। তবে তুমি যদি এই দুনিয়াটাকে আমার জন্য সহজ করে দাও।' সুতরাং এর অর্থ এই নয় যে আপনাকে সবকিছু বুঝতেই হবে বা খুশি হতেই হবে; এর অর্থ হলো আপনার সমস্ত বেদনা ও ট্র্যাজেডিকে আল্লাহর ইচ্ছার সাথে জুড়ে দেওয়া এবং আল্লাহর কাছে এই আশা রাখা যে, তিনি আপনার কাছ থেকে যা কেড়ে নিয়েছেন তার চেয়ে বহুগুণ বেশি আপনাকে ফিরিয়ে দেবেন।
আরও পড়ুন ইমান ও নেক আমলের প্রতিদানতাই আপনি যখন কোনো সংকটে পড়বেন, কোনো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন, আপনার সেই কষ্টকে আল্লাহর সাথে জুড়ে দিন, আল্লাহর রহমতের আশা রাখুন, আল্লাহর ক্ষমার আশা রাখুন এবং আপনার পরিস্থিতির একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করুন।
আপনারা সবাই সম্ভবত সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত সেই বিখ্যাত হাদিসে কুদসি জানেন, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা পোষণ করে, আমি তার সাথে ঠিক তেমন আচরণই করি। সে যখন আমার প্রতি উত্তম ধারণা রাখে, সে আমার কাছ থেকে উত্তম আচরণই পাবে। আর সে যখন নেতিবাচক ধারণা রাখবে, তখন সে তেমনটাই পাবে।’
কেন এমন হয়? কারণ আপনার যখন আল্লাহর ওপর পূর্ণ ইমান থাকবে, তখন আপনি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আল্লাহর ওপর ভরসা বা তাওয়াক্কুল করবেন এবং আপনার চিন্তাভাবনাও ইতিবাচক হয়ে যাবে। আপনি তখন জানবেন যে, আল্লাহ আপনাকে এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিচ্ছেন আপনাকে সম্মানিত করার জন্য, শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়; আপনাকে বরকত দেওয়ার জন্য, অপমান করার জন্য নয়। আল্লাহ আপনাকে কষ্টের মুখোমুখি করেছেন কারণ আপনার জন্য তাঁর চমৎকার কোনো পরিকল্পনা রয়েছে, এমন নয় যে তিনি আপনাকে পরিত্যাগ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনার আগামীকাল আপনার গতকালের চেয়ে অনেক সুন্দর হবে। আপনি যখন আল্লাহর প্রতি এ রকম ভালো ধারণা রাখবেন, আল্লাহ তাআলা আপনাকে তা-ই দান করবেন যা আপনি আশা করেন, কারণ এটিই ইমানের দাবি।
আর যখন আপনি মুনাফিকদের মতো আচরণ করবেন যে, 'কেন এমন হলো? এটা ঠিক না। আমি তো কিছুই করতে পারছি না, আল্লাহ আমার জন্য খারাপ কিছুই বেছে নিয়েছেন। লোকেরা যদি আমার কথা শুনত তবে এমন হতো না'—তখন আপনি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর ফয়সালার প্রতি নিজের ইমানের ঘাটতি প্রকাশ করে ফেলছেন।
সর্বশেষ আরেকটি পয়েন্ট হলো, আল্লাহর প্রতি উত্তম ধারণা পোষণ করার বিষয়টি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আরেকটি ধারণার সাথে যুক্ত, যাকে বলা হয় আশাবাদ ও ইতিবাচক চিন্তা। ইতিবাচক চিন্তা বা আশাবাদকে নবীজি (সা.) ইমানের একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই আশাবাদ হলো, আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া যে কোনো কিছুর মধ্যে একটি ইতিবাচক লক্ষণ খুঁজে নেওয়া। আপনি যে কোনো কিছুর মাঝে এই অর্থ খুঁজে নেবেন যে—আল্লাহ আমাকে এর মাধ্যমে কোনো একটি গোপন বা লুকানো বার্তা পাঠাচ্ছেন, এবং সেই লুকানো বার্তাটি অবশ্যই কল্যাণকর ও ইতিবাচক।
সিরাত পড়তে গিয়ে আমরা দেখি, নবী করীম (সা.) বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ভালো আশা করতেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর উত্তম আশাবাদকে বাস্তবে রূপ দিতেন। কেন? কারণ তিনি যখন ভালো আশা করেছেন, আল্লাহর ওপর ভরসা রেখেছেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাও তাঁর ইমান ও উত্তম আশাবাদের প্রতিদান দিয়েছেন। আল্লাহ পরম দয়ালু, ভালোবাসাময়, অত্যন্ত মর্যাদাবান ও দাতা।
আরও পড়ুন গারে সাওরে নবিজির (সা.) অবিচলতাআপনাদের একটি সাধারণ উদাহরণ দিই; আপনার ছেলে বা মেয়ে যখন সত্যিই কোনো ভুল বা অন্যায় কাজ করে ফেলে এবং এরপর যদি সে কেঁদে কেঁদে আপনার কাছে এসে বলে—'বাবা/মা, আমি খুব বড় ভুল করে ফেলেছি, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দাও'—তখন কি আপনার ভেতরের ভালোবাসা উথলে ওঠে না? সন্তান যখন চোখে পানি নিয়ে ক্ষমা চায়, তখন কোনো বাবা-মার পক্ষেই কি তার প্রতি ক্ষোভ বা রাগ ধরে রাখা সম্ভব?
যদি মানুষের ভালোবাসার গভীরতা এমন হয়, তবে নিজের সৃষ্টির প্রতি মহান আল্লাহর ভালোবাসা কত গভীর হতে পারে! যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাঁর বান্দাকে একটি সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসার চেয়েও কোটি গুণ বেশি ভালোবাসেন। আপনি যখন আল্লাহর দিকে মুখ ফেরাবেন, ঠিক একটি অবুঝ শিশুর মতো যে ভালো করেই জানে তার মা তার যত্ন নেবেই, তার বাবা-মা তাকে আগলে রাখবেই—এবং আপনি যখন মনে-প্রাণে বিশ্বাস করবেন যে 'আমার আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই এবং তিনিই আমার দেখভাল করবেন', তখন আল্লাহ তাঁর অসীম মহত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব এবং পূর্ণতার খাতিরে আপনাকে কখনো হাত খালি ফেরে দেবেন না যখন আপনি সত্যিকারের হৃদয় নিয়ে তাঁর দিকে ফিরে এসেছেন।
আর এই কারণেই, আল্লাহর প্রতি 'হুসনে জান্ন' বা উত্তম ধারণা রাখা হলো ইমানের অন্যতম বড় আলামত এবং আপনার বর্তমান পরিস্থিতিকে বদলে দেওয়ার সবচেয়ে সহজতম একটি মাধ্যম।
মানুষ বলে থাকে, যেকোনো পরিবর্তনের শুরুটা হয় মানুষের মগজ বা চিন্তা থেকে। ইসলামের ক্ষেত্রে এই কথাটি শতভাগ সত্য। পরিবর্তনটা শুরু হয় নিজের ভেতর থেকে। আল্লাহর প্রতি আপনার মনোভাব বদলে ফেলুন, আপনার চারপাশে যা ঘটছে তার প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করুন। আপনি যখন তা করতে পারবেন, তখনই আপনি প্রমাণ করবেন যে আপনার মধ্যে প্রকৃত ইমান রয়েছে যা কেবল এমন একটি হৃদয়েই থাকতে পারে যে হৃদয় আল্লাহকে গভীরভাবে বিশ্বাস করে। আর যখন আল্লাহর প্রতি আপনার সেই নিখাদ বিশ্বাস থাকবে, তখন আল্লাহ আপনাকে তা-ই দেবেন যা আপনি চান, কারণ সেটিই আল্লাহর শান ও বৈশিষ্ট্য।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সবাইকে সুদৃঢ় ইমান দান করুন। তিনি আমাদের তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা সর্বদা তাঁর প্রতি উত্তম ধারণা পোষণ করে এবং আমাদের আশাবাদী ও ইতিবাচক মনের অধিকারী মানুষ হিসেবে কবুল করুন। আমীন।
লেখক: ড. আবু আম্মার ইয়াসির ক্বাদি পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত আমেরিকান মুসলিম লেখক এবং পশ্চিমা বিশ্বে বহুল পরিচিত অন্যতম ইসলামিক শিক্ষামুলক প্রতিষ্ঠান, আল-মাগরিব ইন্সটিটিউটের একাডেমিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ডিন। তিনি ইসলাম ও সমসাময়িক সাম্প্রতিক ইসলামিক বিষয়াবলির উপর উপর বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন এবং লেকচার দিয়েছেন। ২০১১ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস ম্যাগাজিনের একটি প্রতিবেদনে ইয়াসির ক্বাদিকে ‘আমেরিকান মুসলমানদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সূত্র: ইউটিউব চ্যানেল EPIC MASJID-এ প্রকাশিত ড. ইয়াসির ক্বাদির জুমার খুতবা থেকে লেখাটি তৈরি করা হয়েছে।
ওএফএফ