ফুটবল ম্যাচ মানেই আবেগ, উত্তেজনা আর অনিশ্চয়তা। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে এই উত্তেজনা কখনো কখনো অতিরিক্ত চাপ, অস্থিরতা বা উদ্বেগে পরিণত হয়-যাকে অনেকে ফ্যান অ্যাংজাইটি বলে থাকেন। বিশেষ করে প্রিয় দল খেললে হার-জিতের চিন্তা, লাইভ স্কোরের টান, এবং শেষ মুহূর্তের ড্রামা মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। এই অনুভূতি স্বাভাবিক হলেও, নিয়ন্ত্রণে না রাখলে এটি খেলা উপভোগের আনন্দ নষ্ট করে দিতে পারে।
Advertisement
খেলা দেখার সময় আমরা অনেক সময় আবেগের সঙ্গে অতিরিক্তভাবে জড়িয়ে পড়ি। প্রিয় দলের সঙ্গে নিজের পরিচয় মিশিয়ে ফেলি। ফলে দল হারলে সেটাকে ব্যক্তিগত ব্যর্থতার মতো মনে হতে পারে। আবার লাইভ ম্যাচে প্রতিটি মুহূর্ত অনিশ্চিত হওয়ায় মস্তিষ্ক ক্রমাগত চাপের মধ্যে থাকে। এই কারণেই হার্টবিট বেড়ে যাওয়া, অস্থির লাগা বা টেনশন অনুভব করা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করুনঅস্থিরতা শুরু হলে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়া। গভীরভাবে শ্বাস নিয়ে কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে আবার ধীরে ছাড়ুন। এই পদ্ধতি শরীরের নার্ভাস সিস্টেমকে শান্ত করে এবং তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। ম্যাচের টানটান মুহূর্তে কয়েকবার এই অনুশীলন করলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে আসে।
লাইভ স্কোর ও অতিরিক্ত স্ক্রলিং এড়িয়ে চলুনঅনেকেই একসঙ্গে টিভি, মোবাইল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ম্যাচ ট্র্যাক করেন। এতে তথ্যের চাপ বেড়ে গিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে। বিশেষ করে কমেন্ট সেকশনের নেতিবাচক আলোচনা বা ট্রল মানসিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে। তাই খেলা দেখার সময় একটিমাত্র সোর্সে মনোযোগ রাখাই ভালো।
Advertisement
খেলা দেখার সময় দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, ক্যাফেইন বেশি খাওয়া বা খালি পেটে থাকা অস্থিরতা বাড়াতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করুন, হালকা খাবার খান এবং মাঝে মাঝে শরীর নড়াচড়া করুন। শরীর স্বাভাবিক থাকলে মনও তুলনামূলক স্থির থাকে।
একা না দেখে বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে দেখুনবন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে খেলা দেখলে মানসিক চাপ অনেক কমে যায়। আনন্দ ভাগাভাগি করা যায়, আবার হতাশাও একা বহন করতে হয় না। একসঙ্গে চিৎকার, হাসি বা আলোচনা ম্যাচের আবেগকে স্বাস্থ্যকরভাবে প্রকাশ করতে সাহায্য করে।
ফলাফল মেনে নিনফ্যান অ্যাংজাইটির বড় কারণ হলো ফলাফলের ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। বাস্তবে খেলায় জয়-পরাজয় অনিশ্চিত। এই বিষয়টি মেনে নিলে মানসিক চাপ অনেক কমে যায়। আপনি খেলা উপভোগ করতে পারেন, কিন্তু ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না, এই বাস্তবতা মনে রাখা জরুরি।
আরও পড়ুন রাত জেগে খেলা দেখার সময় যেসব খাবার খাবেন নিজেকে বোঝানোফুটবল আবেগের খেলা হলেও এটি শেষ পর্যন্ত একটি বিনোদন। প্রিয় দল হারলেও সেটি জীবনের বড় কোনো ক্ষতি নয়, এই মানসিকতা তৈরি করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। খেলা উপভোগ করার লক্ষ্য রাখলে চাপ কমে যায়।
Advertisement
বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে ফ্যান অ্যাংজাইটি খুবই সাধারণ একটি বিষয়। কিন্তু কিছু ছোট অভ্যাস পরিবর্তন করলেই এই অস্থিরতা সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ, সোশ্যাল মিডিয়া সীমিত ব্যবহার, স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে খেলা দেখার অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে আরও আনন্দদায়ক ও চাপমুক্ত।
সূত্র:হেলথলাইন, বিবিসি ও অন্যান্য
এসএকেওয়াই