আন্তর্জাতিক

শিগগির ‘পার্স-২’ ও ‘শহিদ সোলেইমানি’ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ

যুদ্ধের পেরিয়ে নতুন গতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ইরানের মহাকাশ কর্মসূচি। এর ধারাবাহিকতায় খুব শিগগির ‘পার্স-২’ (Pars-2) স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান। এছাড়া চলতি বছরের শেষ নাগাদ মহাকাশে ‘শহিদ সোলেইমানি’ স্যাটেলাইট মোতায়েনের পরিকল্পনা চলছে।

Advertisement

বুধবার (১৭ জুন) দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী সাত্তার হাসেমি এ ঘোষণা দিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে প্রেস টিভি।

ইরানের মহাকাশ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মহাকাশ খাতে অর্জিত সাফল্যের প্রশংসা করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী সাত্তার হাসেমি। বৈঠকে ইরানি মহাকাশ সংস্থার প্রধান হাসান সালারিয়েহ উপস্থিত ছিলেন।

হাশেমি বলেন, মহাকাশ প্রযুক্তিতে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কৌশলগত। এই খাত স্মার্ট কৃষি, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং তথ্যভিত্তিক সুশাসনের উন্নয়নে ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও ইরানের মহাকাশ অবকাঠামোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকার বিষয়টিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন হাসেমি।

Advertisement

মন্ত্রী জানান, ‘পার্স-২’ স্যাটেলাইটকে কক্ষপথে স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা চলছে। এই স্যাটেলাইটটি ইরানি মহাকাশ সংস্থা নির্মাণ করেছে। এটি একটি উন্নত ও উচ্চ-নির্ভুলতাসম্পন্ন পৃথিবী পর্যবেক্ষণ ও দূর অনুধাবন (রিমোট সেন্সিং) স্যাটেলাইট, যার মূল কাজ হবে পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ। ‘শহিদ সোলেইমানি’ স্যাটেলাইট বছরের শেষ নাগাদ উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত হবে।

হাশেমি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর মহাকাশ খাত পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি।

অন্যদিকে ইরানি মহাকাশ সংস্থার প্রধান হাসান সালারিয়েহ বলেন, যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও দেশের মহাকাশ প্রকল্পগুলো দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ইরানের মহাকাশ অবকাঠামো বিকেন্দ্রীভূত হওয়ায় কোনো একক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করেই পুরো ব্যবস্থা অচল করা সম্ভব নয়। যুদ্ধকালেও স্যাটেলাইট যোগাযোগ, তথ্য গ্রহণ এবং চিত্র সংগ্রহের মতো সেবাগুলো স্বাভাবিকভাবে চালু ছিল।

সালারিয়েহ জানান, ‘শহীদ সোলেইমানি’ নক্ষত্রমণ্ডল প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে এবং এর উৎক্ষেপণ শিগগির অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরানি বর্ষপঞ্জির ১৪০৫ সালের মধ্যেই ( ২০ মার্চ ২০২৭) প্রকল্পটি সম্পন্ন হবে।

Advertisement

কেএম