নরসিংদীর শিবপুরে বসতঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মো. বিল্লাল হোসাইন (৫০) নামে এক শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
Advertisement
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলার কলেজগেট স্কুলসংলগ্ন ভাড়াবাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় টেবিলে পড়ে থাকা একটি চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত বিল্লাল হোসাইন গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার গোসিংগা গ্রামের মৃত হাসান আলীর ছেলে। তিনি শিবপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি এ স্কুলে যোগ দিয়েছিলেন।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সকালে নিহত বিল্লাল হোসেনের ছেলে কলেজে যান এবং তার স্ত্রী মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যান। পরে দুপুরে স্ত্রী বাড়িতে ফিরে ঘরের দরজা-জানালা সব ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। এ সময় প্রতিবেশীসহ তারা অনেক ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে একপর্যায়ে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মো. বিল্লাল হোসাইনকে দেখতে পায়।
Advertisement
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ নামিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে কক্ষের টেবিল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
শিবপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর উদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কষ্টকর। কেন তিনি আত্মহত্যা করলেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন।
শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া বলেন, ওই শিক্ষকের ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় টেবিলের পাশ থেকে চিরকুটও উদ্ধার করা হয়। চিরকুটের লেখা শিক্ষকের কিনা তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। আর তদন্তের স্বার্থে চিরকুটের লেখা প্রকাশ করা হচ্ছে না। আত্মহত্যার পেছনে পারিবারিক নাকি অন্য কোনো কারণ আছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় কোনো অভিযোগ করেনি। আর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সজ্ঞিত সাহা/কেএইচকে/জেআইএম
Advertisement