স্বাস্থ্য

ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় ব্যাচ সম্পন্ন

দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করেছে স্বাস্থ্যবিভাগ। এর অংশ হিসেবে ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে জাতীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের (ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স-টিওটি) দ্বিতীয় ব্যাচ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ড. মিলন হলে সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন, রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ।

এবারের দ্বিতীয় ব্যাচে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বিশেষভাবে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং করপোরেট হাসপাতালের চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি খাতের গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের সামগ্রিক চিকিৎসা কর্মীবাহিনীর কাছে প্রমাণভিত্তিক ও মানসম্পন্ন ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের মেম্বার সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া-আল-আজিজ। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব হেলথ ড. মালালাই আহমাদজাই। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সায়েন্টিফিক সাব-কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. মো. শাহাবুল হুদা চৌধুরী।

Advertisement

পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের জয়েন্ট কনভেনর ড. আহমেদ মনজুরুল আজিজ।

এক নজরে গত ৩ বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মৃত্যু হয় ১ হাজার ৭০৫ জনের। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন, মৃত্যু ৫৭৫ জন। আর ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা যান ৪১৩ জন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডেঙ্গু এখন বাংলাদেশে সারা বছরব্যাপী জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থায় পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ২০২৬ সালের ৭ জুন এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো— দেশের প্রতিটি চিকিৎসক যেন জাতীয় প্রোটোকল অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত, ট্রায়াজ (রোগীর গুরুত্ব বিবেচনায় চিকিৎসার অগ্রাধিকার নির্ধারণ) এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে এই ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আর এই পুরো কার্যক্রমে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে ইউনিসেফ বাংলাদেশ।

Advertisement

এসইউজে/এমএএইচ/