১৯৭ রানের বড় স্কোর তাড়া করে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের খুব কাছে গিয়েও পারল না বাংলাদেশ। হারলো মাত্র ৭ রানের ব্যবধানে। মূলতঃ বাংলাদেশ কোথায় হারল? তা নিয়ে চলছে আলোচনা, পর্যালোচনা।
Advertisement
বেশির ভাগ ভক্ত-সমর্থক হয়তো দুষছেন ব্যাটারদের। আফসোস, অনুশোচনায়ও পুড়ছেন কেউ কেউ। হয়তো বলছেন, ব্যাটাররা আরেকটু হাত খুলে খেলতে পারলেই তো জিতে যেতাম। একটি ছক্কা হলেই তো দুই দলের রান সমান হয়ে যেত।
এমন বক্তব্যের পক্ষেও যে যুক্তি নেই, তাও বলা যাবে না। বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে যাদের বিগ হিট নেওয়ার ক্ষমতা বেশি, যারা উইকেটে বেশি সময় থেকে বেশি বল খেললে রানগতি বাড়ে, সেই তানজিদ তামিম, পারভেজ ইমন আর সাইফ হাসান উইকেটে সেট হয়েও কেউ লম্বা ইনিংস খেলতে পারেননি। বাঁ-হাতি ওপেনার তানজিদ তামিম ২০০.০০ স্ট্রাইক রেটে ১৫ বলে ৩০, সৌম্য সরকার ৯ বলে ১৫, সাইফ হাসান ৩৩ বলে ৪২ আর পারভেজ ইমন ২২ বলে ৩৬ রান করে আউট হয়েছেন। অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় পরে নেমে ২২ বলে ৩৫ রানে শেষ বলে গিয়ে আউট হন।
লক্ষ্য করে দেখবেন, দুই ওপেনার তানজিদ তামিম (২০০.০০), সাইফ হাসান (১২৭.২৭), ওয়ানডাউন সৌম্য সরকার (১৬৬.৬৬) আর চার নম্বরে নামা পারভেজ ইমন (১৬৩.৬৩)- এই ৪ জনের মধ্যে সাইফ হাসান ছাড়া বাকি তিনজন ১৬০.০০+ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করেছেন। এমনকি অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ও খেলেছেন ১৫৯.০৯ স্ট্রাইক রেটে।
Advertisement
এমন নয় যে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটাররা তাদের চেয়ে খুব আক্রমণাত্মক ও ঝোড়ো ব্যাটিং করেছেন। অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের মধ্যে রানই করেছেন মাত্র দুজন; ম্যাট রেনশ (১৭১.১৫ স্ট্রাইক রেটে ৫২ বলে ৮৯) আর টিম ডেভিড (১৭৩.০৭ স্ট্রাইক রেটে ২৬ বলে ৪৫)। তারা দুজনই ১৭০.০০-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করেছেন।
পার্থক্য একটি জায়গায়, তা হলো অসি মিডল অর্ডার ব্যাটার ম্যাট রেনশো চার নম্বরে নেমে শেষ বল পর্যন্ত উইকেটে ছিলেন। যেটা বাংলাদেশের দুই ওপেনার বা চার নম্বর ব্যাটারদের কেউ পারেননি।
বিশেষ করে ওপরে যে তিনজন ১৬০+ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন, সেই তানজিদ তামিম, সৌম্য সরকার আর পারভেজ ইমনের কেউই দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে দলের রানকে এগিয়ে নিতে পারেননি। প্রত্যেকেই একটা জায়গায় গিয়ে থেমে গেছেন।
অসি ব্যাটার ম্যাট রেনশ যেমন ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত উইকেটে থেকে রানচাকা দ্রুত রাখার পাশাপাশি দলকে একটা মজবুত অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছেন, বাংলাদেশের কেউ তা পারেননি। যাদের ব্যাটে-বলে হচ্ছিল, তাদের অন্তত একজনও যদি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারতেন, তাহলে হয়তো ১৯৭ রানও টপকে যাওয়া সম্ভব ছিল।
Advertisement
এর মধ্যে পারভেজ ইমন আর সাইফ হাসান একদম ওয়েল সেট হয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আউট হয়েছেন। সাইফ হাসান অহেতুক অফ স্টাম্পের বাইরে ওয়াইড বলকে তাড়া করে আকাশে তুলে দিয়েছেন। ইমনও অফসাইডে তুলে মারতে গিয়ে সীমানার ওপারে পাঠানোর বদলে ক্যাচ দিয়ে ফিরে এসেছেন। রেনশ দেখিয়ে দিয়েছেন, উইকেটে ওয়েল সেট থাকলে হাত খুলে খেলা সহজ। তাই তো ২০তম ওভারে তার কাছে ২ ছক্কাসহ ১৮ রান হজম করেছেন মোস্তাফিজ।
এ ছাড়া রিশাদও ১৩তম ওভারে ৩ ছক্কা খেয়ে ২১ রান দিয়ে বসেন সেই রেনশোর কাছেই। ব্যাটারদের দায়িত্বহীন ব্যাট চালনার পাশাপাশি অদূরদর্শী ও ত্রুটিপূর্ণ একাদশও টিম বাংলাদেশের পরাজয়ের অন্যতম কারণ।
আগেই জানা ছিল, আজ শুক্রবার যে উইকেটে খেলা হবে, সেটা ব্যাটিং উইকেট। ব্যাটিং-ফ্রেন্ডলি উইকেটে অফস্পিন বরাবরই রান নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। সেক্ষেত্রে শেখ মেহেদী হতে পারতেন নিরাপদ অপশন। তা না করে খেলানো হয়েছে রিশাদ হোসেনকে। এই লেগির সময় ভালো যাচ্ছে না। রিশাদ ৪ ওভারে দিয়েছেন ৪৬ রান।
এ ছাড়া মোস্তাফিজ ও নাহিদ রানার সঙ্গে পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে খেলানো হয়েছে আব্দুল গাফফার সাকলায়েনকে। এ তরুণও সুবিধা করতে পারেননি। বেদম মার খেয়েছেন। ৪ ওভারে ৫৩ রান দেওয়ার পর যখন হাত খুলে খেলা দরকার, তখন ১১ বলে করেছেন ১৩ রান।
এর বাইরে বিশেষ করে আরও একজনের কথা না বললেই নয়। তিনি শামীম পাটোয়ারী। ঘরোয়া ক্রিকেটে চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছোটালেও কেন যেন এখন আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার ব্যাট কথা বলে না, হাসেও না। আজ তার জন্য খুব ভালো প্ল্যাটফর্ম ছিল। একটা ১৫০/১৬০ স্ট্রাইক রেটে ৩০/৪০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলতে পারলেই হয়তো ম্যাচ জিতিয়ে ফিরতে পারতেন এ বাঁহাতি ফ্রি-স্ট্রোক মেকার।
কিন্তু বাস্তবে তার ধারেকাছ দিয়েও যেতে পারেননি। শামীম পাটোয়ারির ব্যাট থেকে এসেছে ৮ বলে ৭ রান। ১৭তম ওভারের তৃতীয় বলে আউট হওয়ার আগে দুই বলেও কোনো রান করতে পারেননি শামীম। আউট হওয়াসহ ওই ৩ বলে ৬ রান এলেও স্কোর টাই হয়ে যেত।
এআরবি/আইএইচএস