তথ্যপ্রযুক্তি

বিপদে পড়তে না চাইলে জেনে নিন নকল অ্যাপ চেনার উপায়

স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল অ্যাপ। ব্যাংকিং, কেনাকাটা, যোগাযোগ, বিনোদন থেকে শুরু করে প্রায় সব কাজেই এখন অ্যাপের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। কিন্তু এই সুবিধার পাশাপাশি বেড়েছে সাইবার প্রতারণার ঝুঁকিও। বিশেষ করে নকল বা ভুয়া অ্যাপ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংকিং তথ্য এমনকি অর্থও হাতিয়ে নিতে পারে।

Advertisement

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি বছর হাজার হাজার ভুয়া অ্যাপ বিভিন্ন অ্যাপ স্টোরে ছড়িয়ে পড়ে। দেখতে আসল অ্যাপের মতো হলেও এগুলোর উদ্দেশ্য থাকে ব্যবহারকারীর তথ্য চুরি করা বা ডিভাইসে ক্ষতিকর সফটওয়্যার প্রবেশ করানো।

অ্যাপ ইনস্টল করার আগে কিছু বিষয় খেয়াল করা অত্যন্ত জরুরি। ১. ডেভেলপারের নাম যাচাই করুন

কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করার আগে প্রথমেই ডেভেলপারের নাম দেখুন। প্রতারকরা প্রায়ই জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে মিল রেখে ভুয়া নাম ব্যবহার করে।

ধরুন, কোনো ব্যাংকের অফিসিয়াল অ্যাপের পরিবর্তে সামান্য বানান পরিবর্তন করে অন্য নামে অ্যাপ প্রকাশ করা হতে পারে। তাই অ্যাপটির প্রকাশক বা ডেভেলপার আসল প্রতিষ্ঠান কিনা তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

Advertisement

২. ডাউনলোড সংখ্যা ও রেটিং দেখুন

জনপ্রিয় ও বিশ্বস্ত অ্যাপ সাধারণত লাখ বা কোটি বার ডাউনলোড করা হয়। যদি কোনো পরিচিত সেবার অ্যাপের ডাউনলোড সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে কম হয়, তাহলে সতর্ক হতে হবে। তবে শুধু রেটিং দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াও ঠিক নয়। অনেক সময় ভুয়া রিভিউ ব্যবহার করে প্রতারকরা অ্যাপকে জনপ্রিয় দেখানোর চেষ্টা করে।

আরও পড়ুন পছন্দমতো গান বানাতে পারবেন জেমিনিতে ৩. ব্যবহারকারীদের মন্তব্য পড়ুন

অ্যাপ ইনস্টল করার আগে রিভিউ সেকশন ভালোভাবে পড়ে দেখুন। অনেক ব্যবহারকারী সেখানে বিভিন্ন সমস্যা, প্রতারণা বা নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে থাকেন। একাধিক মন্তব্যে যদি একই ধরনের অভিযোগ দেখা যায়, তাহলে সেই অ্যাপ এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

৪. অস্বাভাবিক অনুমতি চাইলে সতর্ক হন

একটি টর্চলাইট অ্যাপ যদি আপনার কনট্যাক্ট, মেসেজ বা ক্যামেরার পূর্ণ অনুমতি চায়, তাহলে বিষয়টি সন্দেহজনক।অ্যাপ ইনস্টল করার সময় এটি কী কী অনুমতি চাইছে তা খেয়াল করুন। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তথ্য বা অ্যাক্সেস চাইলে অ্যাপটি ব্যবহার না করাই নিরাপদ।

৫. বানান ও ডিজাইনের ভুল খুঁজুন

নকল অ্যাপের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো বানান ভুল বা নিম্নমানের ডিজাইন। অনেক সময় লোগো, আইকন বা স্ক্রিনশট আসল অ্যাপের মতো দেখানোর চেষ্টা করা হয়, কিন্তু খুঁটিয়ে দেখলে পার্থক্য ধরা পড়ে। অ্যাপের বিবরণে ভাষাগত ভুল বা অস্বাভাবিক তথ্য থাকলেও সতর্ক হওয়া উচিত।

Advertisement

৬. অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে লিংক ব্যবহার করুন

ব্যাংক, ই-কমার্স বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবার অ্যাপ ডাউনলোড করতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে অ্যাপের লিংক ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। এতে ভুল বা ভুয়া অ্যাপ ডাউনলোড হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

৭. তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইট এড়িয়ে চলুন

অনেক ব্যবহারকারী বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে এপিকে ফাইল ডাউনলোড করেন। এতে ম্যালওয়্যার বা স্পাইওয়্যার যুক্ত থাকার ঝুঁকি থাকে। যতটা সম্ভব শুধু অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করা উচিত।

৮. অতিরিক্ত অফার দেখলে সন্দেহ করুন

ফ্রি প্রিমিয়াম সুবিধা, অবিশ্বাস্য ডিসকাউন্ট বা বিশেষ বোনাসের লোভ দেখিয়ে অনেক ভুয়া অ্যাপ ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলে। যদি কোনো অফার বাস্তবসম্মত মনে না হয়, তাহলে সেটি যাচাই না করে ব্যবহার করা উচিত নয়।

৯. নিরাপত্তা সফটওয়্যার ব্যবহার করুন

বিশ্বস্ত অ্যান্টিভাইরাস বা মোবাইল সিকিউরিটি অ্যাপ অনেক সময় ক্ষতিকর অ্যাপ শনাক্ত করতে সাহায্য করে। নিয়মিত ডিভাইস স্ক্যান করলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

আরও পড়ুন হোয়াটসঅ্যাপের বিকল্প ৫ মেসেজিং অ্যাপ ১০. নিয়মিত আপডেট রাখুন

ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এবং অ্যাপগুলো নিয়মিত আপডেট করলে নিরাপত্তা দুর্বলতা কমে যায়। অনেক আপডেটেই নতুন সাইবার হুমকি মোকাবিলার ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়।

সচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা

বর্তমানে সাইবার অপরাধীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি কৌশলী। তাই শুধু আকর্ষণীয় আইকন বা উচ্চ রেটিং দেখে অ্যাপ ইনস্টল না করে কিছুটা সময় নিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন। কয়েক মিনিটের সতর্কতা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ডিজিটাল পরিচয়কে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। প্রযুক্তির সুবিধা উপভোগ করতে হলে নিরাপত্তার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

কেএসকে