জাতীয়

হাজিদের কোরবানিতে অনিয়ম, ৪ হজ এজেন্সিকে শোকজ

২০২৬ সালের (১৪৪৭ হিজরি) হজে সৌদি সরকারের বাধ্যতামূলক নুসুক মাসার সিস্টেমের মাধ্যমে কুরবানি সম্পন্নের প্রমাণ দিতে না পারায় চারটি হজ এজেন্সিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এজেন্সিগুলো হলো প্রত্যাশা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, দৈফুর রহমান ট্রাভেলস, গ্লোবাল ট্রাভেলস সার্ভিস অ্যান্ড ট্যুরস এবং দারুল ইমান ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস।

Advertisement

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃথক চিঠিতে বলা হয়েছে, সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের হজে কেবল নুসুক মাসার সিস্টেমের মাধ্যমেই আদাহী বা কুরবানি সম্পন্ন করার অনুমতি ছিল। অন্য কোনো পদ্ধতিতে কুরবানি আদায়ের প্রচেষ্টা নিষিদ্ধ করা হয়। সে অনুযায়ী ‘হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন-২০২৬’-এ সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় কুরবানির খরচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

মন্ত্রণালয় জানায়, লিড এজেন্সি হিসেবে অংশ নেওয়া প্রত্যাশা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের অধীনে ২ হাজার ২১২ জন, গ্লোবাল ট্রাভেলস সার্ভিস অ্যান্ড ট্যুরসের অধীনে ২ হাজার ৬২৩ জন এবং দারুল ইমান ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের অধীনে ২ হাজার ২১৬ জন হজযাত্রী হজ পালন করেন। এসব হাজীর কুরবানি নুসুক মাসার সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার তথ্য ও প্রমাণপত্র একাধিকবার চাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলো তা জমা দেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অন্যদিকে দৈফুর রহমান ট্রাভেলসের অধীনে ২৯টি সমন্বয়কারী এজেন্সির মাধ্যমে মোট ২ হাজার ১৯৯ জন হজযাত্রী হজ পালন করেন। এজেন্সিটি তথ্য জমা দিলেও পর্যালোচনায় দেখা যায়, লিড এজেন্সি দৈফুর রহমান ট্রাভেলস এবং সমন্বয়কারী এজেন্সি গাউছিয়া ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, আল-জাওয়াদ ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস অ্যান্ড হজ সার্ভিস ও সাদমান ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসে নিবন্ধিত কোনো হজযাত্রীর কুরবানি নুসুক মাসার সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়নি। অথচ হাজীদের কাছ থেকে কুরবানির অর্থ নেওয়া হয়েছিল।

Advertisement

চিঠিতে বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সৌদি আরবের নির্দেশনা লঙ্ঘন এবং সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার অন্তরায়। তাই সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কেন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

গত ২৬ মে সৌদি আরবে হজ অনুষ্ঠিত হয়। এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালন করেন।

আরএমএম/এমআইএইচএস

Advertisement