কিলিয়ান এমবাপের গোলে ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রথমার্ধ শেষে ইরাকের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ফ্রান্স। ম্যাচের ১৪তম মিনিটেই এমবাপের দুর্দান্ত গোলেই বিরতিতে স্বস্তিতে রয়েছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা।
Advertisement
তবে দ্বিতীয়ার্দের খেলা শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে। কারণ, প্রবল বজ্রসহ বৃষ্টি এবং ঝড়।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে ফ্রান্স। তবে ইরাকও আত্মসমর্পণ করেনি। বরং আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে মাঠে নামে মধ্যপ্রাচ্যের দলটি। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে দোস্কি ফাউল আদায় করেন, আর কাসেমও ফরাসি মিডফিল্ডার কোনের শার্ট টেনে ফাউলের দাবি তুলেছিলেন। এতে বোঝা যাচ্ছিল, লড়াই ছাড়া কিছুই ছাড়তে রাজি নয় ইরাক।
এবারের ফুটবল বিশ্বকাপটা কি তবে লিওনেল মেসি বনাম কিলিয়ান এমবাপের গোলের লড়াই হতে যাচ্ছে? এরই মধ্যে দুই ম্যাচে ৫ গোল করে লিওনেল মেসি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠে গেছেন। ১৮টি গোল তার।
Advertisement
অন্যদিকে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপেও। ১২ গোল নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করা এমবাপে প্রথম ম্যাচেই করেছিলেন জোড়া গোল। তার মোট গোল হয়েছিল ১৪টি।
এবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ইরাকের বিপক্ষে শুরুতেই আরও একটি গোল করলেন এমবাপে। ১৪তম মিনিটে মাইকেল ওলিসের কাছ থেকে বল পেয়ে বাম পায়ের দুর্দান্ত এক শটে ইরাকের জালে বল জড়ান এমবাপে।
এ নিয়ে তার গোল হয়ে গেলো ১৫টি। ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিওর উচ্চতায় উঠে এরেন তিনি। তার সামনে রয়েছেন মিরোস্লাভ ক্লোসা (১৬ গোল) এবং লিওনেল মেসি (১৮ গোল)।
ষষ্ঠ মিনিটে এমবাপেকে থামাতে গিয়ে ফাউল করেন আমির আল-আম্মারি। ফলে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন ইরাকি মিডফিল্ডার। এরপর থেকেই ফ্রান্স ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।
Advertisement
১৪তম মিনিটে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। ডান দিক থেকে মাইকেল ওলিসে বল বাড়িয়ে দেন এমবাপের কাছে। ফরাসি অধিনায়ক বল পেয়ে দূরপাল্লার শক্তিশালী শটে ইরাক গোলরক্ষক বাসিলকে পরাস্ত করেন। দুর্দান্ত এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের ১৫তম গোল করেন এমবাপে।
গোলের পর ফ্রান্সের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। ওলিসে টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট করেন এবং জাতীয় দলের হয়ে শেষ তিন ম্যাচে পাঁচটি গোল অবদানে (তিন গোল ও দুই অ্যাসিস্ট) পৌঁছে যান। প্রথম ১৫ মিনিটে ফ্রান্সের বল দখলের হার ছিল ৬৫ শতাংশ।
তবে ইরাকও সুযোগ তৈরি করেছে। ২৮তম মিনিটে দোস্কির নিখুঁত ক্রস থেকে বদলি হিসেবে নামা আলি আল-হামাদি হেড নিলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। ৩০ মিনিটে সালিবার জন্য অস্বস্তিকর এক বল সামলে নিয়ে কর্নার আদায় করেন আল-হামাদি। ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে বেশ কয়েকবার সমস্যায় ফেলেছেন তিনি।
মাঝমাঠে জিদান ইকবালও নজর কেড়েছেন। ৩৫তম মিনিটে সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা নিজের অর্ধে কয়েকজন ফরাসি খেলোয়াড়কে কাটিয়ে দারুণ এক ড্রিবল করেন, যা গ্যালারিতে থাকা ইরাকি সমর্থকদের উচ্ছ্বসিত করে তোলে।
অন্যদিকে ফ্রান্স দ্বিতীয় গোলের জন্য চেষ্টা চালিয়ে গেছে। ৪২তম মিনিটে এমবাপে অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শট নেওয়ার সুযোগ তৈরি করলেও শেষ মুহূর্তে হুসেইন আলি দুর্দান্ত ট্যাকলে বিপদ সামাল দেন।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে বৃষ্টিও ম্যাচে নতুন মাত্রা যোগ করে। প্রবল বর্ষণের মধ্যেও দুই দল লড়াই চালিয়ে যায়। বিরতিতে যাওয়ার সময় স্কোরলাইন ফ্রান্সের পক্ষে থাকলেও ইরাকের সংগঠিত রক্ষণ এবং পাল্টা আক্রমণের কারণে ম্যাচটি এখনও পুরোপুরি একপেশে হয়ে ওঠেনি।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলা সময়মত শুরু করা যায়নি। প্রবল বৃষ্টি আর ঝড়ে খেলা শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে।
আইএইচএস/