ক্যাম্পাস

শেকৃবিতে এআই, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এর ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এআই, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক বৃহৎ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

Advertisement

এর অংশ হিসেবে সোমবার (২২ জুন) শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) এর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে দিনব্যাপী একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (বিডিআরইএন) এবং তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিডকমের যৌথ সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মশালাটি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য ৭০টি কর্মসূচির প্রথম আয়োজন হিসেবে শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আবুল বাশার এবং আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. জামিলুর রহমান। কর্মশালার মূল বক্তা ছিলেন বিডিআরইএন-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাওরীত। এছাড়া হিট প্রকল্পের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, বিশ্ব বর্তমানে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে এবং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ব্লকচেইন, বিগ ডাটা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা আরও বলেন, শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি ছাড়া আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

Advertisement

বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. জামিলুর রহমান বলেন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় ‘এডুরোম’ সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ ইন্টারনেট ও গবেষণা সুবিধা নিতে পারবেন।

হিট প্রকল্পের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, বিশ্বব্যাংক ও সরকারের যৌথ অর্থায়নে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে ব্যাপক ডিজিটাল উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। এর অংশ হিসেবে বিডকমের সঙ্গে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার প্রযুক্তি ও সেবা চুক্তি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে মোহাম্মদ তাওরীত বলেন, জেনারেটিভ এআই, সাইবার নিরাপত্তা, ব্লকচেইন এবং ডাটা ম্যানেজমেন্ট আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি।

ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আবুল বাশার বলেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীরা গবেষণা ও থিসিস লেখার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে। শিক্ষকরা যদি এ বিষয়ে দক্ষ না হন, তাহলে মৌলিক গবেষণা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর কনটেন্টের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়বে।

Advertisement

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাত দ্রুত স্মার্ট ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ইন্টারনেট অব থিংস, ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা, নির্ভুল কৃষি প্রযুক্তি এবং ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে কৃষি ও গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হচ্ছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। স্মার্ট কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি এর সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি।

উদ্বোধনী পর্ব শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য পাঁচটি মডিউলে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এসব মডিউলে এআই-এর ব্যবহার, সাইবার নিরাপত্তা, ই-জার্নাল ব্যবহার, গবেষণায় নকল প্রতিরোধ এবং ডিজিটাল গবেষণা দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এমডিএসএ/এসএনআর