নাজমুন নাহার
Advertisement
পৃথিবীর অপূর্ব এক সুন্দর শহর বার্লিন। বিকেলের সোনালী আলোর আভায় ইতিহাসের অপূর্ব এই নগরী বার্লিনের এক জীবন্ত সেতুবন্ধনে এসে পৌঁছালাম।
সন্ধ্যার সোনালি আলো ধীরে ধীরে মিশে যায় ইতিহাসের অপরূপ নগরী বার্লিনের বুকে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে থাকা ব্রান্ডেনবুর্গ ফটক জার্মান জাতির ঐক্য ও গৌরবের প্রতীক, আর তার অদূরেই সুউচ্চ দূরদর্শন মিনার আকাশের দিকে মাথা উঁচু করে আধুনিক নগরীর পরিচয় বহন করে।
শহরের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে শান্ত ও স্নিগ্ধ স্প্রে নদী, যার তীরে সন্ধ্যা নামলেই ভিড় জমায় অসংখ্য মানুষ। কেউ নদীর পাড় ধরে হেঁটে বেড়ায়, কেউ বসে উপভোগ করে অস্তগামী সূর্যের রঙিন আভা, আবার কোথাও ভেসে আসে পথশিল্পীদের মধুর সঙ্গীত।
Advertisement
নদীর ওপর নির্মিত সেতুগুলো আর নিচ দিয়ে চলাচল করা নৌযান যেন শহরের সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করে। কাছেই অবস্থিত বার্লিন মহাগির্জা তার মনোমুগ্ধকর গম্বুজ ও শৈল্পিক স্থাপত্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
আর শহরের ভেতরে চলাচলকারী পাতাল রেল ও নগর রেল প্রতিদিন লক্ষ মানুষের যাতায়াতকে সহজ ও সুশৃঙ্খল করে তুলেছে। আমিও যাত্রী হলাম এই নগর রেল এ ঘুরে ঘুরে শহরের বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার জন্য। ইতিহাস, সংস্কৃতি, সঙ্গীত, নদী ও আধুনিক জীবনের অপূর্ব সমন্বয়ে বার্লিন আজ একটি জীবন্ত ইতিহাসের নাম।
জার্মানির এই শহর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার নীরব সাক্ষী। যুদ্ধের শেষদিকে বার্লিন ছিল নাৎসি শাসনের কেন্দ্র, আর এখানেই সংঘটিত হয়েছিল যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ব্যাটল অব বার্লিন।
যুদ্ধ শেষে শহরটি পূর্ব ও পশ্চিম বার্লিনে বিভক্ত হয়ে যায়, আর বার্লিন ওয়াল হয়ে ওঠে শীতল যুদ্ধের প্রতীক। বার্লিনের পরিচয় শুধু যুদ্ধের স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ নয়। ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে এই শহর আজ জার্মান জাতির ঐক্য, পুনর্গঠন ও অগ্রগতির প্রতীক।
Advertisement
জার্মানিদের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, পুনর্জন্ম এবং আধুনিক পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু এই শহর। ইতিহাস, সংস্কৃতি, শিল্প, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের এক অনন্য মিলনস্থল হিসেবে বার্লিন আজ সমগ্র বিশ্বের কাছে এক অনুপ্রেরণার শহর।
এমআরএম