‘চট্টগ্রাম থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রধান কার্যালয় সরানো হবে না’—মাত্র ১৯ দিন আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতাদের এমন আশ্বাস দেন। তবে অর্থমন্ত্রীর ওই আশ্বাসের পর প্রধান কার্যালয় ঢাকায় সরানোর বিষয়ে ইতিবাচক সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান।
Advertisement
গত ২৯ মে চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচিত কমিটি চট্টগ্রাম নগরীর মেহেদীবাগের বাসায় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি ব্যবসায়ী নেতাদের বিপিসির প্রধান কার্যালয় না সরানোর বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন।
জাগো নিউজের হাতে আসা বিপিসি চেয়ারম্যান রেজানুর রহমানের সই করা ওই চিঠিতে ‘বিপিসির আওতাধীন সেবার পরিধি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে স্থাপিত ও স্থাপিতব্য জ্বালানি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ঢাকা থেকে তত্ত্বাবধান, সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ করা সহজতর হয়’ মর্মে মতামত দেওয়া হয়েছে।
গত ১৭ জুন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে ওই চিঠি দেন বিপিসি চেয়ারম্যান। তবে প্রধান কার্যালয় ঢাকায় সরাতে গেলে আইন সংশোধন করতে হবে বলে চিঠিতে জানানো হয়।
Advertisement
অর্থমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় সরানোর বিষয়ে ইতিবাচক সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সমালোচক ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতারা।
প্রধান স্থাপনা থেকে শুরু করে বিপিসির আটটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ও চট্টগ্রামে। পুরো কার্যক্রম ঢাকামুখী হলে ঢাকায় আরও চাপ বাড়াবে। বিপিসির অপারেশনাল ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা কমবে।—মানজারে খোরশেদ আলম
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান ও ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মানজারে খোরশেদ আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে সরানো হবে না, অর্থমন্ত্রী এমন আশ্বাস দিয়েছিলেন। এটি একটি ইতিবাচক মন্তব্য ও সিদ্ধান্ত ছিল। কারণ, বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি হবে আত্মঘাতী।’
আরও পড়ুন জ্বালানি সংকট / বাজারে অকটেন সরবরাহ ২৫% বাড়ানোর পরিকল্পনা বিপিসির‘প্রধান স্থাপনা থেকে শুরু করে বিপিসির আটটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ও চট্টগ্রামে। পুরো কার্যক্রম ঢাকামুখী হলে ঢাকায় আরও চাপ বাড়াবে। বিপিসির অপারেশনাল ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা কমবে। ঢাকায় প্রধান কার্যালয় সরালে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে। বিশেষত, বর্তমানে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও মিটিং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে হচ্ছে। ফাইল সই হচ্ছে ডি-নথিতে’—যোগ করেন এ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ।
Advertisement
জানতে চাইলে ভোক্তাদের সংগঠন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, ‘চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার জন্য বিপিসি, বিএসসি এবং চা বোর্ডের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে আনা হয়েছিল। দপ্তরগুলো খুব সুন্দরভাবে চট্টগ্রামে অপারেট করছে। বিপিসিতে মাত্র ৫-৬ জন আমলা রয়েছেন। চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে পরিচালকরা সবসময় ঢাকামুখী থাকেন।’
তিনি বলেন, ‘তবে উল্টো চিত্রও ছিল, পূর্বেকার অনেক পরিচালক মাসের বেশিরভাগ সময় চট্টগ্রামে অফিস করেছিলেন। বিপিসির সাবেক এক চেয়ারম্যানও বেশিরভাগ সময় চট্টগ্রামে থাকতে চাইতেন। কিন্তু বর্তমানে ব্যক্তি সুবিধার জন্য চেয়ারম্যান পরিচালকরা মাসের প্রায় পুরো সময় ঢাকায় অবস্থান করছেন। এটি কাম্য নয়। এখন একজন এমপির সংসদে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নিতে চাইছে বিপিসি। যে কারণে অর্থমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও প্রধান কার্যালয় ঢাকায় সরানোর বিষয়ে বিপিসি চেয়ারম্যানের ইতিবাচক সুপারিশ কাম্য নয়।’
বিপিসি চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান পাঁচদিনের সিঙ্গাপুর সফর শেষে মঙ্গলবার (২৩ জুন) দেশে ফেরেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ে তার দাপ্তরিক মুঠোফোনে ফোন করলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় সরালে ব্যয় বাড়বে কয়েকগুণগত ১৭ জুন বিপিসি চেয়ারম্যানের দেওয়া ওই চিঠিতে বলা হয়—‘১৯৭৬ সালের ১১ নভেম্বর ৮৮নং অধ্যাদেশ অনুযায়ী বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬-এর ৪নং ধারা অনুযায়ী করপোরেশনের কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে এর প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থাপিত হয়। পরবর্তীকালে ১৯৯০ সালে তৎকালীন সরকারের শেষের দিকে ওই অধ্যাদেশের ৪নং ধারায় পরিবর্তন এনে বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকার পরিবর্তে চট্টগ্রাম করা হয়।’
‘বর্তমানে এটি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন আইন ২০১৬ অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। ওই আইনের ধারা ৫(১) অনুযায়ী, ‘করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে থাকিবে’ মর্মে উল্লেখ রয়েছে। তাছাড়া, ধারা ৫(২) অনুযায়ী, ‘করপোরেশন প্রয়োজনবোধে সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে’—মর্মে উল্লেখ রয়েছে।’
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়—‘জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক প্রেরিত পত্র অনুযায়ী কার্যপ্রণালি-বিধির ৭১ বিধি অনুসারে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয় সম্পর্কে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশটি বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামের পরিবর্তে ঢাকায় স্থানান্তর সংক্রান্ত হওয়ায় এ বিষয়ে বিপিসির বিভাগভিত্তিক মতামত সংগ্রহ করা হয়।’
আরও পড়ুন ইআরএল-২ / ঝুলে থাকা নতুন রিফাইনারি বাস্তবায়নে আরও এক ধাপ এগোলো বিপিসিচিঠির (ক) অংশে বলা হয়—‘দেশে জ্বালানি তেলের আমদানি, মজুত ও বিপণনের একমাত্র রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হলো বিপিসি। এ করপোরেশনের আওতাধীন ৮টি কোম্পানি রয়েছে। সারাদেশে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বর্তমানে ১৯টি জেলায় ডিপো রয়েছে। এছাড়া জ্বালানি তেল বিপণনের জন্য দেশের সব জেলায় আট হাজারের বেশি বিভিন্ন ধরনের ডিলার রয়েছে। বিপিসির বণ্টন, বিপণন ও মনিটরিং বিভাগের দায়িত্ব হলো জ্বালানি পণ্যের বিক্রয় ও সরবরাহ কার্যক্রমের পাশাপাশি কোম্পানিসমূহের সারাদেশের কার্যক্রম সমভাবে মনিটরিং করা।’
বর্তমানে ব্যক্তি সুবিধার জন্য চেয়ারম্যান পরিচালকরা মাসের প্রায় পুরো সময় ঢাকায় অবস্থান করছেন। এটি কাম্য নয়। এখন একজন এমপির সংসদে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নিতে চাইছে বিপিসি। যে কারণে অর্থমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও প্রধান কার্যালয় ঢাকায় সরানোর বিষয়ে বিপিসি চেয়ারম্যানের ইতিবাচক সুপারিশ কাম্য নয়।—এস এম নাজের হোসাইন
‘এছাড়া বিপিসির আওতাধীন সেবার পরিধি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে স্থাপিত/স্থাপিতব্য জ্বালানি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ঢাকা থেকে তত্ত্বাবধান, সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ করা সহজতর হয়। তাছাড়া, বিপিসির প্রশাসনিক কার্যক্রমগুলো মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক। প্রশাসনিক কার্যক্রমের কারণে বিপিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসের অধিকাংশ সময় ঢাকায় অফিস করতে হয়। এর ফলে করপোরেশনের আর্থিক ব্যয় ও কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়।’
চিঠির (খ) অংশে বলা হয়—‘বর্তমানে বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে অবস্থিত হলেও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম মূলত লিয়াজোঁ অফিস, ঢাকাকেন্দ্রিক। সামগ্রিক প্রশাসনিক গতিশীলতা ও কাজের সমন্বয়ের স্বার্থে এ করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা অধিক বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী, তথা প্রয়োজনও বটে।’
আরও পড়ুন চট্টগ্রামে বিপিসির প্রধান কার্যালয় ‘নামকাওয়াস্তে’‘বর্তমানে আমদানিকৃত জ্বালানি তেল শুধু চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে খালাস কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়। এছাড়া বর্তমানে দিনাজপুরের পার্বতীপুরেও ভারত থেকে জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে মোংলা বন্দর ও পায়রা বন্দরের মাধ্যমে তেল খালাস কার্যক্রম সম্পাদন করা হলে বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় এবং বিভাগীয় শহরে আঞ্চলিক অফিস স্থাপন করার মাধ্যমে সমগ্র দেশে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব হবে।’
(গ) অংশে বলা হয়—‘বিপিসি ও অধীনস্থ বিপণন কোম্পানিসমূহ, ইআরপিএলসি, এলপিজিএলসহ ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত সর্বমোট ১৪০৯টি অডিট আপত্তি রয়েছে, অর্থের অঙ্কে যা ১ লাখ ১৬ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ও অডিট অধিদপ্তর ঢাকায় অবস্থিত হওয়ায় বিপিসির অডিট আপত্তিসমূহের হালনাগাদ তথ্য প্রেরণে অসুবিধা হচ্ছে।’
‘বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তর হলে অডিট বিভাগ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে। সংস্থা ও অধীনস্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। দাপ্তরিক পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে এবং অডিট আপত্তিগুলো দ্রুত সময়ে নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণে দাপ্তরিক গতিশীলতা আসবে। একই সঙ্গে অডিট আপত্তিসমূহ মুক্ত নিষ্পত্তি করা যাবে।’
ওই চিঠিটির (ঘ) অংশে বলা হয়—‘বিপিসির জ্বালানি তেল আমদানির জন্য বিদেশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেগোসিয়েশন সভা আয়োজনসহ দ্বিপাক্ষিক সভাসমূহ প্রধানত ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ফলে, এ বিভাগের বাণিজ্যিক কার্যক্রমসমূহ ঢাকা থেকে সম্পাদন করা গেলে তা সহজতর ও সাশ্রয়ী হবে।’
(ঙ) অংশে রয়েছে—‘চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হলেও বে-টার্মিনাল, মাতারবাড়ী, মিরসরাই ইকোনমিক জোন এবং কোরিয়ান ইকোনমিক জোনের কার্যক্রম পুরোপুরি সম্পন্ন হলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা জাতীয় পর্যায়ে আরও বিস্তৃত ও জটিল হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সংবেদনশীল এ খাতের কেন্দ্রীয় নীতি-নির্ধারণ ও সমন্বয় কার্যক্রম ঢাকা থেকে পরিচালনা করা অধিকতর কার্যকর ও যুক্তিসঙ্গত হবে।’
‘২০২৪ সালে জ্বালানি খাত সংস্কারবিষয়ক গঠিত কমিটি দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও সহজ, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে বিভাগভিত্তিক আঞ্চলিক অফিস স্থাপনের সুপারিশ প্রদান করেছে। প্রস্তাবিত আঞ্চলিক অধিক কাঠামো বাস্তবায়িত হলে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম বিকেন্দ্রীভূত হবে এবং সেই সুযোগে বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তর করা সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী হবে।’
চিঠির (চ) অংশে বলা হয়—‘বিপিসির মূল অপারেশন কার্যক্রম বর্তমানে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক হলেও প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এটি কোনো অন্তরায় নয়। কারণ, বিপিসির অপারেশনাল কার্যক্রম মূলত বিপিসির অঙ্গ প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল পিএলসি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড, যমুনা অয়েল কোম্পানি এবং ইআর এলসি-র মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সে পরিপ্রেক্ষিতে বিপিসির অপারেশন বিভাগ চট্টগ্রামে থাকতে পারে। যার মাধ্যামে তেলবাহী জাহাজের তথ্য পরিমাণ, ট্যাংক রিসিভ ও রিলিজ, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে শুল্কায়নসহ সব অপারেশনাল কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।’
আরও পড়ুন জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশ / কর্ণফুলীতে জ্বালানি তেলের ডিপোর ঘটনা তদন্তে বিপিসির কমিটি গঠন‘এতে মাঠপর্যায়ের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুবিধা বজায় থাকবে। একই সঙ্গে প্রধান কার্যালয় ঢাকা থেকে সামগ্রিক নীতি, পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হবে।’
চট্টগ্রাম থেকে বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় নেওয়া সমীচীন হবে না। বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় নিলে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার সরকারি সিদ্ধান্ত বাধাগ্রস্ত হবে।—শফিউল আলম বাদশাহ
চিঠিটির ৩ নম্বর প্যারায় বলা হয়—‘বিপিসির আওতাধীন বিপণন কোম্পানিসমূহের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তত্ত্বাবধান, সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ এবং সারাদেশে বিদ্যমান ফিলিং স্টেশন এজেন্ট ডিস্ট্রিবিউটর, এলপিজি ডিলার, লুব ট্রেন্ডিং ও রি-সাইক্লিং প্ল্যান্ট এবং এলপিজি অপারেটর প্ল্যান্টের কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য দেশের ৮টি স্থানে (১. ঢাকা, ২. খুলনা, ৩. সিলেট, ৪, রাজশাহী, ৫. রংপুর, ৬. বগুড়া, ৭, বরিশাল এবং ৮. কুমিল্লা) আঞ্চলিক অফিস স্থাপনের বিষয়ে সংস্কার কমিটি সুপারিশ করেছেন। এই আঞ্চলিক কাঠামো বাস্তবায়িত হলে ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয় থেকে সমগ্র দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রীয়ভাবে তদারকি করা আরও সহজ ও ফলপ্রসূ হবে।’
‘বর্ণিত প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামের পরিবর্তে ঢাকায় স্থানান্তর করতে হলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন আইন ২০১৬ এর ৫(১) নম্বর ধারা সংশোধন করতে হবে, যা সরকারের প্রশাসনিক বা নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল’—উল্লেখ করা হয় চিঠির ৪ নম্বর প্যারায়।
এদিকে, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ওইদিনের (২৯ মে) সাক্ষাতে অংশ নিয়েছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক শফিউল আলম বাদশাহ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘চেম্বার নির্বাচনের পর কোরবানির ঈদের আগের দিন আমরা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। মন্ত্রী মহোদয় বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে না সরানোর বিষয়ে আমাদের আশ্বস্ত করেন। আমরা অর্থমন্ত্রীর ওই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছি।’
‘চট্টগ্রাম থেকে বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় নেওয়া সমীচীন হবে না। বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় নিলে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার সরকারি সিদ্ধান্ত বাধাগ্রস্ত হবে’—যোগ করেন তিনি।
এমডিআইএইচ/এমকেআর