ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দুর্দান্ত জোড়া গোলের ওপর ভর করে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে পর্তুগাল। হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে এগিয়ে গেছে রবার্তো মার্তিনেজের দল।
Advertisement
শুরু থেকেই ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে পর্তুগাল। ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটেই গোলের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। তবে তার শট উজবেক ডিফেন্ডার আব্দুল্লায়েভের গায়ে লেগে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা পায় মধ্য এশিয়ার দলটি। না হলে বলটিচলে যেতো রোনালদোর পায়ে। তাতে গোলও হতে পারতো।
এরপর পঞ্চম মিনিটে আবারও গোলের কাছাকাছি চলে যান রোনালদো। নুনো মেন্দেসের দারুণ ক্রস থেকে বল পেয়েও ঠিকমতো সংযোগ করতে পারেননি পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা।
তবে ষষ্ঠ মিনিটে আর ভুল করেননি তিনি। হোয়াও ক্যানসেলোর দ্রুতগতির আক্রমণ থেকে আসা কাটব্যাক নিখুঁতভাবে জালে পাঠিয়ে পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন রোনালদো। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাস গড়ে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম ফুটবলারও হয়ে যান তিনি।
Advertisement
গোলের পরও আক্রমণের ধার কমায়নি পর্তুগাল। ১৪ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে পেদ্রো নেতোকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন উজবেক মিডফিল্ডার ওদিলজন খামরোবেকভ। সেই ফ্রি-কিক থেকে আসে ম্যাচের দ্বিতীয় গোল।
সবার ধারণা ছিল রোনালদো সরাসরি শট নেবেন। কিন্তু চমক দেখায় পর্তুগাল। ১৭তম মিনিটে সবাই ভেবেছিল, রোনালদোই শটটা নেবেন। সে পজিশনেও ছিলেন তিনি। কিন্তু রোনালদো নন, আচমকা শটটি নেন নুনো মেন্দেজ। বাঁ-পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে তিনি বল জড়িয়ে দেন উজবেকিস্তানের জালের ডান কোণে। গোলরক্ষক কোনো সুযোগই পাননি। ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।
এরপর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে উজবেকিস্তান। ১৯ মিনিটে নাসরুল্লায়েভের শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন পর্তুগাল গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা।
২৯ মিনিটে ম্যাচে নাটকীয়তা যোগ হয়। ফাইজুল্লায়েভ ক্যানসেলোর কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নেওয়ার পর গা’নিয়েভ প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে অসাধারণ এক শটে বল জড়িয়ে দেন পর্তু্গালের জালের উপরের কোণে। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর দেখা যায়, বল দখলের সময় ফাউল হয়েছিল। ফলে দুর্দান্ত সেই গোল বাতিল করে দেন রেফারি জালাল জায়েদ।
Advertisement
গোল বাতিল হওয়ার হতাশা উজবেকরা কাটিয়ে ওঠার আগেই আরও একবার আঘাত হানে পর্তুগাল। ৩৯ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের নিখুঁত থ্রু পাস ধরে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে নিচু শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রোনালদো। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে পর্তুগালের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ইউসেবিওকেও ছাড়িয়ে যান তিনি। বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা এখন ১০।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে হ্যাটট্রিকের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন রোনালদো। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ক্যানসেলোর ক্রস থেকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল তুলে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গোললাইন থেকে খুসানোভ বল ক্লিয়ার করে উজবেকিস্তানকে আরও বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেন।
প্রথমার্ধে পর্তুগালের আধিপত্য ছিল পুরোপুরি একতরফা। বল দখল, আক্রমণ, সুযোগ সৃষ্টি- সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল ইউরোপের দলটি। অন্যদিকে উজবেকিস্তান রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল অধিকাংশ সময়।
উল্লেখযোগ্য তথ্য:
* রোনালদো বিশ্বকাপ ইতিহাসে ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা প্রথম খেলোয়াড়।* বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা এখন ১০, যা পর্তুগালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।* ২০২৬ বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ২১তম ম্যাচ যেখানে কোনো খেলোয়াড় এক ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করেছেন।* রোনালদো (৪১ বছর ১৩৮ দিন) ও উজবেকিস্তানের করিমভ (১৮ বছর ৩২০ দিন)-এর বয়সের পার্থক্য ২২ বছর ১৮৩ দিন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক ম্যাচের শুরুর একাদশে সবচেয়ে বড় বয়সের ব্যবধান।
আইএইচএস/