স্বাস্থ্য

হাসপাতালে দ্বিগুণ হচ্ছে শয্যা, জনবল-বাজেট কি বাড়বে?

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষের প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও অন্তঃবিভাগে সেবাদানের ব্যবস্থা রয়েছে।

Advertisement

এখানে আছে নানা প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষাসহ আল্ট্রাসনোগ্রাম ও এক্স-রে করার সুবিধা। গর্ভবতী মায়েদের প্রসবপূর্ব ও প্রসবোত্তর সেবা এবং শিশুদের টিকাদান কার্যক্রমও চালু রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সংকট জনবল।

হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কাজী এ কে এম রাসেল জাগো নিউজকে জানান, তার এখানে জুনিয়র কনসালটেন্ট আটজন থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র একজন। মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জন ও বিশেষজ্ঞ মিলিয়ে চিকিৎসকের ৩৪ পদের বিপরীতে আছেন ১৬ জন। নার্সিং স্টাফের ৩৭ পদের বিপরীতে ১০ জন কর্মরত। প্রধান সহকারী, স্টোরকিপার ও হিসাবরক্ষক নেই। আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পাঁচজনের জায়গায় দুজন কাজ করছেন। অর্থাৎ মোট ১০৯ পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ২৯ জন। অথচ জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও অন্তঃবিভাগ মিলিয়ে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী সামাল দিতে হয়।

জেলা-উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের কারণে সেবা পেতে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়/ফাইল ছবি

Advertisement

মানিকগঞ্জের আরেক উপজেলা দৌলতপুরের অবস্থা অবশ্য কিছুটা ভালো। সেখানকার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ রোগীর সেবা দেওয়ার জন্য মোট ১৭৯ জনবলের বিপরীতে আছেন ১২১ জন। তবে চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মেহরুবা পান্না বলেন, ‘আমাদের কনসালটেন্টের ১১টি পদের বিপরীতে বাস্তবে মাত্র পাঁচজন কর্মরত। বাকি ছয়জনই অন্য জায়গায় অ্যাটাচমেন্টে রয়েছেন। মেডিকেল অফিসারদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। ছয় থেকে সাতজন চিকিৎসক বিভিন্ন জায়গায় অ্যাটাচমেন্টে কাজ করছেন। সরকারি নথি তাদের এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মী হিসেবে দেখালেও, বাস্তবে আমি তাদের সেবা পাচ্ছি না।’

আরও পড়ুন মাত্র ২৯% জনবলে চলছে স্বাস্থ্য খাত, সরকারি হিসাবেই শূন্যপদ ৭২ হাজার কর বৃদ্ধিতেও কমছে না ধূমপান, সস্তা সিগারেট-ভেপে ঝুঁকছে তরুণরা অনুমোদিত জনবল নেই হাসপাতালগুলোতে

শুধু মানিকগঞ্জের এই দুই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নয়, এমন চিত্র সারাদেশের প্রায় সব জেলা-উপজেলা হাসপাতালের। সেখানে জনবল, সরঞ্জাম, ওষুধসহ নানা উপকরণের সংকট নিত্যদিনের। ফলে সেবা দিতে হিমশিম খান দায়িত্বরতরা। রাজধানীর বড় বড় হাসপাতালেও একই চিত্র। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি দুই হাজার ৬০০ শয্যার হলেও সেখানে রোগী থাকেন গড়ে চার হাজার ৪০০ জন। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ৫০০ শয্যার জনবল ও বাজেট দিয়ে চলছে এক হাজার ২০০ শয্যার কার্যক্রম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, দেশের একটি আদর্শ ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সাধারণত ১০৯ জনের অনুমোদিত জনবল কাঠামো নিয়ে গঠিত। যেখানে প্রশাসনিক ও মাঠপর্যায়ের তদারকির জন্য একজন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার, বিভিন্ন বিষয়ের সাতজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট এবং সাতজন মেডিকেল অফিসারসহ মোট ১৬ জন চিকিৎসক থাকেন।

Advertisement

৩১ শয্যার হাসপাতাল ৫০ শয্যায় ও ৫০ শয্যার হাসপাতাল ১০০ শয্যায় রূপান্তরিত হয়েছে বিগত সময়ে। কিন্তু অর্থনৈতিক কোড, বরাদ্দ ও জনবলের অভাবে সেগুলো এখনো চালু হয়নি। তাই সামগ্রিক তৎপরতা প্রয়োজন।- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর 

এছাড়া রোগীদের সার্বক্ষণিক সেবায় একজন নার্সিং সুপারভাইজার ও ৩৬ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ মোট ৩৭ জন নার্সিং স্টাফ নিয়োজিত থাকেন। হাসপাতালের দাপ্তরিক ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সচল রাখতে প্রধান সহকারী, স্টোরকিপার ও হিসাবরক্ষকসহ সাতজন প্রশাসনিক কর্মী এবং স্বাস্থ্য ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকসহ ১২ জন মাঠকর্মী দায়িত্ব পালন করেন।

সেই সঙ্গে রোগ নির্ণয় ও ওষুধ ব্যবস্থাপনায় দুজন ফার্মাসিস্ট এবং ল্যাব, এক্স-রে, ইপিআই ও ডেন্টাল টেকনোলজিস্টসহ মোট আটজন কারিগরি কর্মী নিয়োজিত। পাশাপাশি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও দৈনন্দিন সহায়তার জন্য ওয়ার্ড বয়, আয়া, কুক, মালি, সুইপার ও নিরাপত্তা প্রহরীসহ মোট ২৯ জন সহায়ক কর্মী অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা। তবে শয্যাসংখ্যা ও কাঠামোগত ভিন্নতার কারণে কিছু হাসপাতালে এই অনুমোদিত পদের সংখ্যা কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ৫০০ শয্যার জনবল ও বাজেট দিয়ে চলছে এক হাজার ২০০ শয্যার কার্যক্রম/ফাইল ছবি 

১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত

বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দেশের ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী উপজেলা পর্যায়ের সব ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালকে ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এরই মধ্যে মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করেছে।

আরও পড়ুন শত শত কোটি টাকা খরচ করেও কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু? কিডনি ডায়ালাইসিসে কমবে চিকিৎসা ব্যয় ও সংক্রমণের ঝুঁকি ভারসাম্যপূর্ণ জনবল নিশ্চিত করার আহ্বান

তবে পর্যাপ্ত জনবল এবং ওষুধ ও পথ্যের জন্য বাজেট বৃদ্ধি না করে শয্যা বাড়ানোকে অযৌক্তিক মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অসমর্থিত সূত্রে পাওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক ১০১ শয্যার হাসপাতালের জনবল কাঠামো নিয়ে বিশেষজ্ঞরা ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক আলোচনা করছেন। তারা একে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চরম লঙ্ঘন ও ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

তারা বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আদর্শ ১:৩:৫ অনুপাতের (একজন চিকিৎসকের বিপরীতে তিনজন নার্স এবং পাঁচজন মিডওয়াইফ) তোয়াক্কা না করে ৭১ জন চিকিৎসকের বিপরীতে মাত্র ৪৬ জন নার্স ও ১৫ জন টেকনোলজিস্টের পদ বরাদ্দ রাখা অদূরদর্শী পরিকল্পনার পরিচায়ক। এটি হাসপাতালগুলোকে প্রকৃত চিকিৎসাকেন্দ্র না করে কেবল বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সিন্ডিকেটের জন্য ‘রেফারেল সেন্টারে’ পরিণত করবে। নামমাত্র ল্যাব ও ফার্মাসিস্ট দিয়ে ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা বা কোটি টাকার যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার অসম্ভব। ফলে ল্যাব বন্ধ রেখে রোগীকে বাইরে পাঠাতে বাধ্য করা হবে এবং সঠিক ওষুধ কাউন্সিলিংয়ের অভাবে ভুল ওষুধের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হবে। তাই কেবল শয্যা ও দালান-কোঠা না বাড়িয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুপাত অনুযায়ী ভারসাম্যপূর্ণ জনবল নিশ্চিত করা স্বাস্থ্যসেবার মান ফেরানোর একমাত্র পথ।

সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হওয়ার অর্থ হলো- জনবল, অবকাঠামো ও আর্থিক বিষয়গুলো নিয়ে কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে বলা। এসব কাজ শেষ হলে লজিস্টিক কেনাকাটা করে তারপর ১০১ শয্যা সচল হবে।- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ এস এ শাফী 

জনবলের পাশাপাশি পথ্য ও ওষুধ বাড়াতে হবে

এ নিয়ে কথা হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর জাগো নিউজকে বলেন, ‘শয্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত খুবই ভালো। তবে অবকাঠামো বৃদ্ধি না করলে বিছানা রাখবেন কোথায়? জনবল না বাড়ালে সেবা দেবেন কারা? ৩১ শয্যার হাসপাতাল ৫০ শয্যায় ও ৫০ শয্যার হাসপাতাল ১০০ শয্যায় রূপান্তরিত হয়েছে বিগত সময়ে। কিন্তু অর্থনৈতিক কোড, বরাদ্দ ও জনবলের অভাবে সেগুলো এখনো চালু হয়নি। তাই সামগ্রিক তৎপরতা প্রয়োজন।’

একই সুর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরীর কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘জনবলের পাশাপাশি পথ্য ও ওষুধ- এই দুটি জিনিস অবশ্যই বাড়াতে হবে। দেশের অনেক হাসপাতালেই শয্যার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু বাজেট বাড়েনি। যেমন- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি দুই হাজার ৬০০ শয্যার হলেও সেখানে রোগী থাকে চার হাজার ৪০০ জন। এখন এই দুই হাজার ৬০০ জনের খাবারের বরাদ্দ দিয়ে চার হাজার ৪০০ জনের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। আবার অনেক হাসপাতাল ১০০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও খাবারের বাজেট একই রয়ে গেছে। ১০০ জনের খাবার ও ওষুধ দিয়ে ২৫০ জনের চিকিৎসা সামাল দেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ১০ জুন সংসদে জানান যে সব উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে/ছবি: সংগৃহীত 

‘সরকার যখন একটি হাসপাতালকে ১০০ থেকে ২৫০ শয্যায় রূপান্তরের ঘোষণা দেয়, তখন নিশ্চয়ই এই বিষয়গুলো মাথায় রাখা উচিত। নীতিনির্ধারকদের এই সংকটের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় হাসপাতাল উন্নীতকরণের মূল উদ্দেশ্যই সফল হবে না। বর্তমানে প্রতিটি হাসপাতালেই রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। এই ভিড় সামাল দিতে হলে শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি সমানুপাতিক হারে ওষুধ ও পথ্যের বাজেট বাড়াতে হবে,’ যোগ করেন অধ্যাপক খায়ের আহমেদ।

চিকিৎসাসেবার মান ধরে রাখতে জনবলের ঘাটতি পূরণের তাগিদ দিয়ে সাবেক এই অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, ‘শুধু অবকাঠামো নয়, ২৫০ শয্যা আদর্শ সেটআপ অনুযায়ী আনুপাতিক হারে চিকিৎসক, নার্স এবং প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির স্টাফ বাড়াতে হবে। ওয়ার্ড বয়, ক্লিনার থেকে শুরু করে সিকিউরিটি গার্ড- প্রতিটি পদের জনবল ১০০ শয্যা আর ২৫০ শয্যার জন্য এক হতে পারে না। এই জনবল ও বাজেট নিশ্চিত করা ছাড়া কোনোভাবেই মানসম্মত সেবা দেওয়া সম্ভব নয়।’

আরও পড়ুন বাজেটে স্বস্তি ওষুধশিল্প উদ্যোক্তাদের ৯০ শতাংশ মানসিক রোগীই চিকিৎসার বাইরে সরকারের দাবি: সব প্রস্তুতি নিয়েই শয্যা বাড়বে

বর্তমানে দেশে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেই জনবলের অনুমোদন আছে, তার দ্বিগুণ হিসাব করলেও ১০১ শয্যার হাসপাতালের জন্য ৪৯২ উপজেলায় অন্তত ৫৮ হাজার নতুন জনবলের প্রয়োজন হবে। যদিও এটি পর্যাপ্ত নয়। আর এমন জনবলও এই মুহূর্তে সরকারের পক্ষে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সব প্রস্তুতি নিয়েই এবার ১০১ শয্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উন্নীত করা হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল বিভাগের উপ-পরিচালক এ এস এ শাফী জাগো নিউজকে বলেন, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হওয়ার অর্থ হলো- জনবল, অবকাঠামো ও আর্থিক বিষয়গুলো নিয়ে কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে বলা। এসব কাজ শেষ হলে লজিস্টিক কেনাকাটা করে তারপর ১০১ শয্যা সচল হবে।

এসইউজে/একিউএফ/ এমএফএ