পাবনার বেড়া উপজেলার এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা না পেয়ে তাকে তুলে নিয়ে মারধর ও হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্রমিকদল নেতা রিপন সরদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকালে বেড়া সিএন্ডবি এলাকা থেকে তাকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত ব্যবসায়ীকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
Advertisement
আহত ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান (৪০) বেড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলহাজ মনজেল খানের ছেলে। তার হোটেল ও গাড়ির ব্যবসা রয়েছে। আর অভিযুক্ত রিপন সরদার (৩৫) সাঁথিয়া উপজেলার করমজা সরদারপাড়া গ্রামের পাশা সরদারের ছেলে। তিনি সাঁথিয়া উপজেলা শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বেড়া পৌরসভার সি অ্যান্ড বি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি মার্কেট নির্মাণ করছেন ব্যবসায়ী দুই ভাই গোলাম মোস্তফা ও মিজানুর রহমান। গত ১৯ জুন শ্রমিকদল নেতা রিপন তার লোকজন নিয়ে এসে দুই ভাইয়ের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দুই-তিনদিনের মধ্যে চাঁদা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যান। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর চাঁদা না পেয়ে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রিপন সরদারসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলে এসে মিজানুর রহমানকে তুলে পার্শ্ববর্তী সাঁথিয়া উপজেলার করমজা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মহরম সরদারের অফিসে নিয়ে যান।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, তুলে নিয়ে যাওয়ার পর মিজানুর রহমানকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এসময় তার হাতে থাকা প্রায় দেড় ভরি ওজনের দুটি সোনার আংটি এবং নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেয় অভিযুক্তরা। মারধরের ফলে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের হাত ও পা ভেঙে গেছে বলে পরিবারের দাবি। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাইপ দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বেড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
Advertisement
পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অভিযুক্ত রিপন সরদার, করমজা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মহরমসহ কয়েকজন তাদের পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। সেসময় সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হলে অভিযুক্তদের কাছ থেকে একটি মুচলেকা নেওয়া হয়। মুচলেকায় ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো ঘটনার দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর বর্তাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সম্প্রতি তারা আবারও চাঁদা দাবি শুরু করে।
আহত ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের যৌথ পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের কাছে আলাদাভাবে চাঁদা দাবি করা হতো। এর আগে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয়েছিল। সম্প্রতি আবার চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দেওয়ায় আমাকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। আমার প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা মূল্যের দুটি সোনার আংটি এবং নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সাঁথিয়া উপজেলা শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন সরদার বলেন, মিজানুর রহমান একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার সঙ্গে পূর্ববিরোধের জেরে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। আর চাঁদা দাবি ও অন্যান্য অভিযোগ মিথ্যা।
এ ব্যাপারে বেড়া মডেল থানার ওসি নয়ন কুমার সরকার বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Advertisement
আলমগীর হোসাইন নাবিল/এফএ/এমএস