খেলাধুলা

‘মেসির জন্য প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত আমরা’

২০২২ বিশ্বকাপেই দেখা গেছে, আর্জেন্টিনা দলটি খুবই একতাবদ্ধ। দলের সবাই যেন এক মেসির জন্যই পাগল। মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফিটা তুলে দিতে জানপ্রাণ দিয়ে খেলেছে দলটি। এমনিতে দলের শক্তি যতটা, সেটাকে আরও শানিত করে তুলেছিল ফুটবলারদের ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্যপানে সবার একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়া।

Advertisement

আর্জেন্টিনা দলটি ঠিক একইভাবে এবারও বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা যে ৮টি গোল করেছে, তার ৬টিই করেছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা দলের ডিফেন্ডার ফাকুন্দো মেদিনা সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে, ‘মেসির জন্য প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত আমরা।’

মোট কথা, বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির বিদায়টা স্মরণীয় করে তুলতে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আর্জেন্টিনার এই ডিফেন্ডার। সে সঙ্গে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে নিজের অ্যাসিস্টের প্রশংসায় মেসি যে মন্তব্য করেছিলেন, সেটিকে ‘একটু বাড়িয়ে বলা’ বলেও মন্তব্য করেছেন মেদিনা।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিকোলাস তালিয়াফিকোর চোটের কারণে প্রথম দুই ম্যাচে একাদশে সুযোগ পান অলিম্পিক মার্শেইয়ের এ ডিফেন্ডার। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে দারুণ দৌড়ে মেসির জন্য যে কাটব্যাক করেছিলেন, সেটি থেকেই আসে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের গোল।

Advertisement

ম্যাচ শেষে মেসি সেই অ্যাসিস্টের প্রশংসা করে বলেছিলেন, কাটব্যাকটি তাকে বার্সেলোনায় জর্দি আলবার সঙ্গে কাটানো সময়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। মেসির ভাষায়, ‘আমি সবসময় জর্দি আলবাকে বলতাম, পেছনে পাস দাও, আমি ঠিকই পৌঁছে যাব। মেদিনার পাসটা আমাকে সেই স্মৃতিই ফিরিয়ে দিয়েছে।’

তবে ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেদিনা হাসতে হাসতেই সেই মন্তব্যকে বিনয়ের সঙ্গে উড়িয়ে দেন। ‘আমার মনে হয় মেসি একটু বাড়িয়ে বলেছে। হয়তো ওর বার্সেলোনার দিনের কথা মনে পড়েছিল; কিন্তু আজকাল সবকিছুই অনেক বড় করে দেখা হয়। আমি শুধু নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করি’- বলেন তিনি।

‘মেসির জন্য জীবনও দিতে রাজি’

গ্রুপ জে-তে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। সর্বশেষ জর্ডানকেও তারা হারিয়েছে ৩-১ গোলে। সামনে এখন নকআউট পর্বের লড়াই। প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের লক্ষ্য একটাই- মেসির শেষ বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে তোলা।

Advertisement

মেদিনা বলেন, ‘এখন সামনে ছয়টি ফাইনাল অপেক্ষা করছে। আমরা প্রতিটি ম্যাচকে ফাইনাল হিসেবেই খেলব। সবাই নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দেবে, প্রয়োজন জীবন বাজি রাখবো, যাতে আমাদের অধিনায়কের বিদায়টা সবচেয়ে সুন্দর হয়। অবশ্যই আমরা চাই তিনি আরও খেলুন। কিন্তু যতদিন তিনি আছেন, আমরা তার জন্য জীবন দিয়ে হলেও লড়াই করব।’

একাদশে সুযোগ পেলেও সেটি যে তিনি প্রত্যাশিতভাবে পাননি, সেটিও স্বীকার করেছেন মেদিনা। কারণ, সতীর্থ নিকোলাস তালিয়াফিকোর ইনজুরির কারণেই তাকে খেলতে হয়েছে। ‘ঘটনাটা আমি যেভাবে চেয়েছিলাম, সেভাবে হয়নি। কারণ নিকো চোট পেয়েছে, আর আমি তাকে খুবই শ্রদ্ধা করি। তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। কোচিং স্টাফ যেটা সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা সেটার জন্য প্রস্তুত। সৌভাগ্যবশত দল ভালো ফল করেছে, আমাদের অধিনায়কও ভালো খেলছে। এটা কোনো একজনের নয়, পুরো দলের সাফল্য। যেখানে দরকার হবে, আমি সবসময় প্রস্তুত।’

ম্যারাডোনার শহর থেকে উঠে আসার গল্প

সাক্ষাৎকারের শেষদিকে নিজের শৈশবের কথাও তুলে ধরেন মেদিনা। বুয়েনস আয়ার্সের ভিলা ফিওরিতো এলাকায় বড় হওয়া এ ফুটবলার জানান, ছোটবেলায় পরিবার চালাতে কার্ডবোর্ড কুড়ানোর মতো কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে।

তিনি বলেন, ‘আমার মা আর পরিবারের মানুষজন অসাধারণ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। সবসময় আমাকে সঠিক পথে রাখার চেষ্টা করেছেন। আমি সবসময় আমার এলাকার প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। ভিলা ফিওরিতো মানেই দিয়েগো ম্যারাডোনা। তিনি যে অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছিলেন, আজও সেটাই মানুষকে পথ দেখায়। সেই উত্তরাধিকার বহন করতে পারাটাই আমার জন্য গর্বের।’

আইএইচএস/