বিশ্বকাপের কয়েক সপ্তাহ আগে হাতের আঙুলে চোট পান আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। আঙুল ঠিক হওয়া নিয়ে শঙ্কায় ছিল খোদ আর্জেন্টাইন চিকিৎসকরাই। পরবর্তী সবকিছুকে ছাপিয়ে বিশ্বকাপের শুরু থেকেই দেখা গেল তাকে। এবার জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচের দিন নিজেই ভাঙা আঙুল দেখিয়ে জানালেন, এই হাত নিয়েই তিনি গোলপোস্ট সামলাবেন।
Advertisement
জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ের পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের গোলরক্ষক দিবু মার্টিনেজ জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ শুরুর আগে ভেঙে যাওয়া ডান হাতের অনামিকা আঙুল এখনও তাকে ভোগাচ্ছে। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, আগামী শুক্রবার শেষ ৩২-এর ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্প্লিন্ট ছাড়াই খেলবেন।
ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে তিনি বলেন, ‘আমি অস্ত্রোপচার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সময়টা খুব কঠিন ছিল, অনেক কষ্ট পেয়েছি। এখনও স্বাভাবিকভাবে অনুশীলন করতে পারছি না, তবে আগামী ম্যাচে স্প্লিন্ট ছাড়াই খেলতে পারব।’
তিনি আরও জানান, কোচ লুইস মার্টিনের সঙ্গে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় কাজ করেছেন এবং দলের অন্য দুই গোলরক্ষক হেরোনিমো রুলি ও হুয়ান মুসো তাকে দারুণ সহায়তা করেছেন।
Advertisement
এমি বলেন, ‘মার্টিনের সঙ্গে আমাকে একাই এই পরিস্থিতি সামলাতে হয়েছে। জেরো (রুলি) ও হুয়ান (মুসো) আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। পুরো সপ্তাহ তারা ভলিবল দিয়ে অনুশীলন করেছে। আঙুলে এখনও অনেক ব্যথা হয়, কিন্তু মাঠে নেমে সেটা ভুলে থাকার চেষ্টা করি।’
মার্টিনেজের ডান হাতের অনামিকা আঙুলে চিড় ধরেছিল ইউরোপা লিগের ফাইনালের আগে ওয়ার্ম-আপের সময়, যে ম্যাচে অ্যাস্টন ভিলা ৩-০ ব্যবধানে ফ্রাইবুর্গকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল।
সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘যখন আমাকে বলা হলো অস্ত্রোপচার করতে হবে, তখন মাথায় হাজারো চিন্তা ঘুরছিল। কিন্তু কোচ সব সময় আমাকে সমর্থন দিয়েছেন, যা আমাকে অনেক সাহস জুগিয়েছে। আর ফিজিও পাবলো ক্যাপুচেত্তি সেদিন রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমার আঙুলের ফোলা কমানোর চেষ্টা করেছেন।’
চোট থেকে সেরে ওঠার অগ্রগতিতে খুশি হলেও জর্ডানের বিপক্ষে হজম করা গোল নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন ৩২ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। বলেন, ‘আমি তো মরে যেতে চেয়েছিলাম। এখানে প্রতিপক্ষ মাত্র দুইবার শট নিয়েই গোল করে ফেলল। কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচটার কথা মনে পড়ে গেল। আমার মনে হয়, গোলটা আমি ঠেকাতে পারতাম।’
Advertisement
শেষে আগামী শুক্রবার মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সব ম্যাচই দেখি। করার মতো আর কিছু নেই। তারা ভালো দল, শারীরিকভাবে শক্তিশালী, দারুণ রক্ষণভাগ রয়েছে এবং খুব দ্রুতগতির। কঠিন একটি গ্রুপ থেকে তারা যোগ্যতা অর্জন করেছে, সেটার পেছনে কারণ আছে। এই বিশ্বকাপে অনেক চমক দেখা যাচ্ছে।’
আরআর/এমএমআর