খেলাধুলা

রোনালদোকে মেসি বা হালান্ডের সঙ্গে তুলনা করা ‘শিশুসুলভ’

পর্তুগালের প্রধান কোচ রবার্তো মার্তিনেজ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে লিওনেল মেসি বা আরলিং হালান্ডের মতো করে পরিচালনা করা উচিত- এমন ধারণাকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এ ধরনের তুলনাকে ‘শিশুসুলভ’ বলে অভিহিত করেছেন। বয়স ৪১ হলেও অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে পর্তুগালের প্রতিটি মিনিট মাঠে খেলেছেন।

Advertisement

মার্তিনেজ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, রোনালদোকে বিশ্রাম দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে- এমন ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন। তার মতে, অধিনায়কের শারীরিক চাহিদার সঙ্গে মেসি বা হালান্ডের তুলনা করা ‘শিশুসুলভ’। কলম্বিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের গোলশূন্য ড্র ম্যাচে রোনালদো পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন। এই ফলাফলে পর্তুগাল গ্রুপ ‘কে’-তে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।

৪১ বছর বয়সী রোনালদো দেশের হয়ে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই পুরো ২৭০ মিনিট খেলেছেন। অন্যদিকে নকআউট পর্বের আগে নিজেদের তারকাদের বিশ্রাম দিয়েছে কয়েকটি দল। নরওয়ে ও আর্জেন্টিনা যথাক্রমে হালান্ড ও মেসিকে বিরতি দিলেও মার্তিনেজ বিশ্বাস করেন, তার দলের তুরুপের তাস রোনালদো মানসিক ও শারীরিকভাবে বিশ্রাম ছাড়াই দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সক্ষম।

মিয়ামি গার্ডেন্সে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মার্তিনেজ রোনালদোকে কেন রোটেশনে রাখা হয়নি, সে প্রশ্ন দ্রুতই থামিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা অন্য দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে তুলনা করি না। সেটা শিশুসুলভ হবে। ক্রিশ্চিয়ানো সবসময় সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থাকার অভ্যাস গড়ে তুলেছে। বিষয়টি মূলত মানসিক দৃঢ়তা, অবস্থানগত শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আমাদের আক্রমণভাগে জায়গা তৈরি করার সঙ্গে সম্পর্কিত।’

Advertisement

স্প্যানিশ কোচ আরও ব্যাখ্যা করেন যে তার সিদ্ধান্তগুলো বাইরের আলোচনার ভিত্তিতে নয়, বরং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত তথ্য-উপাত্তের ওপর নির্ভর করে নেওয়া হয়। ‘ক্রিশ্চিয়ানোর জন্য ৯০ মিনিট খেলা কোনো সমস্যা নয়। তবে হয়তো পরের ম্যাচে আমাদের পরিবর্তন আনতে হতে পারে, কিন্তু সেটি অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আমরা ২১ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে ব্যবহার করেছি, তাই খেলার সময় সবাই ভাগাভাগি করে নিচ্ছে,’ যোগ করেন তিনি।

কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে পর্তুগাল একাধিক কৌশলগত পরিবর্তন আনলেও রোনালদোই ছিলেন মাঠের একমাত্র স্থায়ী উপস্থিতি। মার্টিনেজ জানান, কিছু নির্দিষ্ট পজিশনে শারীরিক চাহিদা বেশি থাকায় সেখানে রোটেশনের প্রয়োজন হয়।তিনি বলেন, ‘আজ আমরা হোয়াও নেভেস ও রুবেন নেভেসকে ৪৫ মিনিট করে খেলিয়েছি। একইভাবে দিয়োগো দায়ত ও হোয়াও ক্যানসেলোর ক্ষেত্রেও করেছি, কারণ ভিন্ন ভিন্ন পজিশনের চাহিদাও ভিন্ন।’

পর্তুগালের কোচিং স্টাফের কাছে কে খেলবেন আর কে বিশ্রাম পাবেন, তা নির্ধারণ করা অনেকটাই বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। মার্তিনেজ বলেন, ‘কিছু খেলোয়াড় এখনও শতভাগ ফিট নয়, তবে আমরা যে সব তথ্য সংগ্রহ করি, সেগুলো সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের খুব সাহায্য করে।’

কলম্বিয়ার বিপক্ষে রোনালদো কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট করতে না পারলেও অধিনায়কের শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে কোচের কোনো সংশয় নেই। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ড্রয়ের ফলে এখন পর্তুগালকে শুক্রবার টরন্টোয় রাউন্ড অব ৩২-এ ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

Advertisement

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারায় পরবর্তী রাউন্ডে ইউরো-২০২৪ চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে পড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। তবে মার্টিনেজের মনোযোগ আপাতত দলের উন্নতির দিকেই।

তিনি বলেন, ‘এখন সময় নিজেদের আরও মানিয়ে নেওয়া, উন্নতি করা এবং ম্যাচকে আমাদের নিয়ন্ত্রণে আনার। বলের দখল বাড়াতে হবে এবং খেলার নিয়ন্ত্রণ আরও ভালোভাবে নিতে হবে। এটাই বিশ্বকাপের অংশ, আধুনিক কৌশলগত বাস্তবতার অংশ। আমি আগেই বলেছি, আমাদের সেরা পর্যায়ে পৌঁছাতে এই তিনটি ম্যাচ প্রয়োজন ছিল। আজকের ম্যাচটা খুবই মূল্যবান ম্যাচ ছিল। আমরা এখানে আটটি ম্যাচ খেলতে চাই এবং এখন থেকে এটি একেবারেই ভিন্ন ধরনের টুর্নামেন্ট।’

আরএএইচইউএল/