চুল পড়া, খুশকি, শুষ্ক স্ক্যাল্প কিংবা চুলের আগা ফেটে যাওয়ার মতো সমস্যা এখন খুবই সাধারণ। এ ধরনের সমস্যার সমাধানে অনেকেই দামি হেয়ার কেয়ার পণ্যের ওপর নির্ভর করেন। তবে ঘরোয়া কিছু উপাদানও চুলের যত্নে বেশ কার্যকর হতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মেথি।
Advertisement
প্রাচীনকাল থেকেই চুলের যত্নে মেথি ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশেষ করে মেথি ভেজানো পানি বা মেথি সেদ্ধ পানি অনেকেরই নিয়মিত হেয়ার কেয়ার রুটিনের অংশ। এমনকি বর্তমানে বিভিন্ন শ্যাম্পু, সিরাম ও হেয়ার মাস্কেও মেথির নির্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে।
মেথিতে রয়েছে আয়রন, প্রোটিন, ফ্ল্যাভোনয়েড, স্যাপোনিন এবং বিভিন্ন উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান চুলের গোড়া মজবুত রাখতে, স্ক্যাল্পের যত্ন নিতে এবং চুল ভেঙে যাওয়া কমাতে সহায়ক হতে পারে। যদিও এক রাতেই নতুন চুল গজানো সম্ভব নয়, তবে সুস্থ স্ক্যাল্প তৈরি করে নতুন চুল গজানোর জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে মেথির পানি ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেথির পানির কার্যকারিতা আরও বাড়াতে এর সঙ্গে কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদান যোগ করা যেতে পারে।
রোজমেরিচুলের যত্নে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ভেষজগুলোর একটি হলো রোজমেরি। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি স্ক্যাল্পে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে এবং হেয়ার ফলিকল সুস্থ রাখতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুল পাতলা হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
Advertisement
ব্যবহারের জন্য এক মুঠো শুকনো রোজমেরি পাতা মেথির সঙ্গে ফুটিয়ে নিন। পানি ঠান্ডা হলে ছেঁকে স্ক্যাল্পে লাগান। ২০-৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। শুকনো পাতা না পেলে কয়েক ফোঁটা রোজমেরি এসেনশিয়াল অয়েল ঠান্ডা মেথির পানিতে মিশিয়েও ব্যবহার করতে পারেন।
লবঙ্গলবঙ্গে রয়েছে ইউজেনল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান। এগুলো স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখতে, খুশকির সমস্যা কমাতে এবং চুলে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা আনতে সহায়ক হতে পারে।মেথি ফুটানোর সময় ৩ থেকে ৫টি লবঙ্গ যোগ করুন। এরপর ঠান্ডা করে ছেঁকে সেই পানি স্ক্যাল্প ও চুলে ব্যবহার করুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে স্ক্যাল্প সতেজ থাকতে পারে।
কারি পাতাকারি পাতায় রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা চুলের গোড়া মজবুত রাখতে এবং চুল ভাঙা কমাতে সহায়ক হতে পারে। অনেকেই মনে করেন, এটি অকালে চুল পেকে যাওয়ার গতি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে, যদিও এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
মেথির সঙ্গে ১০ থেকে ১৫টি তাজা কারি পাতা ফুটিয়ে নিন। ঠান্ডা করে ছেঁকে সেই পানি স্ক্যাল্পে লাগান। চাইলে মেথি ও কারি পাতা একসঙ্গে বেটে হেয়ার মাস্ক হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। ২০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন।
Advertisement
শুষ্ক ও সংবেদনশীল স্ক্যাল্পের জন্য অ্যালোভেরা বেশ উপকারী। এটি স্ক্যাল্পে আর্দ্রতা বজায় রাখতে, জ্বালাভাব কমাতে এবং চুলকে নরম ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে অ্যালোভেরা কখনোই মেথির সঙ্গে ফুটাবেন না। প্রথমে মেথির পানি সম্পূর্ণ ঠান্ডা করুন। এরপর এতে ২ থেকে ৩ টেবিল চামচ খাঁটি অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি চুলের গোড়া ও পুরো চুলে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
আরও পড়ুন নতুন চুল গজাতে রোজমেরি যেভাবে ব্যবহার করবেন যেভাবে ব্যবহার করবেনসপ্তাহে ১ থেকে ২ বার এই ধরনের প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করাই যথেষ্ট। অতিরিক্ত ব্যবহার করলে সব ধরনের চুলে একই ফল নাও পাওয়া যেতে পারে। প্রতিবার ব্যবহারের আগে নতুন করে মিশ্রণ তৈরি করা ভালো।
এছাড়া যাদের স্ক্যাল্প খুব সংবেদনশীল বা অ্যালার্জির প্রবণতা রয়েছে, তারা ব্যবহারের আগে অবশ্যই হাতে বা কানের পেছনে প্যাচ টেস্ট করে নিন।
আরও পড়ুন দামি কন্ডিশনার নয় মধুতে লুকিয়ে আছে চুলের আসল সৌন্দর্যমনে রাখতে হবে, মেথির পানি বা অন্য কোনো ঘরোয়া উপাদান চুল পড়ার চিকিৎসার বিকল্প নয়। যদি দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়া, তীব্র খুশকি, স্ক্যাল্পে চুলকানি বা অন্য কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে অবশ্যই একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
এসএকেওয়াই