অফিসের ব্যস্ততা, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব কিংবা দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইলের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে অনেকেই সারাদিন ক্লান্ত অনুভব করেন। তখন এক কাপ চা বা কফিই যেন ভরসা হয়ে ওঠে। তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইনের ওপর নির্ভরশীলতা শরীরের জন্য সব সময় উপকারী নয়। বরং দৈনন্দিন কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে চা-কফি কম পান করেও নিজেকে প্রাণবন্ত রাখা সম্ভব।
Advertisement
শরীরে পানির ঘাটতি হলে প্রথম যে লক্ষণগুলোর একটি দেখা দেয়, তা হলো অবসন্নতা। তাই ক্লান্ত লাগলে প্রথমেই এক গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস করুন। চা ও কফির কারণে শরীরে প্রস্রাবের পরিমাণ কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। ফলে কিছু সময় পর পানিশূন্যতা তৈরি হলে আবারও ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। তখন আবার চা বা কফি খেলে সেটি এক ধরনের অভ্যাসে পরিণত হয়। এই চক্র থেকে বের হতে নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করাই সবচেয়ে সহজ সমাধান।
আরও পড়ুন যেভাবে নিজেকে ‘গোলমেশিন’ বানিয়েছেন আর্লিং হালান্ড পুষ্টিকর স্ন্যাকস বেছে নিনখাবারের ফাঁকে বাদাম, বিভিন্ন ধরনের বীজ বা স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খেতে পারেন। এগুলো শরীরকে প্রয়োজনীয় আমিষ ও উপকারী চর্বি সরবরাহ করে। এ ছাড়া প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কাঁচা সালাদ রাখার চেষ্টা করুন। কাঁচা শাকসবজিতে ভিটামিন বি ভালো পরিমাণে থাকে, যা শরীরের শক্তি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রান্নার সময় এই ভিটামিনের কিছু অংশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে, তাই অল্প হলেও কাঁচা সবজি খাওয়া উপকারী।
সালাদকে আরও পুষ্টিকর করতে সেদ্ধ ডিম, মাংস বা সেদ্ধ সবজি যোগ করা যেতে পারে। অন্যদিকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্টফুড কিংবা অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত শর্করা খেলে দ্রুত ক্ষুধা ফিরে আসে এবং শরীর আরও ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
Advertisement
ঘরের বাইরে প্রাকৃতিক আলো, বিশুদ্ধ বাতাস এবং সবুজ পরিবেশ মন ও শরীর-দুটোকেই সতেজ রাখে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট বাইরে হাঁটা বা খোলা জায়গায় সময় কাটানোর চেষ্টা করুন। যদি ঘুমের সমস্যা থাকে, তাহলে এই সময় এক ঘণ্টা পর্যন্ত বাড়াতে পারেন। এ ছাড়া কর্মস্থল বা বাসার পরিবেশও আরামদায়ক রাখতে ছোট গাছ কিংবা হালকা প্রাকৃতিক সুগন্ধ ব্যবহার করতে পারেন।
আরও পড়ুন এই অভ্যাসেই দ্রুত বুড়িয়ে যায় ত্বক নিয়মিত শরীরচর্চা করুনঅনেকের ধারণা, ব্যায়াম করলে আরও ক্লান্ত লাগবে। বাস্তবে বিষয়টি ঠিক উল্টো। শরীরচর্চা করলে বিপাকক্রিয়া সক্রিয় হয় এবং শরীর শক্তি উৎপাদনে আরও কার্যকরভাবে কাজ করে। পাশাপাশি ব্যায়ামের সময় এন্ডরফিন নামের হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক প্রশান্তি বাড়ায় এবং শরীরকে আরও প্রাণবন্ত অনুভব করতে সাহায্য করে।
দীর্ঘক্ষণ একটানা কাজ করবেন নাটানা কাজ করলে শরীর ও মস্তিষ্ক দুটিই দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইলের স্ক্রিনের সামনে থাকেন, তাদের নির্দিষ্ট বিরতি নেওয়া জরুরি। কাজের ফাঁকে কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন, পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলুন, সহকর্মীর সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্প করুন কিংবা প্রিয় মানুষের ছবি দেখে মনকে কিছুটা সতেজ করে নিন।
ঘুমের সঙ্গে আপস করবেন নাপর্যাপ্ত ঘুম ছাড়া সারাদিন চাঙা থাকা কঠিন। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। দিনের বেলায় অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগলে ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের একটি ছোট্ট ‘পাওয়ার ন্যাপ’ আপনাকে আবারও কর্মক্ষম করে তুলতে পারে।
Advertisement
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের জৈবঘড়িকে ঠিক রাখে। এতে দিনের কাজের সময় সতেজ থাকা সহজ হয় এবং রাতেও সহজে ঘুম আসে।
পরিমিত পরিমাণে চা বা কফি পান করা সুস্থ মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ে এক বা দুই কাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখাই ভালো। দিনের বাকি সময় সতেজ থাকতে স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো অনুসরণ করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
তথ্যসূত্র: ওয়েবএমডি
জেএস/