বর্ষা শুরু হলেই আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ার কারণে মাছিসহ নানা ধরনের পোকামাকড়ের উপদ্রবও বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে রান্নাঘরে মাছির আনাগোনা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। তাই এই সময়ে খাবার খোলা অবস্থায় রাখা একেবারেই উচিত নয়। এমনকি ফলের উপরও মাছি বসতে পারে।
Advertisement
মাছি বিভিন্ন নোংরা জায়গা থেকে জীবাণু বহন করে খাবারের উপর বসে। সেই দূষিত খাবার খেলে খাদ্য বিষক্রিয়াসহ নানা ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই বর্ষাকালে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললে রান্নাঘর ও ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সহজ হবে।
আরও পড়ুন খুব বেশি পরিষ্কার থাকাও হতে পারে ক্ষতিকর রান্নাঘর সবসময় পরিষ্কার রাখুনসবজি বা ফলের খোসা, ডিমের খোলা, মাছের আঁশ কিংবা রান্নার উচ্ছিষ্ট দীর্ঘ সময় রান্নাঘরে জমিয়ে রাখবেন না। ডাস্টবিন নিয়মিত খালি ও পরিষ্কার করুন। পাশাপাশি রান্নাঘরের সিঙ্ক, কিচেন টপ এবং অন্যান্য ব্যবহৃত জায়গাও প্রতিদিন পরিষ্কার রাখুন। রান্নাঘর যতটা সম্ভব শুকনো রাখার চেষ্টা করুন। স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে জীবাণু ও পোকামাকড় দ্রুত বংশবিস্তার করে, ফলে মাছির উপদ্রবও বেড়ে যায়।
খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুনবর্ষাকালে কেনা ফল ও সবজি সম্ভব হলে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। কাটা ফল বা সবজি অবশ্যই এয়ারটাইট পাত্রে ভরে ফ্রিজে রাখুন। রান্না করা বা অন্য কোনও খাবারও খোলা অবস্থায় না রেখে ঢাকনা দিয়ে রাখুন। মুদিখানার শুকনো পণ্যও বদ্ধ পাত্রে সংরক্ষণ করলে মাছি ও অন্যান্য পোকামাকড়ের আক্রমণ কমে।
Advertisement
শুধু রান্নাঘরের নয়, বাড়ির সব ডাস্টবিনই নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। খোলা জায়গায় ময়লার বালতি রেখে দেবেন না, কারণ এতে মাছি সহজেই ভিড় জমায়। বাড়ির আশপাশও পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। ঘরের অতিরিক্ত আর্দ্রতা কমাতে একটি পাত্রে কিছুটা লবণ রেখে দিতে পারেন। লবণ বাতাসের আর্দ্রতা শোষণ করতে সাহায্য করে। প্রতি ৭ থেকে ১০ দিন পরপর সেই লবণ বদলে দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
বর্ষাকালে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, খাবার ঢেকে রাখা এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখাই মাছির উপদ্রব কমানোর পাশাপাশি পরিবারকে জীবাণুর সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখার অন্যতম কার্যকর উপায়।
আরও পড়ুন এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহারের আগে অবশ্যই জেনে রাখুনজেএস/
Advertisement