ভারতে অবস্থান করা কার্যক্রম নিষিদ্ধ পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের বিষয়টি দিল্লির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সরকার আলোচনা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
Advertisement
তিনি বলেন, এসব নেতার অনেকেই বিভিন্ন মামলার আসামি এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। তাই শুধু উসকানিমূলক বক্তব্য নয়, তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের বিষয়টিও রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়মিতভাবে উত্থাপন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
গত কয়েকদিন ধরে দেখা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা ভারতে পলাতক বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সরকার কথা বলবে কি না- জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, এই কথার সঙ্গে আমি একমত যে, ভারতে বসে তারা যে কাজটা করছেন, রাষ্ট্রীয় জায়গা থেকে এটা নিয়ে আগেও আমাদের সরকার থেকে কথা বলা হয়েছে, এটা বলা হবে। কারণ তাদের অনেকেই মামলার আসামি আছেন, তাদের অনেকের নামেই ওয়ারেন্ট আছে, কারও কারও নামে সাজা হয়ে গেছে। কথা বলা দূরে থাকুক, তাদের তো আমাদের কাছে হস্তান্তর করারই কথা আছে। আমরা সেই জায়গা থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই কথা নিয়মিতভাবে বলা হচ্ছে, আমরা সেটা চালিয়ে যাব।
Advertisement
সম্প্রতি তুরাগ নদী ঘিরে দুপক্ষের অপপ্রচার হচ্ছে। সরকার বিষয়টি পরিষ্কার করছে না- এ বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, সেখানে কিছু মৃত্যু হয়েছে। খুবই আনএক্সপেক্টেড, আমরা প্রায় বলি যেটা হতে পারে না, এটা হওয়া উচিৎ না। কিন্তু আপনারা জানেন ঘটনাগুলো কীভাবে হয়েছে। সরকারের যে স্বাভাবিক কাজ, সরকার এগুলো তদন্ত করবে এর সঙ্গে কেউ জড়িত আছে কি না। কিন্তু আপনারা দেখেছেন ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টও আছে দেশীয় এবং দেশের বাইরের সংস্থারও রিপোর্ট আছে, যেখানে ক্লিয়ারলি দেখা গেছে আসলে তারা পালাতে গিয়েছিলেন এবং সে ধরনের পরিস্থিতিতেই এটা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এটাকে দুঃখজনক মনে করি। আওয়ামী লীগ যারা এখনো করেন, এখনো যারা আওয়ামী লীগের মিছিল করতে আসেন, আমি খুব দুঃখ পাই, আমি সত্যিই দুঃখ পাই, কিন্তু তাদের জীবনও মূল্যবান। তারা এই রাষ্ট্রের নাগরিক, এটাও আমরা বিশ্বাস করি। এবং প্রত্যেকের প্রতি আমরা এই আহ্বান জানাতে চাই-রাষ্ট্রের আইন যেন তারা মেনে চলেন।’
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তো নিষিদ্ধ হয়নি, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে। তারা একটু অপেক্ষা করুক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আইসিটি থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলছে। সেই সময়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেই হবে। যদি বিচারে দেখা যায় যে তাদের নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না, আবারও বলছি এটা আদালতের এখতিয়ার, তিনি (বিচারক) সব পক্ষকে শুনেই সিদ্ধান্ত নেবেন, তাহলে তারা তাদের কার্যক্রম করতে পারবেন।’
আরএমএম/এমআইএইচএস
Advertisement