খেলাধুলা

হাইড্রেশন বিরতিকে কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি ডলার আয়

বিশ্বকাপ এখন শেষ আট দলের লড়াইয়ে পৌঁছে গেছে। আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কে শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে দলগুলো। গত এক মাসেরও বেশি সময়ে ৯০টির বেশি ম্যাচে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত, দারুণ সব গোল এবং বিতর্কের জন্ম হয়েছে। তবে একটি বিষয় এখনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে-বিতর্কিত হাইড্রেশন বিরতি।

Advertisement

অনেকে আবার এটিকে বাধ্যতামূলক বিজ্ঞাপন বিরতি বলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, কারণ এর ফলে ফুটবল যেন চার কোয়ার্টারের খেলায় পরিণত হয়েছে।

তীব্র গরমে খেলোয়াড়দের শরীরে পানির ঘাটতি পূরণের সুযোগ দিতে খেলা সাময়িক বন্ধ রাখার ধারণাটি তাত্ত্বিকভাবে যৌক্তিক। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি অনেক সময়ই অপ্রয়োজনীয় বা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া বলে মনে হয়। বিশেষ করে যখন ম্যাচগুলো জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার কোনো সম্পর্কই থাকে না।

সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রতি ম্যাচের ২২তম ও ৬৭তম মিনিটে বাধ্যতামূলক এই তিন মিনিটের বিরতি যেন সোনার খনি হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ফক্স স্পোর্টসের সম্প্রচারস্বত্ব চুক্তির আর্থিক চিত্র সত্যিই বিস্ময়কর।

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রে ইংরেজি ভাষায় বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব কিনতে প্রায় ৪৮৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিল ফক্স স্পোর্টস। কিন্তু হাইড্রেশন বিরতির কারণে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ পাওয়ায় সেই বিপুল বিনিয়োগের বড় একটি অংশ প্রায় উঠে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিরতির সময় মাঠের দৃশ্য দেখানোর পরিবর্তে পূর্ণ পর্দাজুড়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করে প্রতিটি ম্যাচে প্রায় ২৬০ সেকেন্ড অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন বিক্রির সুযোগ তৈরি করেছে ফক্স। এর আর্থিক প্রভাবও ছিল তাৎক্ষণিক এবং বিশাল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু গ্রুপ পর্বেই এই অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন থেকে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত আয় করেছে।

ম্যাচের গুরুত্ব অনুযায়ী প্রতিটি ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের মূল্য ছিল ২ লাখ থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে। ফলে ১০৪ ম্যাচের পুরো টুর্নামেন্টে শুধু হাইড্রেশন বিরতির বিজ্ঞাপন থেকেই ফক্সের সম্ভাব্য আয় ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এতে ভবিষ্যতের ফুটবলের জন্য এক ধরনের অদ্ভুত প্রণোদনার কাঠামো তৈরি হয়েছে। কারণ সম্প্রচারস্বত্বের চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর ফিফা হাইড্রেশন বিরতির নিয়ম ঘোষণা করেছিল। ফলে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই নতুন বিজ্ঞাপন বিক্রির সুযোগ পেয়ে যায়।

Advertisement

স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের অনেকেই এই মধ্যার্ধের বিরতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে দুয়োধ্বনি দেন। কিন্তু বিজ্ঞাপন থেকে আসা বিপুল আয়ের কারণে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই বিরতিকে উপেক্ষা করা প্রায় অসম্ভব।

ফিফা দাবি করতে পারে যে এই নীতি কেবল খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অর্থনৈতিক বাস্তবতা বলছে, হাইড্রেশন বিরতি সফল বাণিজ্যিকীকরণ করেছে। খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে কাজে লাগিয়ে এটি সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অর্ধ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয়ের এক বিশাল সুযোগে পরিণত হয়েছে।

আরএএইচইউএল/এমএমআর