দেশজুড়ে

মৌলভীবাজারে দুই নদীর বাঁধ ভাঙনে পানিবন্দি ১৫ হাজার মানুষ

দুই দিনের টানা বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষাবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে জেলার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে এবং সড়কের কালভার্ট ভেঙে পড়েছে। পানির স্রোতে আউশক্ষেত ও শাক-সবজির ক্ষতি হচ্ছে।

Advertisement

জানা গেছে, বুধবার রাত ১০ টার দিকে কমলগঞ্জের ধলাই নদীর সীমান্তবর্তী ইসলামপু ইউনিয়নের মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার ইসলামপুর, আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের মখাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরিগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালায়েরবিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দের গাঁও, তেঁতইগাও, ভানুবিল ঘোরামারা গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে ভারতীয় বিএসএফ’র বাঁধার কারণে মখাবিল এলাকায় প্রায় ২শ’ মিটার এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামত করতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর এলাকা দিয়ে মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর, কান্দিরপুল, একামধু, হরিপাশা, গনেশপুর, আকুয়াসহ বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন।

আরও পড়ুন হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধ ভাঙনে প্লাবিত কয়েকটি গ্রাম, বন্যার শঙ্কা

 এদিকে বন্যার পানির স্রোতে জেলার কমলগঞ্জ, রাজনগর উপজেলাসহ বেশকিছু এলাকায় কৃষকদের আউশক্ষেত এবং সবজি ক্ষেত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে কৃষকরা অভিযোগ তুলেছেন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতি আরো বাড়তে পারে।

Advertisement

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপদ সীমার ওপর দিয়ে মনু ও ধলাই নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে মনু ও ধলাই নদীর দুটি স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙেছে। কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টি হলে মনু ও ধলাই নদীর কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অতি বর্ষণের পাহাড়ি ঢল নেমে কমলগঞ্জের মাধবপুর ভায়া শ্রীমঙ্গলে যাতায়াত সড়কে নুরজাহান চা বাগানের গোয়ালবাড়ি নামক স্থানে একটি কালভার্ট ধসে পড়েছে। আদমপুর ইসলামপুর সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্ন ঘটে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানি প্রবেশ করে।

শ্রীমঙ্গলস্থ আবহাওয়া অধিদপ্তর সিনিয়র পর্যবেক্ষক আনিসুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৯১ মিমি., বুধবার বিকেল ৬টা পর্যন্ত ৭৯ মি.মি. এবং বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৯৫ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে।

টেংরা ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সানুর মিয়া বলেন, আমরা চেষ্টা করছি বাঁধ রক্ষার জন্য। তবে পানি বেড়ে যাওয়ায় তা আর রক্ষা করা যায়নি। কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

Advertisement

আউশ ধান ও সবজির ক্ষতির বিষয়ে মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন জানান, বৃষ্টিপাতের কারণে ঢল নেমে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার পানি থাকায় ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পানি নামলে বোঝা যাবে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, টানা বৃষ্টি ও ধলাই নদীর ভাঙনে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানি কমতে শুরু করেছে। বন্যা প্লাবিত এলাকায় শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া বন্যার বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন উজানের ঢল-টানা বৃষ্টিতে বন্যার শঙ্কায় শেরপুর  

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার বলেন, বিকেলের দিকে উজিরপুর এলাকা দিয়ে মনু নদীর ভাঙন দেখা দেয়। কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। বন্যার্থদেরকে শুকনো খাবার দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ধলাই নদীর মখাবিল এলাকা ও মনু নদীর উজিরপুর এলাকা দিয়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভারতীয় বিএসএফ এর বাঁধায় ধলাই নদীর মখাবিলের এই অংশটুকুতে কাজ করানো সম্ভব হয়নি। আমরা সার্বক্ষণিক নজর রাখছি বন্য পরিস্থিতি ও নদীগুলোর। মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেসব স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ আছে এগুলো মেরামতের চেষ্টা চলছে।

মাহিদুল ইসলাম/এনএইচআর