২০২৬ বিশ্বকাপে প্রতিদিনই জন্ম হচ্ছে নতুন নতুন গল্পের। তবে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আবারও উঠে এসেছেন লিওনেল মেসি। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসেও আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক এমন একটি বিশ্বকাপ কাটাচ্ছেন, যা অনেকের কাছেই তার যৌবনের দুর্দান্ত সময়ের স্মৃতি ফিরিয়ে দিচ্ছে।
Advertisement
পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে মেসির প্রাণশক্তি, সৃজনশীলতা এবং ম্যাচে তার প্রভাব ফুটবল বিশ্বের সর্বত্রই প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকের মতে, ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তিনি যা করে চলেছেন, তা বয়স নিয়ে প্রচলিত ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
মেসির প্রশংসায় এবার মুখ খুলেছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান ফুটবলে মেসির প্রভাব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কোনো রাখঢাকই করেননি স্প্যানিশ কোচ। বিশ্বকাপে মেসির প্রভাব ও নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দে লা ফুয়েন্তের উত্তর ছিল স্পষ্ট ও আত্মবিশ্বাসী।‘লিওনেল মেসিকে দেখে মনে হচ্ছে, ওর বয়স যেন ১৯ বছর। সে ক্লান্ত হয় না, তৃপ্ত হয় না এবং সবার জন্যই এক অনুকরণীয় উদাহরণ,’ বলেন স্পেন কোচ।
Advertisement
তার এই মন্তব্য মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে শিরোনাম হয়ে যায়। কারণ, প্রায় সব বড় শিরোপা জয়ের পরও মেসি যে এখনো সর্বোচ্চ পর্যায়ে একই তীব্রতা নিয়ে খেলছেন, সেটিই আবারও ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে।দে লা ফুয়েন্তের মতে, মেসির কারিগরি দক্ষতার মতোই তার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মানসিকতা এবং জয়ের ক্ষুধাও সমান প্রশংসার দাবি রাখে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সেই ক্ষুধা ও দৃঢ়তা এত বছর পরও ধরে রাখা নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য একটি অনুকরণীয় উদাহরণ।
স্পেন কোচের এই মন্তব্য ফুটবল বিশ্লেষক ও সাবেক খেলোয়াড়দের ক্রমবর্ধমান সেই মতেরই প্রতিফলন, যেখানে অনেকেই মনে করছেন, এবারের বিশ্বকাপেও সবচেয়ে প্রভাবশালী ফুটবলারদের একজন মেসি।
গোল, অ্যাসিস্ট, নেতৃত্ব কিংবা ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ—সব ক্ষেত্রেই লিওনেল স্কালোনির দলের মূল ভরসা হয়ে আছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। তার পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করছে, বয়স তার ফুটবলীয় প্রভাবকে খুব একটা কমাতে পারেনি।বিশ্বজুড়ে উঠতি ফুটবলারদের কাছেও মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ার অনুপ্রেরণার উৎস। তার উদাহরণ মনে করিয়ে দেয়, প্রতিভা, পেশাদারিত্ব এবং অনুপ্রেরণা অটুট থাকলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের পারফরম্যান্স দীর্ঘদিন ধরে ধরে রাখা সম্ভব।
বিশ্বজুড়ে প্রশংসা অব্যাহত থাকলেও মেসি ও আর্জেন্টিনার পুরো মনোযোগ এখন কোয়ার্টার ফাইনালে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ৮ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের একজন হয়ে গেছেন তিনি। একই সংখ্যক গোল রয়েছে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপেরও।
Advertisement
আরেকটি বিশ্বকাপ অভিযানে ইতিহাস রচনার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে আর্জেন্টিনা। আর ফুটবল বিশ্ব আবারও তাকিয়ে থাকবে সেই খেলোয়াড়টির দিকে, যিনি যেন প্রতিনিয়ত নিজেরই গড়া ইতিহাস নতুন করে লিখে চলেছেন। আর লুইস দে লা ফুয়েন্তের মূল্যায়ন অনুযায়ী দুই দশক আগের তরুণ মেসিকেই যেন আবার দেখা যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে।আরএএইচইউএল/এসকেডি/জেএইচ