মসজিদে হনুমান চালিসা পড়ানো যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ২৩ বছর আগে সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস প্রদেশের একটি মন্দিরের বাইরে নামাজ পড়তে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল দাবি করে শুক্রবার (১০ জুলাই) এই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
Advertisement
বিরোধী দল দুটির তীব্র সমালোচনা করে যোগী দাবি করেছেন, অতীতে তারা অযোধ্যার হনুমানগড়ি মন্দিরে নামাজ আদায়ের অনুমতি দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছিল। শুক্রবার অযোধ্যার বিকাপুরে এক জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন ও বিরোধী দলগুলোকে এই ‘পাপের’ জন্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন ভারত / উত্তর প্রদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ধর্মান্তরবিরোধী’ সেল গঠনের নির্দেশযোগীর এই মন্তব্য মূলত ২০০৩ সালের নভেম্বর মাসের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে, যখন রমজান মাসে হনুমানগড়ি মন্দিরের বাইরে নামাজ আদায়ের একটি চেষ্টা করা হয়েছিল। উত্তরপ্রদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিচালক ও বর্তমান বিজেপি সাংসদ ব্রিজ লাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তৎকালীন মায়াবতী সরকারের পতনের পর মুলায়ম সিং যাদবের নেতৃত্বাধীন সমাজবাদী পার্টি সরকারের আমলে এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
বামপন্থি ভাবাদর্শের এক কর্মকর্তার মদদে হনুমানগড়ির ঠিক বাইরে নামাজ ও পরবর্তী সময়ে রোজার ইফতার মাহফিল আয়োজনের মূল পরিকল্পনা থাকলেও, তৎকালীন ফৈজাবাদের (বর্তমান অযোধ্যা) এসএসপি রাজীব সভারওয়ালের দৃঢ় অবস্থানের কারণে পুলিশ তা হতে দেয়নি। তবে পরে মন্দিরের একদম পাশেই হনুমানগড়ির মহন্তের বাসভবনে নামাজ আদায় করা হয়েছিল।
Advertisement
জনসভায় এই প্রসংগ টেনেই যোগী আদিত্যনাথ প্রশ্ন তোলেন, তারা হনুমানগড়িতে নামাজের ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু কেউ কি কখনো জামে মসজিদের ভেতরে হনুমান চালিসা পাঠ করার কথা কল্পনাও করতে পারে? কোনো সরকার, সমাজবাদী পার্টি বা কংগ্রেস কি কখনো তা করাতে পারবে? যদি না পারে, তবে হনুমানগড়িতে কেন এই পাপ করা হয়েছিল ও এর জন্য কারা দায়ী ছিল?
বিরোধী দলগুলো অযোধ্যার উন্নয়ন ও রাম মন্দির নির্মাণে ক্রমাগত বাধা সৃষ্টি করেছিল দাবি করে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তারা ভগবান রামের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিল, রাম ভক্তদের ওপর গুলি চালিয়েছিল ও অযোধ্যার নিজস্ব পরিচয় সংকটের মুখে ফেলেছিল। তবে কেন্দ্রে ও রাজ্যে বিজেপির ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সমস্ত বাধা পেরিয়ে সেখানে রাম মন্দির নির্মিত হয়েছে ও বর্তমানে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ অযোধ্যা সফর করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্র: দ্য স্টেটসম্যান
এসএএইচ
Advertisement