উগ্রবাদী সংগঠন ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম (এফসিএস)’ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে যশোর থেকে গ্রেফতার তাহসীন ইসলামকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে তিন দিনের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
শুক্রবার (১০ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মাসুম খান।
তিনি জানান, পুলিশের করা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন আদালত নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তাহসীন ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন যশোরে আলোচিত ফাতাহ কমব্যাটের সদস্য আটকমামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ বি সিদ্দিক সন্দেহভাজন হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাহসীনকে আদালতে হাজির করেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
Advertisement
শুনানির সময় তাহসীনের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। বিচারক তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৯টার দিকে যশোর সদর উপজেলার কিসমত নোয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে ১৯ বছর বয়সী তাহসীন ইসলামকে গ্রেফতার করে যশোর জেলা পুলিশ। পরে তাকে ঢাকায় কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাহসীন এফসিএসের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। গ্রেফতারের সময় তার বাড়ি থেকে একটি চাপাতি, বৈদ্যুতিক তার এবং কয়েকটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব দাবি এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
আরও পড়ুন ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা মামলায় ব্যবসায়ী সাইফুল রিমান্ডেসিটিটিসির একটি মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই যশোরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মিরাজুল ইসলাম জানান, ঢাকায় দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাহসীনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আগের একটি ডাকাতি মামলাও রয়েছে।
Advertisement
এর আগে, রোববার (৫ জুলাই) ভোরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ‘মিনি কক্সবাজার’ এলাকা থেকে এফসিএসের সন্দেহভাজন ছয় সদস্য—শাহ আমানত সাবির, হোসাইন তানিম, জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, আবিদুর রহমান ও বায়োজিতকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে আদালত তাদের মধ্যে সাবির ও তানিমকে দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। বাকি চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এমডিএএ/এমএমকে