রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যা মামলায় আসামিপক্ষের করা বদলি (ট্রান্সফার) আবেদনের বিষয়ে নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আদালত।
Advertisement
সোমবার (২৭ জুলাই) মহানগর অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক আলমগীর হোসেনের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানি শেষে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, এদিন মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য কার্যতালিকায় ছিল। বাদীপক্ষ সাক্ষী উপস্থিত করলেও আসামিপক্ষ বর্তমান আদালতের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে মামলাটি অন্য আদালতে স্থানান্তরের (বদলি) আবেদন করে।
Advertisement
অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক বলেন, এ বিষয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি বদলি মিস মামলা দায়ের করেছেন আসামিপক্ষ। শুনানিতে বাদী ও আসামি উভয় পক্ষই তাদের যুক্তি আদালতে তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জানিয়েছেন, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে বদলি আবেদনের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আদেশ দেওয়া হবে। ফলে এদিন সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রমও আর এগোয়নি।
আরও পড়ুন সাক্ষী অনুপস্থিত, লাল চাঁদ হত্যা মামলার সাক্ষ্য পেছালোএর আগে গত ১৯ জুলাই মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। সেদিন কারাগারে থাকা নয় আসামিকে আদালতে হাজির করা হলেও সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত দুই সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় কোনো সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। পরে আদালত ২৭ জুলাই পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন।
গত সপ্তাহে একই আদালত মামলার ২১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
Advertisement
বর্তমানে মামলার নয় আসামি কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন, মাহমুদ হাসান মাহিন ওরফে মাহমুদুল হাসান (মহিন), মো. তারেক রহমান রবিন, মো. টিটন গাজী, মো. আলমগীর, মো. মনির ওরফে লম্বা মনির, মো. নানু কাজী, মো. রিজওয়ান উদ্দীন ওরফে অভিজিৎ বসু, মো. জহিরুল ইসলাম এবং মো. সাগর।
এ ছাড়া মো. রুমান ব্যাপারী, মো. আবির হোসেন, মো. পারভেজ এবং সম্প্রতি সজীব ব্যাপারী উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। অন্যদিকে, জহিরুল, মো. ইমরান, মো. শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, মো. জিয়াউদ্দিন রাজীব, মো. হোসেন চৌকিদার, মো. সারোয়ার হোসেন টিটু, মো. মঙ্গল মিয়া ওরফে মনির হোসেন এবং অপু দাস এখনো পলাতক রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে একদল ব্যক্তি ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে পাথর দিয়ে আঘাত এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পরদিন নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।
প্রাথমিক তদন্ত শেষে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন এবং ১০ জনের অব্যাহতির সুপারিশ করেন। তবে তদন্তে অসঙ্গতি পাওয়ায় আদালত পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। পরে চলতি বছরের ১০ মে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ পুনঃতদন্ত শেষে একই ২১ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন।
নিহত লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকার রজনী ঘোষ লেনে ভাঙারি ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
এমডিএএ/এসএনআর