দেশজুড়ে

যানজটের শহরে খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে ফুটপাত দখল

ফরিদপুর শহরজুড়ে তীব্র যানজট। অটোরিকশা, রিকশা আর নানা যানবাহনের কারণে রূপ নিয়েছে যানজটের শহর হিসেবে। বিভিন্ন যানবাহনে চলাতো দূরে থাক হেঁটে চলাচল করাও যেন দুষ্কর আর চরম ভোগান্তির। শহরের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলতে গিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। একদিকে শহরে যানযট অন্যদিকে ফুটপাত দখল করে বিভিন্ন ভাসমান দোকানপাটের কারণে নাকাল পথচারী ও সাধারণ মানুষ।

Advertisement

ফরিদপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাত দখল করে দোকানপাট, ভাসমান ব্যবসা ও অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারীরা। পায়ে হাঁটার জন্য নির্মিত ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে শিশু, শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে, তেমনি সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে নগরবাসী।

শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শহরের জনতা ব্যাংক মোড়, হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারসংলগ্ন সড়ক, থানা মোড়, গোয়ালচামট, রাজবাড়ী রাস্তার মোড়, টেপাখোলা সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফুটপাতের বড় অংশ দখল করে বসেছে ভাসমান দোকান। কোথাও ফলের দোকান, কোথাও চা-স্টল, আবার কোথাও পোশাক, জুতা, সাইনবোর্ড কিংবা সবজির অস্থায়ী দোকান। অনেক স্থায়ী দোকানদারও তাদের পণ্য ফুটপাতে সাজিয়ে রেখেছেন। ফলে পথচারীদের জন্য ফুটপাত কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

শহরের চকবাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো. দাউদ হোসেন বলেন, ফুটপাত দিয়ে হাঁটার কোনো সুযোগই নেই। বাধ্য হয়ে সড়ক দিয়ে হাঁটতে হয়। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও বিভিন্ন যানবাহনের ভিড়ে প্রতিদিন চলাচল করতে গিয়ে মানুষের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। আমার দোকানের সামনেও এলোমেলো যানবাহন রাখায় ক্ষতি হচ্ছে। কাস্টমাররাও দোকানে প্রবেশ করতে পারে না।

Advertisement

আরও পড়ুন মহাখালীর চাপ কমানোর উদ্যোগে ভাটা, পূর্বাচল ডিপোতে আসছে না বাস

সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলেন, কলেজে যাতায়াতের সময় ফুটপাত ব্যবহার করে হেঁটে যাওয়া কোনো সুযোগ পাই না। রিকশা ও অটোরিকশাতো দূরে থাক হেঁটে চলার উপায়ও নেই। দোকান আর ক্রেতাদের ভিড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে থাকে। বাধ্য হয়ে গাড়ির পাশ দিয়ে হাঁটতে হয়। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়।

দক্ষিণ ঝিলটুলি এলাকার বাসিন্দা ও গৃহিণী নাসরিন জাহান বলেন, বাচ্চাদের স্কুলে আনা নেওয়া ও বাজার করতে গেলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। শিশুদের নিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। ফুটপাত সাধারণ মানুষের জন্য, কিন্তু এখন সেটি ব্যবসার জায়গায় পরিণত হয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ ব্যাপারে রিকশাচালক মো. কাদের শেখ বলেন, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় মানুষ রাস্তায় হাঁটে। এতে যানবাহনের গতি কমে যায় এবং প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয়। ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ নিয়ে কোনো পদক্ষেপ মোটেও লক্ষ্য করা যায় না। এ নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথাও নেই।

আরও পড়ুন গোবিন্দগঞ্জেই থেমে যায় উত্তরাঞ্চলের গতি

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, জীবিকার তাগিদেই তারা ফুটপাতে ব্যবসা করছেন। বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে আমাদের ফুটপাত দখল করে বসতে হচ্ছে। এতে যে সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে৷ এটা সঠিক।

Advertisement

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ফুটপাত দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভাসমান ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা গেলে নগরবাসী নিরাপদে ফুটপাত ব্যবহার করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

আরও পড়ুন অবৈধ ফুটপাত আর অটোর দৌরাত্ম্যে অচল গৌরীপুর বাজার

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফরিদপুরের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সভাপতি আবরাব নাদিম ইতু বলেন, ফুটপাত পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য নির্মিত। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে সড়কে হাঁটছে, যা দুর্ঘটনার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নগরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হবে। একই সঙ্গে ভাসমান ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ করাও প্রয়োজন।

বিষয়টি নিয়ে কথা হলে ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, নিয়মিতভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে অভিযান পরিচালনা করছে পৌরসভার কর্তৃপক্ষ। উচ্ছেদের পর আবার ফুটপাত দখল হয়ে যাচ্ছে। খুব শিগগিরই প্রশাসনের সহযোগিতায় সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি যেসব ভাসমান ব্যবসায়ী জীবিকার জন্য ফুটপাতে বসেন, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

এফএ/জেআইএম