দেশজুড়ে

তিন দশকেও আলোর মুখ দেখেনি খানজাহান আলী বিমানবন্দর

বাগেরহাটে প্রস্তাবিত খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্প দীর্ঘ তিন দশকেও আলোর মুখ দেখেনি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বিনিয়োগে জটিলতা তৈরি এবং উদ্যোগ না থাকায় বাস্তবায়ন হয়নি প্রকল্পটি। তবে সম্প্রতি প্রকল্প এলাকায় চীনা প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করার পর ফের আলোচনায় এসেছে খানজাহান আলী বিমানবন্দর।

Advertisement

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লা এলাকায় ১৯৯৬ সালের ২৭ জানুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সেসময় প্রাথমিক পর্যায়ে ৭৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। সামান্য মাটি ভরাটের কাজও করা হয়। এরপর আর এগোয়নি প্রকল্পটি।

আরও পড়ুন ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর / জরাজীর্ণ ভবন, রানওয়েতে জন্মেছে ঘাস

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১১ ও ২০১৮ সালের দিকে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য আরও ৫০০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়। প্রকল্প এলাকায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও আংশিক ভরাটের কাজও সম্পন্ন হয়। সাধারণ মানুষের আন্দোলন ও দাবির মুখে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অদৃশ্য কারণে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি।

শনিবার বিমানবন্দরের জন্য প্রস্তাবিত জায়গা পরিদর্শন করে চীনা প্রতিনিধিদল/ছবি-জাগো নিউজ

Advertisement

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত দিনে এখানে মাটি ভরাট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ বাদে আর কোনো কাজ হয়নি। তবে বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে চীনা প্রতিনিধি দল। এরপর এটি ফের আলোচনায় আসে।

‘খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লা এলাকায় ১৯৯৬ সালের ২৭ জানুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সেসময় প্রাথমিক পর্যায়ে ৭৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। সামান্য মাটি ভরাটের কাজও করা হয়। এরপর আর এগোয়নি প্রকল্পটি’

খুলনা রহিম ফিশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এম এ হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘ব্যবসার জন্য আমাদের বাইরে থেকে অনেক পণ্য আমদানি করে নিয়ে আসতে হয়, যা ঢাকায় আসে। তারপর আবার খুলনায় নিয়ে আসতে হয়। এটি অনেক সময়সাপেক্ষ। কারণ ঢাকা থেকে খুলনা যাওয়া আসা করতেও সময় লাগে। কিন্তু বিমানবন্দর থাকলে সরাসরি মোংলায় আমদানি করা পণ্য আনা সম্ভব।’

আরও পড়ুন রানওয়ে অচল, সিগন্যালে সচল কুমিল্লা বিমানবন্দর

সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিমানবন্দর থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারী দক্ষিণাঞ্চলে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে আসবেন বলে আশা করি। কেননা যাতায়াতে ভোগান্তি পোহায়ে কেউ বিনিয়োগ করতে চান না। আমাদের দাবি, বিমানবন্দরটি দ্রুত বাস্তবায়ন হোক।’

Advertisement

‘শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পটি অবহেলার শিকার হয়েছে। তবে চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তারা খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্পে অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দ্রুততম সময়ে বিমানবন্দরটি চালু করতে পারলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের মাত্রা আরও তরান্বিত হবে’

বিমানবন্দরের গুরুত্ব তুলে ধরে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘এটি নির্মাণ হলে বৈদেশিক বিনিয়োগকারীরা এই অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হবেন। নতুন বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে শিল্প- কারখানা গড়ে উঠলে একদিকে বেকারত্ব দূর হবে, অন্যদিকে অর্তনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। এ কারণে বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি।’

আরও পড়ুন যশোরে বেসরকারি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বন্ধ, লোকসানে টিকে আছে বিমান

বাগেরহাটে বিমানবন্দর নির্মাণ হলে দক্ষিণ এশিয়ার একটি লাভজনক ও কৌশলগত সংযোগস্থল তৈরির সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে বলে জানান খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা। তিনি বলেন, বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্প সামনে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।

শনিবার বিমানবন্দরের জন্য প্রস্তাবিত জায়গা পরিদর্শন করে চীনা প্রতিনিধিদল/ছবি-জাগো নিউজ

বন পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলবাসীর যাতায়াত সহজ করা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতের প্রসারে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন ‘ফাইলে বন্দি’ সিরাজগঞ্জ বিমানবন্দর

তিনি বলেন, চীনের বিনিয়োগকারী প্রতিনিধি দল বিমানবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেছে। বিমানবন্দরটি চালু হলে মোংলা বন্দর, সুন্দরবন এবং পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে এক অভূতপূর্ব গতি আসবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এবং আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর নির্মাণকাজ পুনরায় চালু হবে বলে আশা করছি।’

‘শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পটি অবহেলার শিকার হয়েছে। তবে চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তারা খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্পে অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দ্রুততম সময়ে বিমানবন্দরটি চালু করতে পারলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের মাত্রা আরও তরান্বিত হবে’, বলেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

এসআর/এএসএম