চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে নতুন করে আতঙ্কে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতালের বিভিন্ন ভবনের ছাদে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল, প্রতিনিয়ত খসে পড়ছে পলেস্তারা, সিমেন্ট ও ইটের সুরকি। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটছে রোগী, চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
Advertisement
সরেজমিনে হাসপাতালে দেখা গেছে, হাসপাতালের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার বিভিন্ন স্থানে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোথাও কোথাও রড পর্যন্ত বেরিয়ে এসেছে। ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো এড়িয়ে চলতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা। প্রয়োজনের তাগিদে এসব পথ ব্যবহার করলেও তাদের চোখ থাকে ছাদের দিকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক নোটিশ টানিয়ে রাখলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় আতঙ্ক কাটছে না।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটে জর্জরিত। এখানে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৪০টি হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৮ জন। কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১৯২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১১৬ জন। রয়েছে নার্স সংকট, নেই অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ফলে হাসপাতালে কোনো সিজারিয়ান অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া নেই অ্যাম্বুলেন্স, এক্স-রে মেশিনসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম।
আরও পড়ুন খসে পড়লো হাসপাতালের পলেস্তারা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন রোগীর স্বজনরাহাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মতলব উত্তর উপজেলার ইন্দুরিয়া গ্রামের ছানাউল্লাহ বলেন, মেয়েকে নিয়ে তিনদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। দ্বিতীয় তলা থেকে নামার সময় বারবার ছাদের দিকে তাকাতে হয়েছে। কারণ, ফাটল ধরা অংশ থেকে মাঝেমধ্যেই সিমেন্ট ও সুরকির বড় বড় টুকরা পড়ে। এভাবে আতঙ্ক নিয়ে হাসপাতালে থাকা যায় না।
Advertisement
মতলব বরদিয়া এলাকার রোগী শাহনাজ বেগম বলেন, মানুষ হাসপাতালে আসে সুস্থ হতে। কিন্তু এখানে থাকতে হচ্ছে ভয় নিয়ে। কখন মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়ে সেই দুশ্চিন্তা সব সময় কাজ করে।
হাসপাতালের ভবন দ্রুত সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের দাবি জানান তিনি।
রোগীর স্বজন ফারজানা বলেন, চিকিৎসকের কক্ষের সামনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার সময়ও তাদের দৃষ্টি বারবার ছাদের দিকে চলে যাচ্ছিল। কারণ, যেকোনো মুহূর্তে পলেস্তারা খসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রাজিব কিশোর বনিক বলেন, হাসপাতাল ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ থেকে পলেস্তারা, সিমেন্ট ও ইটের সুরকি খসে পড়ছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কীকরণ নোটিশ লাগানো হয়েছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি।
Advertisement
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম রায়হান বলেন, হাসপাতালের ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটও রয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম ইশমাম বলেন, হাসপাতালের ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ার বিষয়টি জানা আছে। দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শরীফুল ইসলাম/এসজেডএইচ/এএসএম