ইতালির জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ নিয়োগকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই পদত্যাগের কথা ভাবছেন কিংবদন্তি ডিফেন্ডার পাওলো মালদিনি।
Advertisement
ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম গাজ্জেত্তা দেল্লো স্পোর্ত জানিয়েছে, মালদিনির প্রথম পছন্দ আন্দ্রেয়া পিরলোকে জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিতে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন বাধা দিচ্ছে। আর এই কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে দায়িত্ব ছাড়ার কথা বিবেচনা করছেন তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদ্য নির্বাচিত ফেডারেশন সভাপতি জিওভান্নি মালাগো মালদিনিকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, নতুন কোচ নির্বাচনের বিষয়ে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এখন ফেডারেশনের ভেতর থেকেই তার সিদ্ধান্তে আপত্তি তোলা হচ্ছে, যা মালদিনির সঙ্গে নেতৃত্বের সম্পর্ককে টানাপোড়েনের মুখে ফেলেছে।
মালদিনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা লিওনার্দোকেও এই প্রক্রিয়ায় বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে এসি মিলান ছেড়ে যাওয়ার সময়ও নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা খর্ব হওয়ায় আপস না করে ক্লাব ছাড়েন মালদিনি। এবারও একই ধরনের অবস্থান নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Advertisement
পিরলোকে ঘিরে আপত্তির কারণ কী?পেপ গার্দিওলার 'না' বলার পর মালদিনি ও লিওনার্দো একমাত্র পছন্দ হিসেবে আন্দ্রেয়া পিরলোকেই বেছে নেন। এমনকি ২০৩০ সাল পর্যন্ত মেয়াদে বছরে ১৫ লাখ ইউরো বেতনের একটি চুক্তির খসড়াও প্রস্তুত ছিল।
বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইউনাইটেড এফসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ পিরলো ইতালির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
তবে ফেডারেশনের আপত্তির অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে রাশিয়ার বেটিং প্রতিষ্ঠান ফনবেট-এর বৈশ্বিক দূত হিসেবে পিরলোর সম্পৃক্ততা এবং ইউনাইটেড এফসির সভাপতি রুশ ধনকুবের সের্গেই লোমাকিনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। যদিও ফেডারেশনের ভেতরে অনেকেরই ধারণা, রাজনৈতিক এসব যুক্তি আসলে মালদিনির একক সিদ্ধান্তকে ঠেকানোর অজুহাত মাত্র।
স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠেছেএদিকে ইতালির আরেক সংবাদপত্র ইল কোরিয়েরে দেল্লা সেরা সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
Advertisement
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিরলোর বড় ছেলে নিকোলো একজন ফুটবল মধ্যস্থতাকারী ও স্কাউট হিসেবে কাজ করেন। অন্যদিকে মালদিনির ছেলে ক্রিশ্চিয়ানও একটি খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, যেটি আবার মালদিনির আরেক ছেলে দানিয়েল মালদিনির প্রতিনিধিত্ব করে।
যদিও দুজনের কেউই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইতালির মধ্যস্থতাকারীদের নিবন্ধনে নাম লেখাননি, তবুও বিষয়টি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সমালোচকদের মতে, এটি স্বার্থের সংঘাতের ইঙ্গিত হতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, মূল বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু এখনো পিরলোর নিয়োগ এবং মালদিনির সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা নিয়েই।
সব মিলিয়ে, পিরলোর নিয়োগ চূড়ান্তভাবে ভেস্তে গেলে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনে পাওলো মালদিনির অধ্যায় শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতে পারে।
এমএমআর