ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরকে শপথ পড়ানোর পর জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগদান থেকে বিরত রাখতে করা আপিল আবেদনের ওপর রায় আজ।
Advertisement
এই রায় ও আদেশের পর জানা যাবে সারোয়ার আলমগীর সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে পারবেন কি না।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চে এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করা হবে আজ।
এর আগে, সারোয়ার আলমগীরের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন ওই আসনের জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।
Advertisement
নুরুল আমীন হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চান এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীর যেন সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে না পারেন- এ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা চান।
আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ বিষয়ে রায়ের জন্য ২৮ জুলাই দিন ঠিক করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সোমবার (২৭ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই দিন ঠিক করেন।
আদালতে এদিন সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আহসানুল করিম এবং এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। মুহাম্মদ নুরুল আমীনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
এর আগে, সারোয়ার আলমগীরের সংসদে যেতে না যাওয়ার নির্দেশনা চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। নুরুল আমীনের করা ওই আবেদনে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীরের সংসদীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়।
Advertisement
রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচনে সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করার পর ঋণ খেলাপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুরুল আমীন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল করে।
ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার আলমগীর। গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের আদেশ স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে রুল জারি করেন। এরপর নুরুল আমীন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করলে ৩ ফেব্রুয়ারি আদালত লিভ মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন শেয়ারবাজার কারসাজির মামলা / সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ২৩ সেপ্টেম্বরগত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সারোয়ার আলমগীর বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। আদালতের নির্দেশনার কারণে ওই সময় তার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। পরে আপিলের শুনানি শেষে ১৬ জুন আপিল বিভাগ হাইকোর্টকে যত দ্রুত সম্ভব, সম্ভাব্য দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ৩ ফেব্রুয়ারির অন্তর্বর্তী আদেশ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বহাল রাখা হয়।
গত ৯ জুলাই হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেন। এই রায়ের পর ওইদিন গেজেট প্রকাশের পাশাপাশি সন্ধ্যায় সারোয়ার আলমগীরকে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ পড়ানো হয়। হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে ১৩ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন নুরুল আমীন।
আবেদনে বলা হয়, রায়ের লিখিত অনুলিপি প্রকাশের আগেই নির্বাচন কমিশন সারোয়ার আলমগীরকে সংসদ সদস্য হিসেবে গেজেট প্রকাশ করে এবং তাকে শপথ পড়ানো হয়।
এফএইচ/ইএ