ইবতেদায়ি শিক্ষক, মৌলভী ও ক্বারিদের ১৩তম গ্রেড দিতে সংশোধিত এমপিও নীতিমালার ফাইল প্রায় চার মাস শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগে আটকা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সংযুক্ত ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক ফোরাম।
Advertisement
ফাইলটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য শিক্ষামন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপও কামনা করেছে সংগঠনটির নেতারা। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর ‘তিন দিনের বেশি ফাইল আটকে রাখা যাবে না’ বলে দেওয়া ঘোষণার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন শিক্ষকরা।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানানো হয়। এতে সই করেছেন বাংলাদেশ সংযুক্ত ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শাহিন সিকদার।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা (মাদরাসা)-২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন ইবতেদায়ি শিক্ষক, ইবতেদায়ি মৌলভী ও ইবতেদায়ি ক্বারিরা সরকারি বিধি অনুযায়ী ১৩তম গ্রেড পাওয়ার পূর্ণ অধিকারী। যাদের ফাজিল, স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি রয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত।’
Advertisement
এতে আরও বলা হয়, গত ৭ এপ্রিল যোগ্য শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড দেওয়ার লক্ষ্যে তৈরি করা সংশোধনী ফাইল কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগে পাঠানো হয়। প্রায় চার মাস পার হলেও ফাইলটি এখনো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আটকে রয়েছে। এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত আদেশ জারি হয়নি।
আরও পড়ুন মাদরাসার ছাত্রীদের নিয়ে ফুটবল টিম গঠনের নির্দেশ ঘিরে বিতর্কশিক্ষক নেতারা বলেন, বর্তমানে দেশের ৮ হাজার ২২৯টি এমপিওভুক্ত মাদরাসার ইবতেদায়ি শাখায় প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থীর প্রাথমিক শিক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষক, মৌলভী ও ক্বারি। অথচ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্নাতক ডিগ্রিধারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেড পেলেও সমমানের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা একই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে তারা দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
ফোরামের নেতা শাহিন সিকদার বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী নিজেই নির্দেশনা দিয়েছিলেন, প্রশাসনিক গতিশীলতা নিশ্চিত করতে কোনো ফাইল তিন কার্যদিবসের বেশি কোনো দপ্তরে আটকে রাখা যাবে না। কিন্তু তাদের সংশোধনী ফাইলটি প্রায় চারমাস ধরে মন্ত্রণালয়ে পড়ে রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর ফাইলটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে যাবে, যেখানে আরও কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপেই যদি এমন দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়, তাহলে প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষকের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন আরও বিলম্বিত হবে।’
Advertisement
এএএইচ/এমকেআর