ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন) ও আসামিদের করা আপিল এবং জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়েছে।
Advertisement
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়েছে। প্রথম দিনের শুনানি শেষে ফের বুধবার (২৯ জুলাই) শুনানির জন্য দিন রেখেছেন আদালত।
আইনজীবীরা জানান, ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন নুসরাত হত্যা : ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের পেপারবুক প্রস্তুতআদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা।
Advertisement
ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। সে রায়ে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদরাসাছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।
আরও পড়ুন আসামিদের মুখে নুসরাত হত্যার ভয়াবহ বর্ণনাদেশে নারী শিশু নির্যাতনের কয়েকটি নির্মম ঘটনার প্রেক্ষাপটে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুধু নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল শুনানির জন্য গত ১০ জুন একটি বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। এই বেঞ্চে মামলা পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের নিয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বাধীন এই টিমের আইনজীবী সদস্যরা হলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক ও সৈয়দ ইজাজ কবির, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবা তাসনিম আখি, মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল, আশরাফুল আলম, রোহানী সিদ্দীকা ও আল-আমীন সিদ্দিকী।
Advertisement
বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। এই অনুমোদন শুনানির জন্য বিচারিক আদালতের রায়সহ মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে। এই ডেথ রেফারেন্সের সঙ্গে দণ্ডিত আসামির আপিল বা জেল থেকে করা আসামির আপিল শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।
এফএইচ/এমএমকে