গত ১০০ বছরে পৃথিবী থেকে ৯৩ শতাংশ বাঘ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। উনিশ শতকে বিশ্বের ৩৩টি দেশে প্রায় এক লাখ বাঘ থাকলেও বর্তমানে মাত্র আটটি দেশে চার হাজারের কাছাকাছি বাঘ টিকে আছে। তাই বাঘের আবাসস্থল সুন্দরবনকে রক্ষা করা না গেলে বাঘ সংরক্ষণও সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশকর্মীরা।
Advertisement
বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষ্যে বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে বাগেরহাটের মোংলার মিঠাখালী বাজারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), পশুর রিভার ওয়াটারকিপার, বাদাবন সংঘ এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের স্মারক সুন্দরবনের প্রধান অলংকার বাঘকে রক্ষা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বাঘের নিরাপদ আবাসস্থল সুন্দরবন সংরক্ষণ ছাড়া এ প্রাণীকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তারা জানান, ১৯৩০-এর দশকে পূর্ব বাংলার ১৭ জেলার মধ্যে ১১ জেলায় বুনো বাঘের অস্তিত্ব ছিল।
‘সুন্দরবন বাঁচাও, বাঘ বাঁচাও’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ধরা’র কেন্দ্রীয় নেতা ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার পরিবেশ যোদ্ধা মো. নূর আলম শেখ। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার।
Advertisement
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সমাজসেবক, ক্রীড়া সংগঠক ও রাজনীতিক শেখ রুস্তুম আলী, গোলাম রসুল, শাহ আলম শিপন, এম রেজাউল ইসলাম, পরিবেশকর্মী নাজমুল হক, জানে আলম বাবু, গীতিকার মোল্লা আল মামুন এবং ছাত্রনেতা মঈন গাজী ও আরাফাত দূর্জয়। এছাড়া বক্তব্য দেন পরিবেশযোদ্ধা মেহেদী হাসান।
আলোচনা সভার আগে চাঁদপাই ও মিঠাখালী বাজার এলাকায় একটি বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিকেল ৪টায় মিঠাখালী মাঠে বাঘ ও সুন্দরবন সংরক্ষণে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বাঘ মহড়া এবং একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হবে।
আবু হোসাইন সুমন/এসজেডএইচ/এএসএম
Advertisement