অবসরপ্রাপ্ত মেজর জাহিদুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হককে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
Advertisement
বুধবার (২৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। রাষ্টপক্ষে আজ শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
এর আগে তিনি মামলায় শহীদুল হকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আবেদন মঞ্জুর করেন এবং তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন আদালত। তারও আগে, ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটরের কাছে একটি আবেদন করেন জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী জেবুন্নাহার ইসলাম।
আবেদনে শহীদুল হক ছাড়াও তৎকালীন ডিবিপ্রধান মনিরুল ইসলাম, সিটিটিসি প্রধান আসাদুজ্জামান, তৎকালীন মিরপুর বিভাগের ডিসি মাসুদ আহমেদ, রূপনগর থানার তৎকালীন ওসি শহীদ আলমসহ রূপনগর থানার অজ্ঞাতনামা কয়েকজন পুলিশ সদস্যের নামে অভিযোগ করা হয়।
Advertisement
জেবুন্নাহার ইসলাম অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাত প্রায় ১০টার দিকে তাকে ও তার দুই শিশুসন্তানকে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান অভিযুক্তরা। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে ও তার স্বামীকে জঙ্গি হিসেবে স্বীকার করতে চাপ দেওয়া হয়। স্বীকারোক্তি না দিলে স্বামীর মতো পরিণতি হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। পরে অভিযুক্তদের একজন তার স্বামীকে তারাই হত্যা করেছে বলে জানান বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন শহীদুল হকের জব্দ হওয়া দুই বস্তায় ৪৮ আলামততার অভিযোগে, স্বামীকে হত্যার পর তাকে ও দুই সন্তানকে আয়নাঘরে চার মাস সাতদিন গুম করে রাখা হয়। দীর্ঘদিন কোনো স্বীকারোক্তি না পাওয়ায় বড় মেয়েকে আলাদা করে নিয়ে একটি জঙ্গিবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার দেখানো হয়। পরে তাকেও আশকোনার একটি বাসা থেকে উদ্ধার দেখিয়ে একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। দীর্ঘ চার বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেলেও ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট তার জামিন বাতিল করে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৩১ আগস্ট পুনরায় জামিনে মুক্তি পান তিনি।
এর আগে ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে পুলিশের কথিত ‘জঙ্গিবিরোধী’ অভিযানে নিহত হন জাহিদুল ইসলাম।
এফএইচ/এমআইএইচএস
Advertisement