দেশজুড়ে

বৃষ্টিতে গাছ মরে লোকসানের মুখে মরিচচাষিরা

ফরিদপুরের মধুখালীতে অতিবৃষ্টির কারণে মাঠের অধিকাংশ মরিচ গাছ পচে যাওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। এদিকে মরিচের সরবরাহে ঘাটতি হওয়ায় খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি দর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২০ টাকায়।

Advertisement

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফরিদপুর জেলায় মরিচ আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ১১২ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ হাজার ৭০৬ টন। তবে টানা বৃষ্টিতে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে মরিচের দাম বেড়ে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ প্রায় ৩শ’ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ফরিদপুর শহরের হাজি শরিয়তুল্লাহ বাজার, চকবাজার, টেপাখোলা বাজার, হেলি প্যাড বাজার ঘুরে গিয়ে দেখা যায়, প্রকারভেদে মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা পর্যন্ত। খুচরা ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বাজারে মরিচের সরবরাহ একেবারেই কমে গেছে। আর এর প্রভাব পড়েছে পণ্যটির বাজার দরে।

কৃষকদের দাবি, মাঠের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মধুখালী উপজেলার রায়পুর, জাহাপুর ও মেগচামী ইউনিয়নে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে মধুখালী এলাকার মরিচ চাষিরা জানিয়েছেন তাদের আর্থিক ক্ষতির কথা। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা সরকারি প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন।

Advertisement

আরও পড়ুন এক পদ নিয়ে এলজিইডির দুই প্রকৌশলীর কাড়াকাড়ি

উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মরিচ চাষি রোকনউজ্জামান জানান, অতিবৃষ্টিতে সব মরিচ গাছ মারা গেছে। এখন বাধ্য হয়ে ক্ষেত তুলে ফেলতে হচ্ছে। এতে আমাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।

বামুন্দি গ্রামের মরিচ চাষি ক্ষিতিশ বিশ্বাস বলেন, সার, বীজ ও কীটনাশকের বাড়তি দামের কারণে উৎপাদন খরচ আগেই বেড়েছিল। তার ওপর বৃষ্টিতে পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগের টাকাও উঠে আসছে না। যা খরচ করেছি, তার অর্ধেকও ওঠেনি। এখন সরকারি সহযোগিতা পেলে আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবো।

ফরিদপুর কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মানিক মজুমদার বলেন, মাঠে মরিচ নেই, কিন্তু বাজারে মরিচের দাম বাড়ছেই। আশঙ্কা করছি, কৃষকদের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা না মিললে আগামী মৌসুমে মরিচ চাষে আগ্রহ কমে যেতে পারে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি করছি।

মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব এলাহী বলেন, চলতি মৌসুমে মধুখালী উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচের আবাদ করা হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টিতে অধিকাংশ জমিতে পানি ওঠায় মরিচ গাছ পচে ও মারা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু কৃষককে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের আওতায় আনা হবে।

Advertisement

এন কে বি নয়ন/এনএইচআর/জেআইএম