অর্থনীতি

পিকেএসএফের জলবায়ু-সহনশীল উদ্যোগ, উপকৃত হবে আড়াই লাখের বেশি পরিবার

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশেষ প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।

Advertisement

‘গ্রোথ ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড নিউট্রিশন (গ্রিন)’ শীর্ষক এই প্রকল্পের আওতায় দেশের হাওর, উপকূল, বরেন্দ্র ও চরাঞ্চলের ২ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকায় পিকেএসএফ ভবন-১ এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছে পিকেএসএফ। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের।

আরও পড়ুন জলবায়ু-সহনশীল নগর উন্নয়নে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলো বাংলাদেশ

স্বাগত বক্তব্য দেন পিকেএসএফ’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আকন্দ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। প্রকল্পের ওপর একটি উপস্থাপনা দেন পিকেএসএফ’র উপ-মহাব্যবস্থাপক ও প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. হাবিবুর রহমান। এছাড়া পিকেএসএফ’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক একিউএম গোলাম মাওলা, মো. মশিয়ার রহমান এবং মুহম্মদ হাসান খালেদ পিকেএসএফ’র বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন।

Advertisement

২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী, নারী, যুব, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, সামাজিকভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এসব জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা উন্নয়ন, আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি এবং জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানো হবে প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য।

প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগী পরিবারগুলো জলবায়ু-সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা, সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার, টেকসই উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক সেবার সুযোগ পাবে। বিশেষ করে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ, অ্যাগ্রো-প্রসেসিং, মূল্য সংযোজনমূলক কার্যক্রম এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

আরও পড়ুন ‘দেশের প্রায় ২ কোটি প্রবীণ নাগরিক উপেক্ষিত’

পিকেএসএফ জানিয়েছে, প্রকল্পের মাধ্যমে নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, বাজারসংযোগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি উপকূলীয় নারীদের কুটির শিল্প, কৃষকদের ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা, হাওরাঞ্চলে প্রযুক্তিনির্ভর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং কৃষি বীমার মতো উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

এ প্রকল্পে মোট ২১১.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ) দেবে ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাকি অর্থ পিকেএসএফ ও সহযোগী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে জোগান দেওয়া হবে।

Advertisement

আরও পড়ুন পিকেএসএফের প্রশংসা বিশ্বব্যাংক কান্ট্রি ডিরেক্টরের

পিকেএসএফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বলেন, গ্রিন প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোগ খাতকে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল ফাইন্যান্সিং, এগ্রো-ইকোলজিক্যাল কৃষি, কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ, সৌরশক্তির ব্যবহার এবং সার্কুলার ইকোনমির প্রসারের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

আইএইচও/এমএমকে