চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা খালি কনটেইনার নন-বন্ডেড এলাকায় নেওয়ার অনুমতি চেয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার।
Advertisement
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক অর্থমন্ত্রীকে এ চিঠি দেন।
চিঠিতে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত গতিশীলতা আনতে শিপিং এজেন্ট ও মেইন লাইন অপারেটরদের জন্য নন-বন্ডেড এলাকায় খালি কনটেইনার সংরক্ষণের অনুমতি প্রদানে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ কার্যক্রম এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কিন্তু বর্তমানে খালি কনটেইনার সংরক্ষণজনিত প্রচণ্ড চাপের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের উৎপাদনশীলতা প্রত্যাশিত পর্যায়ে উন্নীত হচ্ছে না। বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী শিপিং লাইসেন্সের খালি কনটেইনার সংরক্ষণ করতে পারে না। ফলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বন্দর ও বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোতে খালি কনটেইনার জমা হওয়ার কারণে ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
Advertisement
বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যের কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতার কারণে বিপুলসংখ্যক খালি কনটেইনার দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করতে হয়। বিশেষ করে ২০ ফুট কনটেইনারের তুলনায় ৪০ ফুট কনটেইনারের চাহিদা বেশি থাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ২০ ফুট খালি কনটেইনার দীর্ঘ সময় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে।
এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অতিবৃষ্টি, শ্রমিক কর্মবিরতি কিংবা অন্যান্য অনাকাঙিক্ষত পরিস্থিতিতে কনটেইনার ডেলিভারি ব্যাহত হলে বন্দরের ওপর কনটেইনারের চাপ আরও বাড়ে এবং সার্বিক অপারেশনাল কার্যক্রম দারুনভাবে ব্যাহত হয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে উল্লেখ করে চেম্বারের পত্রে বলা হয়. শিপিং এজেন্ট ও মেইন লাইন অপারেটরদের লাইসেন্সের বাইরে নন-বন্ডেড এলাকায় খালি কনটেইনার সংরক্ষণের অনুমতি প্রদানের সুপারিশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর।
আরও পড়ুন চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিকায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ জানালেন প্রধানমন্ত্রীএছাড়া শিপিং এজেন্ট/এমএলওরা এ বিষয়ে অনুমতি প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পত্র দিয়েছেন। কিন্তু ওইসব পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে কি না চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বা' শিপিং এজেন্ট/এমএলওরা অবগত নন।
Advertisement
বিশ্বের বিভিন্ন সমুদ্রবন্দর এমনকি প্রতিবেশী দেশের বন্দরগুলোতেও এ ধরনের ব্যবস্থা বিদ্যমান। বাংলাদেশেও এরূপ অনুমোদন দেওয়া গেলে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিক লজিস্টিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এমডিআইএইচ/বিএ