অর্থনীতি

ব্যবসার প্রবৃদ্ধিতে রেগুলেটরি ব্যবস্থা সহজ করার তাগিদ

দেশে বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসার ফরমালাইজেশন এবং মাইক্রো, স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ (এমএসএমই)-এর প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

Advertisement

তারা মনে করেন ব্যবসা পরিচালনায় প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে দ্রুত অনুমোদন, সহজ লাইসেন্স ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করা গেলে দেশি-বিদেশি ইনভেস্টমেন্ট বাড়বে এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মাইক্রো, স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ (এমএসএমই)-এর জন্য সহায়ক বিজনেস এনভায়রনমেন্ট তৈরি এবং ব্যবসার আনুষ্ঠানিকীকরণে বাধা দূর করতে বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড), শিল্প মন্ত্রণালয় এবং ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও) যৌথভাবে এ জাতীয় পরামর্শ সভার আয়োজন করে। এ সভায় তারা এ বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন চামড়া শিল্পে ২ হাজার কোটি টাকার প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম, ঋণ পাবেন যারা

‘রেগুলেটরি প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও ফরমালাইজেশনের অনুকূল পরিবেশ’ শীর্ষক সভায় সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী ও গবেষকরা অংশ নেন। সভায় ব্যবসায়িক লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ডিরেগুলেশন অ্যাকশন প্ল্যান এবং এলডিসি উত্তরণের প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয় রেগুলেটরি রিফর্ম নিয়ে আলোচনা হয়।

Advertisement

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন নাসের খান বলেন, রেগুলেটরি ব্যবস্থার সহজীকরণ ব্যবসার ফরমালাইজেশন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে।

তিনি জানান, এসব সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য শিল্প, বস্ত্র, পাট ও বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে ডিরেগুলেশন অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়নের মাধ্যমে প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস)-কে আরও কার্যকর করা এবং ডিজিটাল সার্ভিস ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।

বিল্ড-এর চেয়ারম্যান আবুল কাসেম খান বলেন, বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও লাইসেন্স সম্পর্কে সহজ তথ্য দিতে প্রকাশিত বিজনেস লাইসেন্সিং গাইডবুকস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Advertisement

তিনি একটি সিঙ্গেল ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নম্বর, ওয়ান-স্টপ লাইসেন্সিং প্ল্যাটফর্ম, সমন্বিত ইউটিলিটি সংযোগ আবেদন ব্যবস্থা এবং সার্ভিস লেভেল অ্যাগ্রিমেন্ট (এসএলএ) চালুর প্রস্তাব দেন।

বিল্ড-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, অতিরিক্ত কমপ্লায়েন্সের কারণে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মসংস্থানের বড় অংশ তৈরি করলেও দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ অর্থনৈতিক ইউনিট এখনো ইনফরমাল সেক্টরে রয়েছে।

তিনি জানান, কিছু খাতে ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিপুলসংখ্যক লাইসেন্স ও নথিপত্র প্রয়োজন হয়। প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে ৩১টি পর্যন্ত লাইসেন্স, ২৩৫টির বেশি নথি এবং প্রায় ৬৫০ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। অন্যদিকে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে ৩০টি লাইসেন্স, ২০০টির বেশি নথি এবং প্রায় ৬০০ দিন সময় প্রয়োজন হয়।

এসব জটিলতা কমাতে বিল্ড একটি সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিঙ্গেল ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নম্বর, ওয়ান-স্টপ লাইসেন্সিং প্ল্যাটফর্ম এবং কয়েক বছরের জন্য লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থা। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে ব্যবসায়ীদের কমপ্লায়েন্স ব্যয় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব বলে জানানো হয়।

আইএলও প্রতিনিধি পিটার জুনিয়র বেলেন বলেন, দেশের প্রতি ১০ জন শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ৮ জন এখনো অনানুষ্ঠানিকভাবে কাজ করছেন। এলডিসি উত্তরণ ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের জন্য এসব শ্রমিককে ফরমাল কর্মসংস্থানের আওতায় আনা জরুরি।

সভায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা প্রতিনিধিরা বলেন, বিনিয়োগ আকর্ষণে শুধু আর্থিক সুবিধা নয়, বরং সহজ রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক, স্বচ্ছ নীতিমালা, দ্রুত অনুমোদন ব্যবস্থা এবং পূর্বানুমানযোগ্য বিজনেস এনভায়রনমেন্ট প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রেগুলেটরি রিফর্ম বাস্তবায়ন করা গেলে ব্যবসার খরচ কমবে, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং দেশি-বিদেশি ইনভেস্টমেন্ট বাড়ানোর মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।

আইএইচও/এমআরএম