পাহাড়ের চূড়ায় নিজের ট্রেকিং পোল বা লোহার দণ্ডে শরীর এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে যাওয়ার পরও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন এক যুবক। শরীরে রড গেঁথে থাকা অবস্থাতেই প্রায় ১০ মাইল পথ হেঁটে নিচে নেমে আসেন তিনি।
Advertisement
ডেভিড সিফাল্ডি নামে ৩২ বছর বয়সি ওই যুবক যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ে ওঠার সময় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মুখে পড়েন। গ্রানাইট পিক পাহাড়ে ওঠার সময় হঠাৎ পা পিছলে পড়ে যান তিনি। তখন তার ৪৪ ইঞ্চি লম্বা স্টিল-টিপড ট্রেকিং পোলটি তার বাম বগল দিয়ে ঢুকে পিঠ ভেদ করে বেরিয়ে যায়।
আরও পড়ুন আকাশে হঠাৎ বিশাল উল্কাপিণ্ড, ‘ভেবেছিলাম প্লেনে আগুন লেগেছে’সৌভাগ্যের বিষয় হলো, এই লোহার দণ্ডটি তার ফুসফুস কিংবা শরীরের কোনো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি করতে পারেনি। ডেভিড সিফাল্ডি পেশায় বিলিংসের একটি হাসপাতালের ক্ষত পরিচর্যা বিশেষজ্ঞ বা নার্স। তিনি নিজেই নিজের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন যে এই আঘাত প্রাণঘাতী নয়।
বন্ধুরা উদ্ধারের জন্য জরুরি সাহায্য চাইতে চাইলেও তিনি তাতে নিষেধ করেন। পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে নিজেদের পায়ে নিচে নেমে আসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বন্ধুদের তিনি জানান, আঘাত বুকের পেশির বাইরে রয়েছে। এরপর তারা স্যাটেলাইট ডিভাইসের মাধ্যমে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন।
Advertisement
বোল্ডার, বরফের মাঠ এবং অত্যন্ত এবড়োখেবড়ো পাহাড়ি পথ ধরে প্রায় ছয় ঘণ্টার রোমহর্ষক যাত্রা শুরু করেন তারা। ট্রেইলহেডে পৌঁছানোর সময় দেখা যায়, ডেভিড শরীরে সেই রড গেঁথে রেখেই প্রায় ১০ মাইল পথ হেঁটেছেন এবং প্রায় ৫ হাজার ফুট নিচে নেমে এসেছেন।
আরও পড়ুন ‘মরলে একসঙ্গে মরব’ / প্লেনের জানালা ভেঙে ছিটকে যাচ্ছিলেন স্বামী, পা ধরে বাঁচালেন স্ত্রীস্থানীয় উদ্ধারকারী দল জানায়, ডেভিড নিজ থেকে সাহায্য নিতে অস্বীকার করায় তারা আর জোর করেননি। গাড়ি চালিয়ে প্রথমে একটি স্থানীয় ক্লিনিকে এবং পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কাকতালীয়ভাবে সেটি সেই হাসপাতালই যেখানে তিনি নার্স হিসেবে কাজ করেন।
চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করে তার শরীর থেকে লোহার দণ্ডটি সফলভাবে অপসারণ করেন এবং তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। সুস্থ হয়ে মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই আবার নিজের কর্মস্থলে ফিরে গেছেন এই সাহসী যুবক।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকেএএ/
Advertisement