জাতীয়

হাফিজুল ইসলাম বাবু মূলত রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চাচ্ছেন, দাবি জনির

গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে মিরপুরের কাফরুল এলাকায় সশস্ত্র হামলায় যুবদল কর্মী ইউসুফ নিহত হন। এ ঘটনায় আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাফরুল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির দেওয়ান জনির দিকে অভিযোগ তোলেন কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু।

Advertisement

বাবু দাবি করেন, মূলত আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে তার প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশই এ হামলার মূল কারণ।

তবে এ ঘটনা সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন কাফরুল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির দেওয়ান জনি। তিনি বলেছেন, আমাকে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে মিথ্যা এবং বানোয়াট তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। তিনি (হাফিজুল ইসলাম বাবু) মূলত ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জনি।

Advertisement

আরও পড়ুন কাফরুলে দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবদল কর্মী নিহত

সাব্বির দেওয়ান জনি বলেন, সাম্প্রতিক একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কাফরুল থানা এলাকায়। সেখানে সন্ত্রাসী হামলায় যুবদল কর্মী ইউসুফ, একজন কাঁচামাল ব্যবসায়ী ও একজন পথচারী গুলিবিদ্ধ হন। এতে ইউসুফ মৃত্যুবরণ করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া চারজনসহ তাদের সহযোগীদের গ্রেফতার করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মলনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, কী কারণে কেন এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে।

তিনি বলেন, কিন্তু গতকাল কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেই সংবাদ সম্মেলনে আমার সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত আসামিদের কয়েকটি ছবি প্রদর্শন করেন। আমাকে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে মিথ্যা এবং বানোয়াট তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন কাফরুলে খুন / কাউন্সিলর প্রার্থী হতে চাওয়ায় মূল টার্গেট ছিলাম আমি, দাবি যুবদল নেতার

সাব্বির দেওয়ান জনি বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত নিষ্পত্তি না হওয়ার আগেই শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থের জন্য আমার নামটি ব্যবহার করে গতকাল সংবাদ সম্মেলনের মানে কি? এর মাধ্যমে আমার পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমি হাফিজুল ইসলাম বাবুসহ অন্য যারা আছে তাদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই, যদি আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই, আইন যদি তার নিজের গতিতে চলে, তাহলে কেন আমরা এই তদন্তকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার অপচেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, শুধু আমি না, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যে বা যারা জড়িত থাকুক সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি তদন্তের মাধ্যমে তার ইনফরমেশন পায় তাহলে সে আইনের আওতায় চলে যাবে এটাই বাস্তবতা। সংবাদ সম্মেলন করে মামলাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য যদি অন্য কারও নাম ব্যবহার করা সেক্ষেত্রে আমি মনে করি তিনি আসলে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইছেন না। তিনি মূলত ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চাচ্ছেন।

Advertisement

আরও পড়ুন কাফরুলে যুবদলকর্মী হত্যা / অভিযুক্ত ৪ জন সাবেক এমপির ঘনিষ্ঠ, একজনকে দেখা গেছে বিএনপির মিছিলে

ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জনি বলেন, আমি ২০১৫ সালে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলাম। বিএনপির দুঃসময়ে আমি ৫ হাজার ৮০০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান লাভ করি। ওই ওয়ার্ডে আমার জনপ্রিয়তা রয়েছে। এই ওয়ার্ডে ৮-১০ জন প্রার্থী। তাকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিলে আমার লাইন ক্লিয়ার হবে বা আমাকে সরিয়ে দিলে তার রাস্তা ক্লিয়ার হয়ে যাবে এমনাটা না। দল কাকে নমিনেশন দেবে সেটা দলই ঠিক করবে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে বাবু রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চাচ্ছেন। এই ঘটনার সঙ্গে হাফিজুল ইসলাম বাবু নিজেই জড়িত কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের সঙ্গে সাব্বির দেওয়ান জনির ছবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক একজন ব্যক্তির সঙ্গে অনেকেই ছবি তুলতে পারেন। এই ছবি দিয়ে প্রমাণ হয় না জড়িতরা আমার লোক। এ সময় কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুর সঙ্গেও হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের ছবি দেখান সাব্বির দেওয়ান জনি।

হাফিজুল ইসলাম বাবু আগের কয়েকটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বলেও দাবি করেন জনি।

কেআর/এমএমকে